মানবিক আবেদনকে পুঁজি করে প্রতারণা: প্রসূতি মা ও অনাগত যমজ সন্তানের জীবন বাঁচানোর আকুতির সুযোগে অর্থ আত্মসাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

একজন মৃত্যুপথযাত্রী অন্তঃসত্ত্বা মা এবং তাঁর গর্ভের অনাগত যমজ সন্তানের জীবন বাঁচানোর আকুতি—যেখানে মানুষের হৃদয় নরম হওয়ার কথা, সেখানে সেই মানবিক আবেদনকেই পুঁজি করে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে এক দুর্বৃত্ত। মাত্র ৫০০ টাকার জন্য নয়, মানবতা ও বিবেককে প্রশ্নবিদ্ধ করা এমন একটি ঘটনা ঘটেছে কুমিল্লায়।জানা গেছে, কুমিল্লা সদর উপজেলার কালিয়াজুরী এলাকার বাসিন্দা আইনজীবী ও সাংবাদিক তাপস চন্দ্র সরকার তাঁর কাকী শাশুড়ি শ্রীমতি বন্ধনা রানী মজুমদারের জন্য জরুরি ভিত্তিতে A- নেগেটিভ রক্তের সন্ধান করছিলেন। যমজ সন্তানসম্ভবা ওই নারী গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর এবং গর্ভের দুই অনাগত সন্তানের জীবন রক্ষায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ফেসবুক ও বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে মানবিক আবেদন জানানো হয়।এমন সময় শনিবার (১ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে ০১৬২০-৬৬২৯৬০ নম্বর থেকে এক ব্যক্তি ফোন করে নিজেকে চান্দিনা এলাকার একজন ছাত্র হিসেবে পরিচয় দেয়। সে জানায়, রক্ত দিতে তার কোনো আপত্তি নেই; তবে হাসপাতালে আসার মতো গাড়ি ভাড়ার টাকা তার কাছে নেই।একজন অসহায় মায়ের জীবন বাঁচানোর তাড়নায় এবং মানবিক বিশ্বাস থেকে তাপস চন্দ্র সরকার প্রথমে বিকাশের মাধ্যমে ২১০ টাকা পাঠান। কিছুক্ষণ পর ওই ব্যক্তি আবার ফোন করে জানায়, বিকাশ থেকে ৫০০ টাকার কম উত্তোলন করা যায় না। তাই আরও ৩০০ টাকা পাঠাতে হবে। জীবন বাঁচানোর আশায় তিনি দ্বিতীয় দফায় আরও ৩০০ টাকা পাঠিয়ে দেন।কিন্তু টাকা পাওয়ার পরপরই বদলে যায় চিত্র। অভিযুক্ত ব্যক্তি সঙ্গে সঙ্গে তার নম্বর ব্লক করে দেয়। পরে অন্য একটি নম্বর থেকে যোগাযোগের চেষ্টা করলে কণ্ঠস্বর চিনে সেই নম্বরটিও ব্লক করে দেয়। তখনই স্পষ্ট হয়ে ওঠে—রক্ত দেওয়ার নামে মানবিক আবেগকে ব্যবহার করে পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রতারণা করা হয়েছে।পরবর্তীতে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন ডিএসবি কর্মকর্তাকে জানানো হলে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বরের বিভিন্ন প্রযুক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। প্রাপ্ত তথ্যে সর্বশেষ কলের অবস্থান ঢাকার রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) এলাকার আশপাশে শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মোবাইলের আইএমইআই, আইএমএসআইসহ প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত তথ্যও সংরক্ষণ করা হয়েছে, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।এ বিষয়ে ভুক্তভোগী এডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার বলেন, এটি কেবল ৫০০ টাকা প্রতারণার ঘটনা নয়; বরং একজন মৃত্যুপথযাত্রী গর্ভবতী মা ও তাঁর অনাগত যমজ সন্তানের জীবন রক্ষার আর্তিকে প্রতারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার মতো জঘন্য ও অমানবিক অপরাধ। এমন কর্মকাণ্ড সমাজে মানবিক সহায়তার সংস্কৃতিকেই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার, আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।এদিকে, সমাজসচেতন মহল বলছেন, মানবিক বিপর্যয়ের মুহূর্তে প্রতারণার এমন ঘটনা শুধু একটি পরিবারের সঙ্গে প্রতারণা নয়; এটি মানুষের পারস্পরিক বিশ্বাস ও মানবিকতার ভিত্তিকেই দুর্বল করে দেয়। তাই এ ধরনের অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।




কটিয়াদীতে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের তৎপরতা জোরদার, ওসিকে ঘিরে অপপ্রচারের অভিযোগ

ফরহাদ হোসেন রাজ কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান ঘিরে স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা চলছে। বিশেষ করে মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারের পর কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রফিকুল ইসলামকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নানা ধরনের বক্তব্য ও প্রচারণা ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে।গত ৪ এপ্রিল ২০২৬ কটিয়াদী মডেল থানায় ওসি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মাদক, চুরি, ছিনতাই, জুয়া ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে বলে জানা গেছে। এসব অভিযানে বিভিন্ন সময় মাদকদ্রব্য, নগদ টাকা, দেশীয় অস্ত্রসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধারের পাশাপাশি একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়।মাদকবিরোধী তৎপরতায় বাড়ছে চাপস্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, কটিয়াদীতে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার হওয়ায় অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে চাপ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশের কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা চালানোর অভিযোগও উঠেছে।সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করে তদন্তের দাবি জানানো যেতে পারে। তবে কোনো অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মে একতরফাভাবে প্রচার করা হলে তাতে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।তবে ওসি রফিকুল ইসলামকে ঘিরে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জড়িত—এমন দাবি করার সুযোগ নেই।অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানপুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কটিয়াদী মডেল থানার আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবার ও অন্যান্য অপরাধের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অপরাধীদের শনাক্ত করার পাশাপাশি মাদক সরবরাহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত নেটওয়ার্ক সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।সচেতন নাগরিকদের মতে, একটি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের নিয়মিত অভিযান গুরুত্বপূর্ণ। তবে একই সঙ্গে পুলিশের প্রতিটি কার্যক্রম হতে হবে আইনানুগ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি।অভিযোগ থাকলে তদন্তের দাবিসংশ্লিষ্টদের মতে, পুলিশ বা কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়াই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেমন প্রয়োজন, তেমনি ভিত্তিহীন অভিযোগের বিষয়টিও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া দরকার।কারণ, প্রমাণ ছাড়া গুরুতর অভিযোগ ছড়িয়ে দেওয়া যেমন অনাকাঙ্ক্ষিত, তেমনি পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা সুনির্দিষ্ট অভিযোগকে তদন্ত ছাড়া উপেক্ষা করাও সমীচীন নয়।মাদকমুক্ত কটিয়াদীর প্রত্যাশামাদক একটি পরিবার থেকে শুরু করে পুরো সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লে শিক্ষা, পারিবারিক পরিবেশ ও সামাজিক নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।এ কারণে কটিয়াদীতে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।তাদের ভাষ্য, অপরাধী যেই হোক, তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তিকে ব্যক্তিগত বিরোধ বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার ভিত্তিতে হয়রানি করা থেকেও বিরত থাকতে হবে।ওসির বক্তব্যকটিয়াদী মডেল থানার ওসি মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, মাদক, সন্ত্রাস ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করছে। অপরাধ দমনে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও প্রয়োজন। মাদক বা অপরাধ সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।আইনসম্মত অভিযান অব্যাহত রাখার প্রত্যাশাস্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা, কটিয়াদীতে মাদকবিরোধী অভিযান কোনো ধরনের চাপ, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা কিংবা স্বার্থান্বেষী তৎপরতায় যেন বাধাগ্রস্ত না হয়। একই সঙ্গে পুলিশের কার্যক্রমেও স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত থাকবে।তাদের মতে, অভিযোগের নিষ্পত্তি হবে তদন্তের মাধ্যমে, প্রচারণার মাধ্যমে নয়। অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নিতে হবে, আবার নির্দোষ কাউকে হয়রানি থেকেও সুরক্ষা দিতে হবে।কটিয়াদীবাসীর প্রত্যাশা, মাদক ও অপরাধ দমনে পুলিশের চলমান কার্যক্রম আরও জোরদার হবে এবং আইন ও প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি কোনো অভিযোগ থাকলে সেটিও যথাযথ প্রক্রিয়ায় তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে।




নরসিংদীর মনোহরদীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধে লাঠির আঘাতে একজন নিহত

আবুনাঈম রিপন :নরসিংদী প্রতিনিধি।।

নরসিংদীর মনোহরদীতে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে রাস্তার গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ নেতার ছেলের লাঠির আঘাতে মিজান মিয়া নামের স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতা নিহত হয়েছেন। শনিবার (০১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার বড়চাপা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বড়চাপা পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।নিহত মিজান মিয়া (৪০) বড়চাপা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড বড়চাপা পূর্বপাড়ার সফুর উদ্দিনের ছেলে। তিনি ৪ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ছিলেন।অভিযুক্তের নাম জীবন। তিনি একই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহর (৬৫) ছেলে।নিহতের স্বজনরা জানান, বাড়ির পাশের একটি রাস্তা নিয়ে মিজান ও চাচা শহীদুল্লাহর মধ্যে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ হলেও শহীদুল্লাহ তা মেনে নেয়নি। শনিবার দুপুরে রাস্তায় থাকা একটি গাছ মিজান কাটতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। এসময় শহীদুল্লাহর ছেলে জীবন লাঠি নিয়ে এসে মিজানের মাথায় আঘাত করে। এতে মিজান মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে উদ্ধার করে মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক খন্দকার আনিসুর রহমান বলেন, দুপুরে মিজানকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। মৃত্যুর কারণ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর বলা যাবে।মনোহরদী থানার ওসি জাহাঙ্গীর বাদশা বলেন, চাচা-ভাতিজার জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মরদেহ সুরতহাল করে নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তুতি চলছে।




সাউথ এশিয়ান প্যারেড ৯ আগস্ট জ‍্যাকসন হাইটসে

হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজঃ

নিউইয়র্কে বহুজাতিক সমাজে বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশিয়ানদের অবস্থান জোরালোভাবে উপস্থাপনের অভিপ্রায়ে ৯ আগস্ট ‘সাউথ এশিয়ান ইউনিটি প্যারেড’ অনুষ্ঠিত হবে। জ্যাকসন হাইটসে ৬৯ স্ট্রিট থেকে শুরু হয়ে ৩৭ এভিনিউ ধরে যাবে প্যারেড। এ উপলক্ষে চলমান প্রস্তুতি আলোকে গত ২২ জুলাই এক সভা অনুষ্ঠিত হয় জ্যাকসন হাইটসে রেস্টুরেন্ট ‘নবান্ন পার্টি’ হলে। এতে সর্বশেষ পরিস্থিতি আলোকপাত করেন হোস্ট বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী এবং কমিউনিটি লিডার শাহ শহিদুল ইসলাম সাঈদ।খবর আইবিএননিউজ ।সোসাইটির বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ, বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টর নুরুল আজিম, ময়নুজ্জামান চৌধুরী, আব্দুর রহিম হাওলাদার, জাহাঙ্গির জয়, হাসান জিলানী, মিয়া মো. দুলাল, হুমায়ূন কবীর ঢালি, নুরুজ্জামান সর্দার, আকতার হোসেন, শওকত আকবর রীচি, রীনা আবেদিন, জাহাঙ্গির সোহরাওয়ার্দি, মাকসুদ চৌধুরী প্রমুখ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্যারেডকে সফল করার অঙ্গিকার করেন। তারা সকলেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে কমিউনিটির সামাজিক-সাংস্কৃতিক-পেশাজীবী সংগঠনকে প্যারেডে যোগদানে উৎসাহিত করতে এখন থেকেই মাঠে নামবেন বলে উল্লেখ করেন।এ সময় জানানো হয় যে, প্যারেডে সিটি, স্টেট ও জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশ ও প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পীরা মনোজ্ঞ পরিবেশনায় থাকবেন বলেও জানানো হয়।




পলাশবাড়ীতে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীর পেট মুচড়ে ও বেঞ্চে শুইয়ে নির্যাতনের অভিযোগ শিক্ষক মিথুনের বিরুদ্ধে

আশরাফুজ্জামান গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ-

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পড়া না পারায় প্রথম শ্রেণির এক কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সহকারী শিক্ষক মাহাফুজার রহমান মিথুনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি শিক্ষার্থীর পেট মুচড়ে ধরাসহ শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চে শুইয়ে নির্যাতন চালান।রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের পূর্ব গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মাহাফুজার রহমান মিথুন ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে কর্মরত রয়েছেন।ঘটনার খবর পেয়ে সংবাদকর্মীরা বিদ্যালয়টির অদূরে ভুক্তভোগী শিশুটির বাড়িতে গেলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সে জানায়, “পড়া না পারলে মিথুন স্যার সব সময় এভাবে পেট মুচড়ে ধরে কষ্ট দেন। আজ দুপুর একটার দিকে পড়া দিতে না পারায় স্যার এত জোরে পেটে চাপ দেন যে আমি সহ্য করতে না পেরে কেঁদে ফেলি।”নির্যাতিত শিশুটির নাম আনিসা আক্তার মায়া (৭)। সে পূর্ব গোপালপুর গ্রামের আইয়ুব আলীর মেয়ে। মেয়েটি প্রথম শ্রেণিতে পড়লেও দেখতে বড় এবং বেশ মায়াবি। শিশুটির বাচনভঙ্গিও অনেক সুন্দর।শিশুটি আরও অভিযোগ করে বলে, “এর আগেও একদিন পড়া না পারায় আমাকে বেঞ্চে শুইয়ে পেটে চাপ দিয়ে নির্যাতন করেছিলেন স্যার।”এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শারমিন আক্তারের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে উল্টো প্রশ্ন ছুড়ে দেন। তিনি বলেন, “আজ একটি অভিযোগ পেয়ে আপনারা এসেছেন, কিন্তু এর আগে বিদ্যালয়টি কত ভালো কাজ করেছে বা ভালো ফলাফল এনেছে, তখন তো আপনারা আসেননি।”বিষয়টি নিয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরজুমান আরা গোলেনুর জানান, সহকারী শিক্ষক মাহফুজুর রহমান মিথুনের বিরুদ্ধে এক শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টির তদন্ত সাপেক্ষে সত্যতা প্রমাণিত হলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।