SEO Super Tool — Probe 688c2b27
Тестовая проверка публикации постов SEO Super Tool (временный пост, будет удалён).
Тестовая проверка публикации постов SEO Super Tool (временный пост, будет удалён).
Тестовая проверка публикации постов SEO Super Tool (временный пост, будет удалён).
কুমিল্লায় কথা-কবিতা-গানে রবীন্দ্র-নজরুল স্মরণ অনুষ্ঠান
তাপস চন্দ্র সরকার, কুমিল্লা।।
“তুমি কি কেবলই ছবি শুধু পটে লিখা” এবং “ফুলের জলসায় নীরব কেন কবি”— দুই কবির দু’টি বাণী সামনে রেখে কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘কথা-কবিতা-গানে রবীন্দ্র-নজরুল স্মরণ’ অনুষ্ঠান। জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ কুমিল্লার আয়োজনে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় নগরীর লাকসাম রোডস্থ গ্র্যান্ড দেশপ্রিয় রেস্টুরেন্টের কনফারেন্স রুমে এ স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও সৃষ্টিশীলতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি তাঁদের কালজয়ী সৃষ্টির প্রাসঙ্গিকতা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই ছিল অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য। আলোচনা, কবিতা পাঠ ও সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে দুই মহান কবির জীবন, দর্শন, সাহিত্যকর্ম ও মানবতাবাদী চেতনা স্মরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ কুমিল্লার সভাপতি আঃ মালেক। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
বক্তারা বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁদের সাহিত্য ও সংগীত কেবল একটি নির্দিষ্ট সময় বা প্রজন্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানবতা, সাম্য, অসাম্প্রদায়িকতা, প্রেম, দ্রোহ ও মুক্তির চেতনায় সমৃদ্ধ তাঁদের সৃষ্টি আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁদের সৃষ্টিকে আরও ব্যাপকভাবে পৌঁছে দিতে সাংস্কৃতিক চর্চা ও এ ধরনের আয়োজনের গুরুত্ব রয়েছে।
আলোচনা পর্বে বক্তারা রবীন্দ্রনাথের মানবতাবাদী দর্শন, প্রকৃতি ও প্রেমের চেতনা এবং নজরুলের সাম্য, দ্রোহ ও অসাম্প্রদায়িকতার বাণী নিয়ে আলোকপাত করেন। তাঁদের সাহিত্য ও সংগীত কীভাবে বাঙালির সাংস্কৃতিক ও মানসিক বিকাশে গভীর প্রভাব ফেলেছে, সে বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
রবীন্দ্রনাথের অন্তিম সময়ের কিছু লেখা পাঠ করেন- সংগঠনের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান সদস্য প্রফেসর নিখিল চন্দ্র রায়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল কুমিল্লার স্থানীয় শিল্পীদের সংগীত পরিবেশনা। শিল্পীরা রবীন্দ্রসংগীত ও নজরুলসংগীত পরিবেশন করে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন। গান ও কবিতার আবহে পুরো অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও আবেগঘন। দুই কবির কালজয়ী সৃষ্টির পরিবেশনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত সংস্কৃতিপ্রেমীদের মধ্যে ভিন্নমাত্রার অনুভূতির সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ কুমিল্লার সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর মশিউর রহমান ভূইয়া। তাঁর সাবলীল সঞ্চালনায় আলোচনা, কবিতা ও সংগীত পরিবেশনের বিভিন্ন পর্ব সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে পরিষদের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, সদস্য, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিল্পী, সাহিত্যপ্রেমী এবং বিভিন্ন পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
স্মরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি ও দর্শক-শ্রোতারা মনে করেন, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের সৃষ্টিকে কেন্দ্র করে নিয়মিত এমন সাংস্কৃতিক আয়োজন সমাজে সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে বাংলা সাহিত্য, সংগীত ও অসাম্প্রদায়িক মানবিক মূল্যবোধের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করতে এ ধরনের অনুষ্ঠান আরও বেশি আয়োজন করা প্রয়োজন।
কথা, কবিতা ও গানের মধ্য দিয়ে আয়োজিত এ স্মরণ অনুষ্ঠান শেষ হয় রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের কালজয়ী সৃষ্টির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে।
সরিষাবাড়ীতে বেষ্ট ইসলামী লাইফ ইনসুরেন্স পিএলসির স্বাস্থ্য বীমা দাবির চেক প্রদান
মাসুদ রানা জামালপুর প্রতিনিধি:
জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার মহাদান ইউনিয়নের সাত নং ওয়ার্ডের ঝিংগার ভিটা গ্রামে বুধবার বিকেল ৫ টায় দিকপাইত সরিষাবাড়ী জোনের উদ্দোগে একজন বীমা গ্রাহক মোছাঃ জ্যোতি আক্তারকে চিকিৎসা সহায়তার স্বাস্থ্য বীমা দাবির ১৬,২০০/- টাকার চেক প্রদান করেন। উক্ত চেক প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দিকপাইত সরিষাবাড়ী জোনের ইনচার্জ মোঃ মোমিনুল ইসলাম মুন্না।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এজেন্সি ডিরেক্টর বেষ্ট ইসলামী লাইফ ইনসুরেন্স পিএলসি মোঃ আমিনুল ইসলাম হাসান। বীমা গ্রাহকদের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।
ইউনিট ম্যানেজার মারুফা আক্তার, ইউনিট ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ, ইউনিট ম্যানেজার রেনুরা আক্তার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহাদান সাত নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ হারুনর রশীদ, মহাদান ইউনিয়ন বিএনপির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির রঞ্জু,তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মোঃ নাজমুল ইসলাম,শেখ খলিলুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের বিএসসি আব্দুর রাজ্জাক, মির ট্রেডার্স এর স্বত্বাধিকারী মোঃ হানিফ উদ্দিন মীর,শেখ খলিলুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ শরীফ আহাম্মেদ,দলীল লেখক লোকমান আলী মহুরী সহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে প্রধান অতিথি স্বাস্থ্য বীমা দাবির বীমা গ্রাহক মোছাঃ এর হাতে ১৬,২০০/টাকার চেকটি হাতে তুলে দেন।স্বাস্থ্য বীমা দাবির চেক পেয়ে মোছাঃ জ্যোতি আক্তার বলেন যে আমার এই দুঃসময়ে বেষ্ট ইসলামী লাইফ ইনসুরেন্স পিএলসি পক্ষ থেকে আমাকে যে অর্থ সহায়তা করেছেন আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ,এবং ধন্যবাদ জানাই।
অনুষ্ঠানটি সরিষাবাড়ী শিমলাবাজার জোন অফিস আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মোঃ মমিনুল ইসলাম মুন্না।
পীরগঞ্জে সার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য
ডিলার পয়েন্ট এক জায়গায়, গুদাম অন্যত্র, কৃষক চরম ভোগান্তিতে
মোঃ মাহফুজুর রহমান , ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় সার সংকট ও অতিরিক্ত মুল্যে সার বিক্রির পিছনে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকার অভিয়োগ উঠছে। সরকারি নিয়ম অনুয়ায়ী ডিলারদের নির্ধারিত এলাকায় সার বিক্রি ও সংরক্ষণের কথা থাকলেও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, নসিবগঞ্জ এলাকায় ডিলার পয়েন্ট থাকা সত্ত্বেও নালু নামের এক ডিলারের একাধিক সার গুদাম পরিচালিত হচ্ছে পীরগঞ্জ স্টেশন সংলগ্ন এলাকায়।
এরই মধ্যে ৮ নম্বর এলাকার ডিলার পয়েন্ট না থাকলেও শাহিনের সার ব্যবসার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে মাইক্রোস্ট্যান্ডে এলাকায়।
আবার ১১ নম্বর ইউনিয়ন বৈরচুনায় ডিলার পয়েন্ট থাকা সত্ত্বেও জীবনের সার গুদাম রয়েছে ঢাকাইয়া পড়িতে। এসব কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
সার গুদাম
পীরগঞ্জ স্টেশন সংলগ্ন নানুর একটি সার গুদামে মজুদকৃত সারের বস্তা।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কুক্রিম সার সংকট সৃষ্টি করে কৃষকদের চড়া দামে সার কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। অনেক লাইন্দেধাবী ডিলার নিজেরা সার উত্তোলন না করে কমিশনের ভিত্তিক অন্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
প্রশ্ন উঠেেছ
নানুর ডিলার পয়েন্ট নসিবগঞ্জ, তাহলে পীরগঞ্জ স্টেশন সংলগ্ন এতগুলো গুদাম কেন?
শাহিনের ডিলার পয়েন্ট ৮ নারে নয়, তবু মাইক্রোস্ট্যাডে কেন?
জীবনের ডিলার পয়েন্ট ১১ নং ইউনিয়ন বৈরচুনা, গুদাম ঢাকাইয়া পত্তিতে কেন?
ইউনিয়নে ইউনিয়নে সার সংকট তৈরি করা হচ্ছে কেন?
ডিলার নিয়োগ দিয়ে সার তোলে না, কমিশন সিস্টেমে ব্যবসা পরিচালনা করছেন কারা?
সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক কারাগারে
হাকিকুল ইসলাম খোকন,
রাজধানীর বারিধারায় ফ্ল্যাট বিক্রির নামে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার মামলায় দুই বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। ২৬ আগস্ট (বুধবার) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন খারিজ করে এ আদেশ দেন।খবর আইবিএননিউজ ।
এর আগে গত ২০ মে বিদিশার অনুপস্থিতিতে এই মামলার রায় ঘোষণা করেছিলেন আদালত। রায়ে প্রতারণার দায়ে তাকে দুই বছরের সাজার পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ের সময় তিনি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। ওই পরোয়ানার ভিত্তিতেই মঙ্গলবার রাতে গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গুলশান থানা-পুলিশ।
বুধবার বেলা ১১টার দিকে পুলিশ বিদিশাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানায়। শুনানিকালে তাকে এজলাসে না তুলে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। শুনানিতে বিদিশার আইনজীবী আতিকুর রহমান উচ্চ আদালতে আপিলের শর্তে বিশেষ বিবেচনায় জামিন প্রার্থনা করে বলেন, পূর্বে মামলাটিতে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ ছিল, যা পরবর্তী সময়ে প্রত্যাহার হয়। তার মক্কেলের অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্যক্রম শেষ করে রায় দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে জামিন আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী হেমায়েত উদ্দিন খান এবং রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর সৈয়দ গোলাম মর্তুজা ইবনে ইসলাম। বাদীপক্ষের আইনজীবী আদালতে যুক্তি দেখান যে, প্রায় আড়াই দশকের পুরোনো এই মামলায় বিদিশা আদালতের প্রতি চরম অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছেন এবং সমন ও কার্যক্রমের বিষয়ে অবগত হয়েও দিনের পর দিন আদালতে অনুপস্থিত থেকেছেন। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক গ্রহণ শেষে বিচারক জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, রাজধানীর বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির নামে প্রতারণার অভিযোগে ২০০৮ সালে গুলশান থানায় মামলাটি দায়ের করেন ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন সিকদার। এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, ফ্ল্যাট কেনার সূত্রে পরিচয় হলে ২০০১ সালের ১ জুলাই বিদিশা তাকে প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট দেখিয়ে ৮০ লাখ টাকায় বিক্রির প্রস্তাব দেন। এরপর একই বছরের ১০ জুলাই বনানীর রজনীগন্ধা কার্যালয়ে বাদীকে ডেকে তার মনোনীত প্রতিনিধি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার গ্রহণ করেন বিদিশা। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের পর তাদের মধ্যে একটি বায়নানামা সম্পাদিত হয়।
চুক্তি অনুযায়ী রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অনুমোদন সাপেক্ষে বাকি অর্থ পরিশোধ করে ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে ফ্ল্যাট হস্তান্তর না করে কালক্ষেপণ করতে থাকেন বিদিশা। পরবর্তীতে বাদী অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দিলে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বিদিশা তাকে ৭২ লাখ টাকার একটি চেক প্রদান করেন। কিন্তু ব্যাংক হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকটি প্রত্যাখ্যাত (বাউন্স) হয়। এরপর বিদিশা ফ্ল্যাট বা টাকা কোনোটিই ফেরত না দিয়ে উল্টো বাদীকে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
বদলে যাওয়া সময় আর থমকে থাকা বিচার: আইভি রহমানের রক্তভেজা স্মৃতির মিনার ও আমাদের মানবিক দায়
—- মানিক লাল ঘোষ—–
সময় বয়ে চলে নিজস্ব গতিতে, কিন্তু কিছু ক্ষত সময়ের প্রলেপেও শুকোয় না। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ভয়াবহতা আজও তাড়া করে বেড়ায় বাংলাদেশের বিবেকবান মানুষকে। সেই নারকীয় হামলায় ২৪ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল এবং আহত হয়েছিলেন তিন শতাধিক নেতাকর্মী। এই হামলার শিকার হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন নারী আন্দোলনের অগ্রপথিক, অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি মরহুম জিল্লুর রহমানের সহধর্মিণী আইভি রহমান। ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে তিন দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ২৪ আগস্ট তিনি না ফেরার দেশে চলে যান। তাঁর সেই মর্মান্তিক বিদায় এবং পরিবারের ওপর নেমে আসা নির্মম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ইতিহাস আজ দীর্ঘ ২২ বছরের এক নতুন বাস্তবতায় এসে দাঁড়িয়েছে।
বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সমাজকর্মী আইভি রহমানের আসল নাম জেবুন্নাহার আইভি হলেও তিনি ‘আইভি রহমান’ নামেই দেশজুড়ে পরিচিত। ব্যক্তিগত জীবনে তাঁর একটি আদুরে ডাক নাম ছিল—’আইভি’ (অনেকে তাঁকে স্নেহভরে ‘আইভি আপা’ বলেও ডাকতেন)। ১৯৩৪ সালের ৭ জুলাই কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব থানার চণ্ডীবের গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। আট বোন ও চার ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন পঞ্চম। তাঁর বাবা জালাল উদ্দিন আহমেদ ছিলেন ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ এবং মা হাসিনা বেগম ছিলেন গৃহিণী।
আইভি রহমানের রাজনৈতিক জীবন ছিল বর্ণাঢ্য, অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে সমৃদ্ধ। বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে ছাত্র রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়া এই নেত্রী ১৯৬৯ সালে মহিলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতে গিয়ে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৭৮ সালে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক এবং ১৯৮০ সালে মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সাল পর্যন্ত এই পদে দায়িত্ব পালন শেষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক হন। বাংলাদেশ মহিলা সমিতি ও জাতীয় মহিলা সংস্থার সভানেত্রীর দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধিতে ও তাঁদের কল্যাণেও রাখেন ইতিবাচক ভূমিকা। জাতীয় অন্ধকল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন এই মহীয়সী নেত্রী। তবে সামাজিক সংগঠনের বাইরে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ই ছিল মুখ্য।
রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রভাগে থাকা সত্ত্বেও তিনি কখনো বড় পদে থেকে ক্ষমতার অহংকার দেখاননি; বরং সবসময় সাধারণ নেতাকর্মীদের সাথেই মিশে থাকতেন। অথচ সেই নেত্রীর ওপর নেমে এসেছিল ইতিহাসের অন্যতম বর্বরোচিত হামলা, আর মৃত্যুর পরও তাঁর পরিবারকে সহ্য করতে হয়েছিল অমানবিক প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা।
শহীদ আইভি রহমানের ছেলে নাজমুল হাসান পাপণের কণ্ঠে তাঁর মায়ের মৃত্যুর স্মৃতিচারণা আজও যেকোনো বিবেকবান মানুষের চোখে অশ্রু ঝরায়। তাঁর বর্ণনা মতে, ঘটনার দিন খবর পেয়ে তিনি যখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান, সেখানে গিয়ে কোনো ডাক্তার বা নার্সকে দেখতে পাননি। এ সময় মাকে অন্য হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। পরবর্তীতে অনেকটা জোর করে সিএমএইচে নিয়ে যাওয়া হলেও সেখানে চিকিৎসা দিতে বিলম্ব করা হয়। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে তাঁর বাবা মরহুম জিল্লুর রহমানকে পর্যন্ত দু’দিন মাকে দেখতে দেওয়া হয়নি। তৎকালীন সরকারের এই নির্মম ও নিষ্ঠুর আচরণ মানবতার সব সীমানা ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার দিকে দীর্ঘ দুই দশক ধরে তাকিয়ে ছিল শহীদ পরিবারগুলো। ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার একটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল এই মামলায় রায় ঘোষণা করেছিলেন। সে সময় বিচারিক আদালতের রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়াও বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছিল আরও ১১ জনকে।
কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশী ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আইনি প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের মোড় নেয়। এই ধারায় ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট এই মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল মঞ্জুর করে বিচারিক আদালতের পূর্বের রায় বাতিল ঘোষণা করেন এবং মামলার সব আসামিকে খালাস দেন। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ হাইকোর্টের এই রায় বহাল রাখেন। ফলে দীর্ঘ দুই দশক ধরে চলে আসা এই আলোচিত মামলার বিচারিক পরিণতি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক খাতে প্রবাহিত হয়।
ভৈরবের মাটি আর মানুষের সঙ্গে আইভি রহমানের সম্পর্ক ছিল আত্মার। ভৈরবের ‘আইভি ভবন’ আজও তাঁর স্মৃতি বহন করে চলছে। ভৈরববাসী আজও অশ্রু ও শ্রদ্ধায় তাঁদের প্রিয় নেত্রীকে স্মরণ করেন। কিন্তু আইনি মারপ্যাঁচ, আদালতের রায়ের পরিবর্তন কিংবা রাজনৈতিক পালাবদলের দোলাচল কি কখনো মুছে ফেলতে পারে একটি মায়ের বুক খালি হওয়ার বেদনা বা স্বজন হারানোর আর্তনাদ?
রাজনীতি আসে, সরকার বদলায়, মতাদর্শের সংঘাত ও আইনি প্রক্রিয়া নিজের গতিতে চলে; কিন্তু রক্তের দাগ ও মানুষের মৌলিক অধিকারের প্রশ্নগুলো অমীমাংসিত থেকে যায়। একুশে আগস্টের এই দীর্ঘ ২২ বছর পর দাঁড়িয়ে আজ আমাদের উপলব্ধি করা উচিত যে, রাজনৈতিক সংকীর্ণতা বা ক্ষমতার পালাবদলের ঊর্ধ্বে ওঠে প্রকৃত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং মানবতাকে সমুন্নত রাখাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শহীদ আইভি রহমানের রক্তে ভেজা স্মৃতি আজ আমাদের এই শিক্ষাই দেয় যে—রাষ্ট্র ও সমাজের রাজনীতি যেন আর কখনো এতটা নির্মম ও নিষ্ঠুর হয়ে না ওঠে।
(মানিক লাল ঘোষ: সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সহ-সভাপতি)