চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা এবার ৭০-৮০ শতাংশ কমবে: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

মোঃ হাসানুর জামান বাবু, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম, মঙ্গলবার: চট্টগ্রাম মহানগরীর দীর্ঘদিনের অন্যতম প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা চলতি বছর ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।মঙ্গলবার টাইগারপাসস্থ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে বিভিন্ন সেবা সংস্থার সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।মেয়র বলেন, গত বছর খাল-নালা পরিষ্কার কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ জলাবদ্ধতা কমানো সম্ভব হয়েছিল। এ বছর সংশ্লিষ্ট সকল সেবা সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ নিশ্চিত করা গেলে তা ৭০ থেকে ৮০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে। তিনি জানান, নগরীতে প্রায় ১,৬০০ কিলোমিটার ড্রেন এবং অসংখ্য খাল রয়েছে, যা নিয়মিত পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ করার উদ্যোগ নিয়েছে চসিক। এছাড়া চসিকসহ বর্তমানে চারটি সংস্থা জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে এবং সময়মতো সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন সম্ভব হবে।সভায় সিডিএ’র চেয়ারম্যান মো. নুরুল করিম বলেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) বাস্তবায়িত জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পন্ন করেছে এবং অবশিষ্ট ৫ শতাংশ কাজ দ্রুত শেষ করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, মেয়রের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টায় চলতি বছরই জলাবদ্ধতা উল্লেখযোগ্য হারে—প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত—কমে আসবে। তিনি আরও জানান, প্রকল্পের আওতায় ৩৬টি খাল খনন কার্যক্রমের মধ্যে অধিকাংশের কাজ শেষ হলেও হিজড়া খাল ও জামালখান খালের কিছু অংশের কাজ এখনো বাকি রয়েছে, যা দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ভ্রাম্যমাণ হকারদের যত্রতত্র বর্জ্য নিক্ষেপকে অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে মেয়র বলেন যে, নালা ও খালগুলো পরিষ্কার করার পরও এই হকারদের কারণেই সেগুলো বারবার ময়লায় ভরে যাচ্ছে । তিনি উল্লেখ করেন যে, নিউ মার্কেট, স্টেশন রোড এবং চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় হকাররা ফলমূলের অবশিষ্টাংশ ও অন্যান্য বর্জ্য সরাসরি রাস্তায় বা নালায় ফেলছে, যা জলাবদ্ধতা সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মেয়র চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর (সিএমপি) সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন এবং পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের রাস্তার শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব নেওয়ার অনুরোধ জানান। কাউকে হাতেনাতে ময়লা ফেলতে দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ প্রশাসনকে বিশেষ নির্দেশ দেন । এছাড়া রাস্তার পাশে বালি, ইট ও নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখার কারণে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটদের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি।এসময় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি, ট্রাফিক-উত্তর) নেছার উদ্দীন আহমেদ পুলিশ ও সিটি কর্পোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেটরা যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে রাস্তা ও ফুটপাথ দখলমুক্ত করার প্রস্তাব দেন। পাহাড় ক্ষয় ও মাটি ধসে খাল ভরাট হওয়াকে আরেকটি বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে মেয়র বলেন, এ বিষয়ে প্রকৌশলী ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধান প্রয়োজন। পাহাড় কাটার বিষয়েও নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্ল্যাব ও ম্যানহোলের ঢাকনা স্থাপনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মেয়র বলেন, কোনো নাগরিক যেন দুর্ঘটনার শিকার না হন তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। বড় নালা ও খালের পাশে যেখানে সুরক্ষা দেয়াল নেই, সেখানে অস্থায়ী হলেও নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরির নির্দেশ দেন তিনি।পানি উন্নয়ন বোর্ডের চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়ে মেয়র বলেন, দক্ষিণ হালিশহর, বন্দরটিলা ও নয়ারহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় স্লুইস গেট নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে। বর্ষার আগে কাজ সম্পন্ন না হলে বিকল্প পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে জনগণ ভোগান্তির শিকার না হয়।পলিথিন দূষণ রোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, শুধু পলিথিন নিষিদ্ধ করলেই হবে না, এর বাস্তবসম্মত ও সহজলভ্য বিকল্প নিশ্চিত করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বাজারে বিকল্প পণ্য না থাকলে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে পাটজাত ব্যাগসহ পরিবেশবান্ধব বিকল্প উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।মেয়র আরও বলেন, পলিথিনের কারণে নগরীর খাল-নালা ও ড্রেন দ্রুত ভরাট হয়ে জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করছে, ফলে প্রতিবছর বিপুল অর্থ ব্যয় করেও স্থায়ী সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না। তাই পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। মেয়র আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দেশ্যে বলেন বর্ষার আগে প্রতিটি এলাকায় ভাঙা বা অনুপস্থিত স্ল্যাব ও ম্যানহোলের ঢাকনার তালিকা প্রস্তুত করে দ্রুত মেরামত সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি বড় নালা ও খালের পাশে যেখানে সুরক্ষা দেয়াল নেই, সেখানে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে বাঁশ বা অন্যান্য উপকরণ দিয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী নির্মাণ করতে হবে। মেয়র নিজেও প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে তদারকি করছেন উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরিদর্শন ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার নির্দেশ দেন।সভায় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন জলাবদ্ধতা নিরসনে নালা খাল থেকে পিডিবি, কর্ণফুলী গ্যাস ও ওয়াসাসহ বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তির স্থাপিত পিলার, দেয়াল, পাইপ অপসারণ জরুরি বলে মন্তব্য করেন এবং নবনির্মিত রাস্তা না কেটে চসিকের সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করার জন্য ওয়াসা’র প্রতিনিধিকে অনুরোধ জানান। এসময় চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, সিডিএ’র জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুহসিনুল হক, চসিকের প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম, পিডিবি’র তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী একেএম মামুনুল বাশরি, বন্দর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন সেবা সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ, চসিকের স্পেশাল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটবৃন্দ, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দ, বারইপাড়া খাল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক, মেয়রের জলাবদ্ধতা বিষয়ক উপদেষ্টা শাহরিয়ার খালেদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।




স্পেন সরকার পাঁচ লাখ অভিবাসীকে স্বীকৃতি দেবে

হাকিকুল ইসলাম খোকন

স্পেন সরকার দেশটিতে অবস্থানরত নথিহীন অভিবাসীদের জন্য একটি ‘সাধারণ ক্ষমা’ কর্মসূচি অনুমোদন দিয়েছে। এর আওতায় প্রায় পাঁচ লাখ নথিবিহীন অভিবাসী আইনি স্বীকৃতির জন্য আবেদন করতে পারবেন।খবর আইবিএননিউজ ।প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের নেতৃত্বাধীন সরকার গত মঙ্গলবার এই কর্মসূচির অনুমোদন দেয়। স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) থেকে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ।খবরটি দিয়েছে আল–জাজিরা।বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো স্পেনেও অভিবাসনবিরোধী মনোভাব বাড়ছে। এমন প্রেক্ষাপটে স্পেন সরকারের এই উদ্যোগ দেশটিকে একটি ব্যতিক্রমী অবস্থানে নিয়ে এসেছে।তবে সানচেজ সরকারের এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক বিরোধিতাও সৃষ্টি করেছে। বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি সরকারি কিছু কর্মকর্তার মধ্যেও অসন্তোষ দেখা গেছে। তাঁদের মতে, এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে।অভিবাসন আইন সংশোধনের জন্য ডিক্রি জারির মাধ্যমে দ্রুততার সঙ্গে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এতে আইনসভাকে পাশ কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে, যেখানে বর্তমান সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। এর আগে ‘সাধারণ ক্ষমা’ সংক্রান্ত একটি বিল আইনসভায় পাসের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল।নতুন কর্মসূচি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে পারলে নথিহীন অভিবাসীরা এক বছরের জন্য স্পেনে বসবাস ও কাজের অনুমতির আবেদন করতে পারবেন।স্পেনের অভিবাসনবিষয়ক মন্ত্রী এলমা সাইজ জানান, বৃহস্পতিবার থেকে অনলাইনে আবেদন শুরু হয়েছে এবং ২০ এপ্রিল থেকে সরাসরি আবেদন গ্রহণ করা হবে। এই প্রক্রিয়া চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত।আবেদনের জন্য কিছু শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। আবেদনকারীকে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারির আগে স্পেনে প্রবেশ করতে হবে এবং কমপক্ষে পাঁচ মাস বসবাসের প্রমাণ দেখাতে হবে। এছাড়া কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা যাবে না। যাঁদের আবেদন অনুমোদিত হবে, তাঁরা এক বছর পর স্থায়ী বসবাস ও অন্যান্য কাজের অনুমতির জন্য আবেদন করার যোগ্য বিবেচিত হবেন।স্পেনের জনসংখ্যায় বয়স্ক মানুষের হার বাড়ছে। প্রধানমন্ত্রী সানচেজ এই সমস্যার সমাধানে অভিবাসীদের সম্পৃক্ত করতে চান। তাঁর মতে, এই উদ্যোগ একটি ‘ন্যায়সংগত ও প্রয়োজনীয়’ পদক্ষেপ।তবে বিরোধী দল পিপলস পার্টির নেতা আলবার্তো নেজ ফেইহো এই উদ্যোগকে ‘অমানবিক, অন্যায্য, অনিরাপদ এবং অ-টেকসই’ বলে সমালোচনা করেছেন। যদিও এই মধ্য ডানপন্থী দলটি ক্ষমতায় থাকাকালে চলতি শতকের শুরুতে দুবার একই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছিল।সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এই কর্মসূচির আওতায় প্রায় পাঁচ লাখ নথিহীন অভিবাসী বৈধ হওয়ার সুযোগ পাবেন, যা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।স্পেনে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। গত মঙ্গলবার আল-জাজিরার এক ভিডিওতে বার্সেলোনায় বাংলাদেশিদের আনন্দ উদ্যাপন করতে দেখা যায়। বৈধতার সুযোগ পাওয়ায় তাঁরা প্রধানমন্ত্রী সানচেজকে ধন্যবাদ জানান।বাংলাদেশি অভিবাসী মুরুল ওয়াইদ আল-জাজিরাকে বলেন, এখানে কাজ নেই, থাকার জায়গা নেই—জীবন খুবই কঠিন। তাই বৈধ হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় সবাই এখন খুব খুশি।




সিটি কলেজে হামলার প্রতিবাদে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের স্মারকলিপি প্রদান

মোঃ হাসানুর জামান বাবু, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ শাখা।বুধবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে গিয়ে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ স্মারকলিপি প্রদান করেন। এ সময় কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের নেতৃত্বে মহানগর দক্ষিণ শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।স্মারকলিপিতে সিটি কলেজে সংঘটিত হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনা শিক্ষার পরিবেশকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে।নেতৃবৃন্দ দাবি করেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের দ্রুত শনাক্ত করে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি পুরো ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলার ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনের আওতায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধ সংঘটনের সাহস না পায়।একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলা ও নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।ছাত্রশিবিরের নেতারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতা প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করারও দাবি জানানো হয়।তারা বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জ্ঞানচর্চার নিরাপদ ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সব ধরনের সন্ত্রাস ও সহিংসতা বন্ধ করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তারা মত দেন।স্মারকলিপি প্রদানকালে সংগঠনটির মহানগর দক্ষিণ শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন এবং তারা সিটি কলেজে সংঘটিত হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।




সরিষাবাড়ীতে স্বাস্থ্য  বীমা দাবীর চেক হস্তান্তর ও গ্রাহক সমাবেশ অনুষ্ঠিত 

মাসুদ রানা জামালপুর প্রতিনিধি :

জামালপুরের বেস্ট লাইফ ইনসুরেন্সের  সরিষাবাড়ী দিকপাইত ব্রাঞ্চের আয়োজনে আজ ২২/০৪/২০২৬ইং বুধবার সকাল ১১:৩০টায় দিন ব্যপী স্বাস্থ্য বীমা দাবির চেক হস্তান্তর এবং অত্র ব্রাঞ্চের সকল গ্রাহকদের নিয়ে দিকনির্দেশ হালাল লাভে উপার্জন করে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বীর হওয়ার বিষয়ে ১২০ জন গ্রাহককে নিয়ে  সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দিকপাইত সরিষাবাড়ী ব্রাঞ্চের ইনচার্জ বেস্ট লাইফ ইনসুরেন্স পিএসি মোঃ মমিনুল ইসলাম মুন্না, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অফ ট্রেইনার বেস্ট লাইফ ইনসুরেন্স পিএলসি জনাব জামিল উদ্দিন মিন্টু, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এজেন্সী ডিরেক্টর বেস্ট লাইফ ইন্সুরেন্স পি এল সির আমিনুল ইসলাম হাসান, আরোও উপস্থিত ছিলেন অত্র ব্রাঞ্চের ইউনিট  ম্যানেজার  রেনোয়ারা বেগম,ইউনিট ম্যানেজার  মারুফা আক্তার, ইউনিট ম্যানেজার  আনিছুর রহমান, ইউনিট ম্যানেজার  হুমায়ুন কবির, ও সাংবাদিক কামরুল ইসলাম বিপুল। প্রধান অতিথি  স্বাস্থ্য  বীমা দাবির চেক বিতরনের মোছাঃ শিরিনা আক্তারকে ১৬৫৫০ ষোল হাজার পাঁচ শত টাকার চেক প্রদান ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়।




নরসিংদীর শিবপুরে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

আবুনাঈম রিপন :নরসিংদী প্রতিনিধি :

নরসিংদীর শিবপুরে পুষ্টি বৈষম্যের দিন শেষ,গড়বো স্বনির্ভর বাংলাদেশ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান এর আয়োজনে, শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২২ এপ্রিল ২০২৬ ইং রবিবার বেলা ১১টার সময় শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হলরুমে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোসতানসির বিল্লাহ এর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ ফারজানা ইয়াসমিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিবপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ কোহিনুর মিয়া,শিবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হারিছ রিকাবদার (কালামিয়া), শিবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহসিনা জান্নাত তোরণ,শিবপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কে এম আবু রায়হান,শিবপুর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক নূর উদ্দিন মোঃ আলমগীর,শিবপুর উপজেলা পরিষদ মসজিদ এর খতিব মুফতি শেখ আব্দুল কাইয়ুম প্রমুখ।