নরসিংদীতে মাসিক আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত

আবুনাঈমরিপন:নরসিংদী প্রতিনিধি :

নরসিংদী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ১০ইং মে,রবিবার সকালে,মাসিক আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন নরসিংদী জেলার সুযোগ্য জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ইসরাত জাহান কেয়া। উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী সদর-১ আসনের সংসদ সদস্য, খায়রুল কবির খোকন এবং নরসিংদী-৩ আসনের, সংসদ সদস্য,মনজুর এলাহী। সভায় জেলার বিগত মাসের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক পরিস্থিতি উপস্থাপন করা হয়, আগামী দিনগুলোতে নরসিংদী জেলা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় করণীয় নির্ধারণে উপস্থিত সবাই গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন। নরসিংদী জেলায় আইন-শৃঙ্খলা পরস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাদক, কিশোর-গ্যাং, চোরাচালান, বাল্যবিবাহ, মানবপাচার, খুন, রাহাজানি এবং অবৈধ দখল বাণিজ্যের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদান করার ব্যপারে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।




চুয়েটের প্রকৌশলী মকবুল হোসেনের ইশারায় সাংবাদিক পরিবার ভিটে মাটি ছাড়া

ক্রাইম রিপোর্টার মোঃ দেলোয়ার হোসেনের প্রতিবেদন:

পঞ্চগড় জেলা, আটোয়ারী থানাধীন মির্জাপুর ইউনিয়নের নলপুখুরী গ্রামের ফজলুর রহমান ও তার পরিবার প্রায় এক বছর ধরে তাদের বসবাসের বসত বাড়ি ভিটায় উঠতে পারছে না।অনুসন্ধানে জানা গেছে পরিবারটির প্রধান বাঁধা ফজলুর রহমানের আপন ভাতিজা চট্টগ্রামের সরকারি চুয়েটে ইঞ্জিনিয়ারিং প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকায় পরিবারটির উপর অমানবিক অত্যাচার ও নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে এবং পরিবারটি আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরেও কোন সুরাহা মেলেনি।শুধু অত্যাচার আর নির্যাতনেই নয় বিগত ৩০ বছর আগেই ফজলুর রহমানের বাপ-দাদার বসত ভিটা সহ আবাদী জমি, জাল জালিয়াতি করে লিখে নিয়েছে প্রকৌশলীর বাবা মশির উদ্দিন, সেই সাথে ফজলুর রহমানের ক্রয়কৃত-৫.৫ শতাংশ জমি যা পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তাও তারা জোর পূর্বক দখল করে উচ্ছেদ করে দিয়েছে।পরিবারটি দীর্ঘদিন খোলা আকাশের নিচে বসবাস করে কোথাও বিচার না পেয়ে বর্তমান আটোয়ারী ভাড়া বাসায় বসবাস করছে।অনুসন্ধানে জানা গেছে ফজলুর রহমানের দুই ছেলে ও দুই মেয়ে, এক ছেলে ঢাকায় কর্মরত রয়েছে আরেক ছেলে পঞ্চগড়ে কর্মরত রয়েছে, দুই মেয়ের এক মেয়ে দৈনিক আজকের বসুন্ধরা পত্রিকায় ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি হিসাবে দায়িত্ব রয়েছে আরেক মেয়ে এনজিওতে কর্মরত রয়েছে।ফজলুর রহমান একজন সাধারণ সাদামাটা মানুষ পেশায় ছোটখাটো গরুর ব্যবসায়ী তার ব্যবসায়ীর আনুমানিক ৫ লক্ষ টাকা ছিলো তা মকবুল গ্রুপ ছিনিয়ে নিয়ে পথে বসায় দিছে।ফজলুর রহমান বাধ্য হয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুস সামাদ আজাদের কাছে নালিশী বিচার চান পরিবর্তীতে চেয়ারম্যান নিজেই দুই পক্ষকে নিয়ে সালিশের জন্য একাধিকবার বসেন তবুও সুরাহা দিতে না পেরে তিনি নিজেই প্রত্যয়নপত্র ফজলুর রহমানের পক্ষে দিয়ে দেন।ফজলুর রহমান আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বিজ্ঞ আমলী আদালত-৫ আটোয়ারী, পঞ্চগড়ে শরণাপন্ন হয়ে মামলা দায়ের করেন, মামলা নং-১১৬/২০২৫ এবং মামলাটি তদন্তাধীন ছিলো প্রায়-৭ মাস ডিবি কার্যালয়ে তারপরেও তদন্ত রিপোর্ট পক্ষে না আসায় আবারো কোর্টে আপীল করে, ঠাকুরগাঁও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভিস্টিগেশন (পিবিআই) এর নিখুঁত পর্যালোচনায় আসামিদের অপরাধ এর ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৪২৭/৫০৬/১১৪ ধারায় সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে।ফজলুর রহমান জমিটির উপরে কেউ যেন বসবাস করতে না পারে এজন্য আবারো বিজ্ঞ আদালতে হাজির হয়ে মামলা করেন এম. আর -১৫১/২০২৫ এবং এই মামলার প্রেক্ষিতে তদন্ত দেন আটোয়ারী ভূমি অফিসে, সেই সাথে তদন্তের সত্যতা থাকায় বিজ্ঞ আদালত রায় প্রদান করেন, ১৮৯৮ এর ১৪৪/১৪৫ ধারায় উভয় পক্ষকে জমিতে স্ব স্ব অবস্থান বজায় রাখার নির্দেশ প্রদান করে।কিন্তু আসামিগণ এই রায় প্রত্যাখ্যান করে সব কিছু দখলে নিয়ে নেন, ফজলুর রহমান আবার নিরুপায় হয়ে বিজ্ঞ আমলী আদালতে হাজির হয়ে মামলা দায়ের করেন, মামলা নং-১০১/২০২৬ সি. আর এই মামলাটি বিজ্ঞ আদালত আটোয়ারী থানায় তদন্তের জন্য দায়িত্ব দিয়েছে।বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চলমান মামলার আসামি মোঃ মকবুল হোসেন চুয়েটের দায়িত্বরত প্রকৌশলী পদে থাকার পরেও আইনের প্রতি বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে যাচ্ছে।ফজলুর রহমানের ভিটে মাটি দখল ও নির্যাতনের বিষয় প্রকৌশলী মকবুল হোসেনকে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন উনার চাচা ফজলুর রহমানের কোন জমি নাই।




রাজশাহীতে লিচু বাগান পাহারার সময় যুবকের ওপর হামলা ও লুটপাট: নেপথ্যে দীর্ঘদিনের শত্রুতা

মোঃ মনোয়ার হোসেন, রাজশাহী প্রতিনিধি:

রাজশাহীর চন্দ্রিমা থানা এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে এক যুবক ও তার মায়ের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। লিজ নেওয়া লিচু বাগান পাহারা দেওয়ার সময় মো: মেহেদী হাসান বাপ্পি নামে এক যুবককে পরিকল্পিতভাবে হত্যার চেষ্টা চালায় একদল চিহ্নিত সন্ত্রাসী। এ সময় ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে হামলার শিকার হন তার মা নূরজাহান পারভীন। সন্ত্রাসীরা তাদের গুরুত্বর জখম করে কয়েক লক্ষ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন বাপ্পি তাদের লিচু বাগানে পাহারারত ছিলেন। পূর্ব শত্রুতার জেরে ৫ ভাইসহ একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাগানে প্রবেশ করে বাপ্পির ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে রক্তাক্ত জখম করা হয়। খবর পেয়ে মা নূরজাহান পারভীন ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাকেও লাঞ্ছিত ও মারধর করা হয়। হামলাকারীরা বাপ্পির কাছে থাকা ৩ লক্ষ টাকা এবং তার মায়ের গলা থেকে ১ ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।সোমবার (১১ মে) দুপুরে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেন, এই হামলাটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। দীর্ঘ ১৭ বছর আগে সংঘটিত সুমন হত্যা মামলার আসামিদের প্রত্যক্ষ ইন্ধন ও যোগসাজশে এই হামলা চালানো হয়েছে। বাপ্পির নানী কমেলা ওরফে কনা অভিযোগ করেন, ১৭ বছর আগে সুমনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হলেও তারা এখনো বিচার পাননি। আসামিরা জামিনে থেকে ক্রমাগত তাদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাপ্পিকে প্রাণে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে এই নতুন হামলা চালানো হয়েছে।বাপ্পীর উপর হামলাকারীরা হলেন, মো: মিঠুনমো: ইফতিখার, মো: সালাম, মো: খায়রুল,মো: আনোয়ারুল। চন্দ্রিমা থানায় নূরজাহান পারভীনের দেওয়া লিখিত অভিযোগে এসব নাম পাওয়া যায়। এছাড়া সুমন হত্যা মামলার অভিযুক্ত আক্তারুজ্জামান, আরিফ, শিমুল, পিনার, রাজিবসহ ১৮ জন আসামির পরোক্ষ মদদ থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।এই ঘটনায় চন্দ্রিমা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। হামলার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই শত্রুতা ও বারবার হামলার ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যেও উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিবারের একটাই দাবি—সুমন হত্যার বিচারসহ সাম্প্রতিক এই হামলার হোতাদের আইনের আওতায় আনা হোক।চন্দ্রিমা থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ তদন্ত করা হয়েছে। প্রকৃত দোষী বাপ্পী। যদি মামলা নিতে হয় তবে বাপ্পী’র বিরুদ্ধে নিতে হবে।