‘মাঠে থাকুক তরুণরা’ এই বার্তায় ফুটবল বিতরণ করল সাঘাটা উন্নয়ন সংস্থা SUS

মোঃ মেহেদী হাসান স্টাফ রিপোর্টারঃ

তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং সুস্থ, সচেতন ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝে ফুটবল বিতরণ করেছে সাঘাটা উন্নয়ন সংস্থা (SUS)।‘মাঠে থাকুক তরুণরা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সংগঠনের তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের হাতে ফুটবল তুলে দেন ফাহমিদুল ইসলাম মোল্লা রানা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্রী জয় চন্দ্র বিলাশসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ।অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণদের সুস্থ বিনোদন ও শারীরিক-মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম। খেলাধুলা শুধু শরীরচর্চার মাধ্যম নয়, এটি শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, সহমর্মিতা ও দলগত মনোভাব গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই তরুণদের মাঠমুখী করতে এবং সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদুল ইসলাম মোল্লা রানা বলেন, “তরুণদের মধ্যে ইতিবাচক চর্চা বৃদ্ধি এবং সুস্থ সমাজ গঠনে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরা সমাজের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি খেলাধুলার মাধ্যমেও নিজেদের বিকশিত করবে বলে আমরা আশা করি।”কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শ্রী জয় চন্দ্র বিলাশ বলেন, “যুবসমাজকে মাদক, অপরাধ ও বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার প্রসার জরুরি। সেই লক্ষ্য থেকেই আমাদের এই ক্ষুদ্র উদ্যোগ।”ফুটবল পেয়ে স্বেচ্ছাসেবকরা আনন্দ প্রকাশ করেন এবং নিয়মিত খেলাধুলার মাধ্যমে নিজেদের সুস্থ ও সক্রিয় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।




স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক মেরামত, জনদুর্ভোগ কমাতে সাঘাটা উন্নয়ন সংস্থা SUS-এর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

মো. মেহেদী হাসান, স্টাফ রিপোর্টারঃ

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে সামাজিক সংগঠন সাঘাটা উন্নয়ন সংস্থা (SUS)। জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে সংগঠনটির সদস্যরা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে রাস্তার মাঝখানে সৃষ্টি হওয়া গর্তগুলো ঢালাই করে সংস্কার কাজ সম্পন্ন করেছেন।সম্প্রতি আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও স্বেচ্ছাসেবকরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন সড়কে গর্ত ও ভাঙাচোরা অংশের কারণে পথচারী, শিক্ষার্থী, মোটরসাইকেল আরোহী এবং সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছিল। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এসব গর্তে পানি জমে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সাঘাটা উন্নয়ন সংস্থা SUS নিজস্ব উদ্যোগে সড়ক সংস্কারের এ কার্যক্রম হাতে নেয়।কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সাঘাটা উন্নয়ন সংস্থা SUS-এর নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদুল ইসলাম মোল্লা রানা, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শ্রী জয় চন্দ্র বিলাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান, কার্যনির্বাহী সদস্য শ্রী রিপন কুমার, সদস্য আহসান হাবীব ও নিরব মোল্লা।এছাড়াও জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মো. নিরব ইসলাম, মো. সোহেল রানা, শ্রী রনি কুমার দেব, মো. সাইমুন পারভেজ প্রান্ত, শ্রী অন্তর কুমার, মো. সীমান্ত ইসলাম, মো. সাব্বির ইসলাম ও মো. নিরব মণ্ডলসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও জনকল্যাণের অংশ হিসেবে SUS দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। এলাকার সাধারণ মানুষের সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখাই সংগঠনের অন্যতম লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।স্থানীয় বাসিন্দারা সংগঠনটির এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, সরকারি সংস্কার কার্যক্রমের অপেক্ষায় না থেকে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে সড়ক মেরামতের এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এতে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের চলাচল সহজ হবে, অন্যদিকে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও অনেকাংশে কমে আসবে।স্থানীয়দের মতে, সমাজের উন্নয়নে তরুণদের অংশগ্রহণ এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর এমন কার্যক্রম অন্যদেরও সামাজিক কাজে উদ্বুদ্ধ করবে। সাঘাটা উন্নয়ন সংস্থা SUS-এর এই উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।




দ্য থিওসোফিক্যাল সোসাইটি কুমিল্লা লজের বেদখলকৃত সম্পত্তি উদ্ধার ও ভবন সংস্কারের আশ্বাস প্রধান অতিথি এমপি মনিরুল হক চৌধুরীর

তাপস চন্দ্র সরকার, কুমিল্লা।

বিশ্বভ্রাতৃত্ব, মানবকল্যাণ, আধ্যাত্মিক জাগরণ এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির মহান আদর্শকে ধারণ করে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যদিয়ে উদযাপিত হয়েছে দ্য থিওসোফিক্যাল সোসাইটি কুমিল্লা লজের ১৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। “সত্যের চেয়ে উচ্চতর ধর্ম নেই”— এই কালজয়ী বাণীকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বক্তারা মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিক শিক্ষা, সহনশীলতা এবং সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন ২০২৬) বিকেল ৫টায় কুমিল্লা ক্লাব মিলনায়তনের ৫ম তলায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা, শুভেচ্ছা বিনিময়, সম্মাননা প্রদান এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্যদিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়। সোসাইটির সদস্য, শুভানুধ্যায়ী, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজনের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের সূচনা করা হয়। পরে অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে আলোচনা পর্ব শুরু হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা-৬ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি তাঁর বক্তব্যে দ্য থিওসোফিক্যাল সোসাইটি কুমিল্লা লজের দীর্ঘ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “দীর্ঘ ১৩৮ বছর ধরে মানবকল্যাণ, ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং নৈতিক চেতনা বিকাশে কাজ করে যাওয়া এ সংগঠনটি কেবল একটি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি মানবিক মূল্যবোধের এক গুরুত্বপূর্ণ ধারক ও বাহক। এর ঐতিহ্য ও সম্পদ রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।”লজের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, সোসাইটির বেদখলকৃত জমি ও সম্পত্তি উদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। একইসঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকা ভবনটি দ্রুত সংস্কার করে সদস্য ও দর্শনার্থীদের জন্য ব্যবহার উপযোগী করে তোলার আশ্বাস প্রদান করেন।এ সময় তিনি কুমিল্লার সামগ্রিক উন্নয়নের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করে বলেন, “ঢাকা-কুমিল্লা সরাসরি রেললাইন স্থাপন এবং কুমিল্লা বিমানবন্দর পুনরায় চালুর বিষয়টি সময়ের দাবি। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কুমিল্লার অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।”বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দ্য থিওসোফিক্যাল সোসাইটির প্রেসিডেন্সিয়াল রিপ্রেজেনটেটিভ ফর বাংলাদেশ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত চৌধুরী বলেন, বর্তমান বিশ্বে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা, বিভাজন ও অসহিষ্ণুতার প্রেক্ষাপটে থিওসোফিক্যাল সোসাইটির দর্শন আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, “জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও ভাষার ভেদাভেদ ভুলে মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠাই থিওসোফিক্যাল সোসাইটির মূল লক্ষ্য। মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ ছাড়া একটি শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল সমাজ গঠন সম্ভব নয়।” তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে থিওসোফিক্যাল সোসাইটি দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় সম্প্রীতি, নৈতিক শিক্ষা ও মানবিক চেতনা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা, আমেরিকা ইউনাইটেড রিলিজিয়ন্স ইনিশিয়েটিভ (URI)-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি, বিশিষ্ট ধর্মতত্ত্ব গবেষক ও গ্রন্থকার ড. মোহাম্মদ আবদুল হাই বলেন, থিওসোফিক্যাল সোসাইটি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় মতবাদের সংগঠন নয়; বরং এটি মানবতার কল্যাণে জ্ঞান, প্রজ্ঞা এবং আধ্যাত্মিক চর্চার এক আন্তর্জাতিক আন্দোলন। তিনি বলেন, “সত্যের অনুসন্ধান, আত্মশুদ্ধি এবং মানবসেবার মধ্যদিয়েই প্রকৃত আধ্যাত্মিক উন্নয়ন সম্ভব। নতুন প্রজন্মকে নৈতিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে পারলেই আমরা একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পারব।”এছাড়াও বক্তব্য রাখেন- কুমিল্লা বারের সিনিয়র এডভোকেট মো. গোলাম ফারুক, বিশিষ্ট নজরুল গবেষক ড. আলী হোসেন চৌধুরী এবং আবৃত্তিশিল্পী কাজী মাহতাব সুমন। বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে নৈতিক অবক্ষয় ও সামাজিক বিভাজনের প্রেক্ষাপটে থিওসোফিক্যাল সোসাইটির আদর্শ নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। মানবিক মূল্যবোধ, সহনশীলতা ও জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে সমাজকে আলোকিত করার ক্ষেত্রে এ ধরনের সংগঠনের ভূমিকা আরও সম্প্রসারণ করা জরুরি।আলোচনা সভার পূর্বে প্রধান অতিথি মনিরুল হক চৌধুরী এবং বিশেষ অতিথি সুব্রত চৌধুরী দ্য থিওসোফিক্যাল সোসাইটি কুমিল্লা লজ পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা লজের সার্বিক অবস্থা ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরিদর্শনকালে লজের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সম্পত্তি সংরক্ষণ, সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং নতুন প্রজন্মকে সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার বিষয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।সভায় আয়োজকরা জানান, মানবকল্যাণ, বিশ্বভ্রাতৃত্ব, আধ্যাত্মিক উন্নয়ন এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির আদর্শ প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে দ্য থিওসোফিক্যাল সোসাইটি গত ১৩৮ বছর ধরে বিশ্বব্যাপী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জ্ঞানচর্চা, নৈতিক শিক্ষা, আন্তঃধর্মীয় সংলাপ এবং মানবিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সংগঠনটি বিশ্বব্যাপী শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে। কুমিল্লা লজও দীর্ঘদিন ধরে এ আদর্শ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ আয়োজন সংগঠনের সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর পরিসরে মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।আলোচনা সভা শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংগীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। এ সময় উপস্থিত অতিথি ও সুধীজনরা দ্য থিওসোফিক্যাল সোসাইটি কুমিল্লা লজের উত্তরোত্তর সাফল্য, সমৃদ্ধি এবং মানবতার কল্যাণে এর কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। ১৩৮ বছরের ঐতিহ্য, সত্যের অনুসন্ধান, মানবতার সেবা এবং বিশ্বভ্রাতৃত্বের অঙ্গীকার নিয়ে এগিয়ে চলা দ্য থিওসোফিক্যাল সোসাইটি কুমিল্লা লজের এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কেবল একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান ছিল না; বরং এটি ছিল মানবিক মূল্যবোধ, সম্প্রীতি, জ্ঞানচর্চা ও আধ্যাত্মিক চেতনার এক অনন্য মিলনমেলা।




খেলাধূলা শুধু বিনোদন নয়,তরুণ প্রজন্মকে মাদকমুক্ত সুশৃঙ্খল জীবনে ফিরিয়ে আনার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। পটিয়ায় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী- আমিনুল

মোঃ হাসানুর জামান বাবু, চট্টগ্রাম।

চট্টগ্রামের পটিয়া মিনি স্টেডিয়ামের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধনে জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন,দেশের প্রতিটি জেলা,উপজেলায় ও গ্রাম পর্যায়ে খেলাধুলার বিকল্প নাই। ৫ জুন, শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের জলুর দিঘীরপাড় এলাকায় মিনি স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধনে প্রধান অতিথি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক আরো বলেন, দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তুলতে তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার চর্চা রাখতে হবে।খেলাধুলার উন্নয়নে বর্তমান সরকার আন্তরিক। বাংলাদেশে তরুণদের ক্রীড়ামেধার-সম্ভাবনাকে বিকশিত করতে খেলাধুলাকে গুরুত্ব দিতে হবে। তাই সরকার দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাঠ, স্টেডিয়াম ও ক্রীড়া অবকাঠামো নির্মাণে গুরুত্ব দিচ্ছে। তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিভাবান খেলোয়াড় বের করে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পটিয়ার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া খাতের উন্নয়নের ধারাবাহিক ভাবে কাজ করা হবে। খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি একটি জাতিকে সুস্থ,শৃঙ্খলাবদ্ধ ও মাদকমুক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তরুণ সমাজকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে পারলে দেশের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে। এ সময় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন, পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম বলেন, পটিয়ায় ক্রীড়াঙ্গনের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ স্টেডিয়াম বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় খেলোয়াড়রা আধুনিক সুযোগ-সুবিধায় অনুশীলনের সুযোগ পাবেন। এবং নতুন প্রতিভা বিকাশের ক্ষেত্র তৈরি হবে। পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির আহ্বায়ক ফারহানুর রহমান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন,জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক(যুগ্ম সচিব) মোহাম্মদ দৌলতুজ্জমান খাঁন,পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো জিয়াউল হক জিয়া, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম, ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মঈনুল আলম ছোটন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সাবেক চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম সহ মহানগর, জেলা,স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, ক্রীড়া সংগঠকসহ ক্রীড়াপ্রেমীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ক্রীড়াপ্রেমীরা বলেন, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এ মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ সম্পন্ন হলে পটিয়ার তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধা নিশ্চিত হবে। স্থানীয় আঞ্চলিক পর্যায়ে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সুযোগ পাবেন ক্রীড়াপ্রেমীরা।




পবিত্র গাদিরে খুম ঈমানী ঘোষণার শোকরিয়া সমাবেশ ও সালাতু সালাম মাহফিল অনুষ্ঠিত।-

মঈনউদ্দিন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি।

পবিত্র আহলে রাসুল বিরোধী ও ইসলামের খেলাফত উৎখাতকারি মোয়াবিয়া এজিদ চক্রের অনুসারী খারেজি কুফরি ধারা ও বাতিল শিয়াবাদি কুফরি ধারা থেকে ঈমানী অস্তিত্ব ও ইসলামের আসল ধারা সুরক্ষায় এবং হকের অবলম্বন ও দিকনির্দেশনা দানের শোকরিয়া উদযাপন উপলক্ষেঐতিহাসিক গাদিরে খুম ঈমানী ঘোষণার শোকরিয়া দিবস চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ, হাজীপাড়ায় শোকরিয়া সমাবেশ ও সালাতু সালাম মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।সমাবেশে প্রধাম মেহমান ও বিশেষ মোনাজাত করেন বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের উপদেষ্টা, শায়খুল হাদিস আল্লামা সৈয়দ সাইফুর রহমান নিজামী শাহ। সভাপতিত্ব করেন বিশ্ব সুন্নী আন্দোলন ও ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা ইমাম হায়াত। এতে বক্তব্য রাখেন আল্লামা এমদাদুল হক সায়ীফ, আল্লামা হাফেজ ইলিয়াস শাহ, আল্লামা শেখ নঈম উদ্দিন, আল্লামা মুফতি রেজাউল কাওছার এবং সাবিনা সাদাত সাফাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।বক্তারা বলেন, পবিত্র গাদিরে খুম মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তাদের ভাষ্যমতে, দশম হিজরির ১৮ জিলহজে বিদায় হজ থেকে ফেরার পথে গাদিরে খুম নামক স্থানে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) লক্ষাধিক সাহাবায়ে কেরামের সমাবেশে এক ঐতিহাসিক ঘোষণা প্রদান করেন, যা ইসলামের নেতৃত্ব, হেদায়েত ও ঈমানি আদর্শের ক্ষেত্রে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।সভাপতির বক্তব্যে আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, গাদিরে খুমের ঘোষণার মাধ্যমে হযরত আলী (আ.)-কে ‘মাওলা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং আহলে রাসূল (আ.)-এর প্রতি ভালোবাসা, অনুসরণ ও আনুগত্যকে ঈমানি দায়িত্ব হিসেবে তুলে ধরা হয়। তিনি বলেন, আহলে বাইতের আদর্শ মানবজাতির জন্য ন্যায়, সত্য ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার পথনির্দেশনা প্রদান করে।আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, আল্লাহতাআলার হাবীব প্রাণাধিক প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাহ্যিক শেষ বিশেষ হজ্ব থেকে মক্কাতুল মুকাররামা থেকে পবিত্র মদীনাতুল মুনাওয়ারার পথে গাদিরে খুম নামক স্থানে দশম হিজরী ১৮ ই জিলহজ্ব কোরআনুল করীমের শেষ আয়াত শরীফ নাজিলের পূর্বক্ষণে লক্ষাধিক সাহাবায়ে কেরামের ঐতিহাসিক মহাসমাবেশে আল্লাহতাআলার ইচ্ছাক্রমে কেয়ামত পর্যন্ত সকল মুমিনের ঈমান রক্ষা ও ইসলামরে সুরক্ষায় এবং সমগ্র মানবমন্ডলীর জন্য অনুসরনীয় দিকনির্দেশনায় এক মহাগুরুত্বপূর্ন ঐতিহাসিক ঘোষণা দান করেন। সে ঈমানী নীতিনির্ধারনী ঘোষণা মোবারক হলো মাওলা আলী আলাইহিস সালামকে সর্বোচ্চ খলিফাতুর রাসুল ও তাওহীদ রেসালাতের পর ইসলামের সর্বোচ্চ অথরিটি সকল মুমিনের প্রধান মাওলা মাওলায়ে আলা ঘোষণা তথা নুরে রেসালাত পবিত্র আহলে রাসুল আলাইহিমুস সালামকে সকল মুমিনের জন্য ঈমানের কেন্দ্র ও হকের মাপকাঠি এবং ইসলামের সর্বোচ্চ অনুসরনীয় আদর্শ হিসাবে ঘোষণা দান ।তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ঈমানি চেতনা ও নৈতিক পুনর্জাগরণের জন্য গাদিরে খুমের শিক্ষা ও তাৎপর্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন।গাদিরে খুমে মাওলায়ে আলাকে খলিফাতুর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সমগ্র উম্মতের মধ্যে সর্বোচ্চ মাওলা ঘোষণার শোকরিয়া দিবসে আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, বাতেল শিয়াবাদি চক্রান্ত ও মোয়াবিয়াবাদি খারেজি কুফরীয়াত এবং সব বাতিলের মুলুকিয়ত থেকে ঈমান দ্বীন মিল্লাত রক্ষায় নুরে রেসালাত প্রাণপ্রিয় আহলে রাসুল কেন্দ্রীক আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের পূণরুজ্জীবনে ওয়ার্ল্ড সুন্নী মুভমেন্ট ও খেলাফতে ইনসানিয়াত বিপ্লবে শরিক থাকুন।সমাবেশ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও সালাতু সালাম অনুষ্ঠিত হয়।শেখ রায়হান রাহবারমহাসচিব, বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশমোবাইলঃ ০১৭৮৬ ২৭ ২৮ ২৯