মহাদেবপুরে মাদ্রাসার পথ অবরোধের অভিযোগ, ইউএনও বরাবর আবেদন

মহাদেবপুরে মাদ্রাসার পথ অবরোধের অভিযোগ, ইউএনও বরাবর আবেদন

সুমন কুমার বুলেট নওগাঁ জেলাঃ

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় একটি কাওমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকদের চলাচলের পথ অবরোধ করে গাছ লাগানোর অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মাদ্রাসার সেক্রেটারি ও পরিচালক।
আবেদনে বলা হয়েছে, মোঃ ইমরান আলী মহাদেবপুর সদর, থানা-মহাদেবপুর, জেলা-নওগাঁ। তিনি বর্তমানে উপজেলার ০১ নং সদর ইউনিয়নের অন্তর্গত নাটশাল গ্রামস্থ নবীনগর এমদাদুল উলুম মাহমুদিয়া কাওমি মাদ্রাসা ও এতিমখানার সেক্রেটারি ও পরিচালক হিসেবে কর্মরত। মাদ্রাসাটি ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে মাদ্রাসা থেকে মেইন রাস্তায় ওঠার জন্য একটি পায়ে চলাচলের রাস্তা রয়েছে। কিন্তু বিবাদীরা ওই রাস্তায় গাছ লাগিয়ে মাদ্রাসার ছাত্র ও শিক্ষকদের চলাচল ব্যাহত করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযুক্তরা হলেন—
শ্রী নীলু কুমার
শ্রী সুনত কুমার
উভয়ে মৃত সুধীরের ছেলে। তাঁদের ঠিকানা উপজেলার সদর ইউনিয়ন নাটশাল
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিবাদীদের এমন পথরোধের কারণ জিজ্ঞাসা করলে তাঁরা বিভিন্ন তালবাহানা করেন। তালবাহানা করতে নিষেধ করলে তাঁরা হুমকি প্রদান করেন। এ কারণে কোনো ধরনের হট্টগোল না করে আইনের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারী মোঃ ইমরান আলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা পড়েছে। বিবাদি নীলুর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,
“তার জায়গাটি সম্পূর্ণ কিনে নিতে হবে, সিঙ্গেল ভাবে রাস্তার জন্য জায়গা সে বিক্রয় করবে না বা ওইভাবে রাস্তাটিতে যাওয়া আসার জন্য ছেড়ে দিয়ে রাখবেন না৷”




সন্তানের জীবন বাঁচাতে নিজের লিভার দিতে চান মা, চিকিৎসায় প্রয়োজন ৭০ লাখ টাকা

সন্তানের জীবন বাঁচাতে নিজের লিভার দিতে চান মা, চিকিৎসায় প্রয়োজন ৭০ লাখ টাকা

ফরহাদ হোসেন রাজ
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

মায়ের চোখে জল, বুকভরা আকুতি—‘আমার সন্তানকে বাঁচান।’
মাত্র ৪ মাস ৬ দিনের ছোট্ট ফুয়াদ। পৃথিবীর আলো দেখার পর যে বয়সে মায়ের কোলে নিশ্চিন্তে থাকার কথা, সেই বয়সেই জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে কঠিন সময় পার করছে শিশুটি।
শরীর ও চোখ হলুদ হয়ে গেছে। ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে পেট। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ফুয়াদের জীবন বাঁচাতে প্রয়োজন লিভার প্রতিস্থাপন। আর সন্তানকে বাঁচাতে নিজের লিভারের অংশ দিতেও প্রস্তুত মা ভূবন আক্তার বীথি।
কিন্তু সন্তানের চিকিৎসার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থ।
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার শিশু ফুয়াদের শরীরে সম্প্রতি ধরা পড়ে জটিল রোগ ‘বিলিয়ারি অ্যাট্রেসিয়া’। চিকিৎসকের পরামর্শে তার অস্ত্রোপচার করা হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে বলে পরিবার জানিয়েছে।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ফুয়াদকে বাঁচাতে লিভার প্রতিস্থাপন প্রয়োজন। এজন্য তাকে ভারতের চেন্নাইয়ে নিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে। সেখানে চিকিৎসা ও লিভার প্রতিস্থাপনে আনুমানিক ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকা প্রয়োজন হতে পারে।
এই বিপুল অর্থের কথা শুনে দিশেহারা পরিবারটি। ছেলের চিকিৎসার জন্য ইতোমধ্যে ঋণ নেওয়া এবং জমি বন্ধক রেখে পাওয়া অর্থের বড় অংশ ব্যয় হয়ে গেছে। এখন নতুন করে এত টাকা সংগ্রহ করা তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।
বর্তমানে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পেডিয়েট্রিক সার্জারি ও পেডিয়েট্রিক ইউরোলজি বিশেষজ্ঞ মো. সামিউল হাসানের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছে ফুয়াদের।
ফুয়াদের বাবা আব্দুল্লাহ আল মামুন হৃদয় পাকুন্দিয়া উপজেলার সুখিয়া ইউনিয়নের কোষাকান্দা গ্রামের বর্গাচাষি মো. রতন মিয়ার ছেলে। পরিবারের আর্থিক সংকট কাটাতে সাত মাস আগে তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছেন। দেশে থাকাকালে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
অন্যদিকে ফুয়াদের মা ভূবন আক্তার বীথি শেরপুর সরকারি কলেজের অনার্সের শিক্ষার্থী। একদিকে সন্তানের অসুস্থতা, অন্যদিকে চিকিৎসার বিপুল ব্যয়—সব মিলিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাঁর।
সন্তানকে বাঁচানোর আকুতি জানিয়ে বীথি বলেন,
“সন্তানকে বাঁচাতে আমি নিজের লিভারের অংশ দিতে চাই। চিকিৎসকেরা বলেছেন, লিভার প্রতিস্থাপন করতে হবে। কিন্তু এত টাকা আমাদের পক্ষে জোগাড় করা অসম্ভব। সবাই সামান্য করে সহযোগিতা করলে হয়তো আমার সন্তানকে বাঁচাতে পারব।”
মায়ের এই আকুতি এখন পৌঁছাতে চায় দেশের মানুষের কাছে। কারও সামর্থ্য অনুযায়ী ছোট একটি সহযোগিতাও হতে পারে ফুয়াদের চিকিৎসার পথে বড় সহায়তা।
একটি শিশুর জীবন, একটি মায়ের স্বপ্ন, একটি পরিবারের শেষ আশা—মানবিক মানুষের সহযোগিতায় হয়তো বেঁচে উঠতে পারে ছোট্ট ফুয়াদ।
ফুয়াদের চিকিৎসায় সাহায্য পাঠানোর মাধ্যম
নাম: মোছা. ভূবন আক্তার বীথি
সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর: ৬২০৮৩০১০১২২৯৪
ব্যাংক: সোনালী ব্যাংক পিএলসি
শাখা: সূর্যদী বাজার, শেরপুর
বিকাশ (পার্সোনাল): ০১৯৪৮০৮৭০৩৬
নগদ ও রকেট: ০১৩৫১০২৮২৭৭




“স্বার্থান্বেষী ও নিজস্বার্থে কাজ করা নেতা কর্মীদের হুশিয়ারী”

স্বার্থান্বেষী ও নিজস্বার্থে কাজ করা নেতা কর্মীদের হুশিয়ারী, ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম শাহীন।

মাহবুব আলম, অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ):

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শাহিনের কার্যালয় থেকে একটি আনন্দ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি উপজেলার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ঘুরে পুনরায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।

মিছিলে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দলীয় পতাকা হাতে অংশ নেন। এ সময় তারা বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দলীয় ঐক্য ও সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মিছিলে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির ছাত্রদলের আহ্বায়ক তিতুমীর হোসেন সোহেল, যুবদলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন আনা, শ্রমিক দলের সভাপতি মীর রাজীব হোসেন তাপস, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি জাকির হোসেন শফি, মৎসজীবী দলের সভাপতি মাহফুজ আলম খান দানা, সাবেক ছাত্রদল সভাপতি এস এম জাবেদসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

আলোচনা সভায় উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শাহিন বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শকে লালন করে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দেশনায়ক তারেক রহমান দেশ পরিচালনা করছেন।”তিনি দেশের উন্নয়নে বিএনপির লক্ষ্য ও অঙ্গীকার বাস্তবায়নে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দলের মধ্যে স্বার্থান্বেষী ও নিজস্বার্থে কাজ করা ব্যক্তিদের সতর্ক করে দেন।

সভায় বক্তারা বিএনপির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে দলের ভূমিকা এবং দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দলের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন। আগামী দিনে দলকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।

এ সময় উপজেলা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, শ্রমিক দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




নরসিংদীর রায়পুরায় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ গ্রেফতার এক

নরসিংদীর রায়পুরায় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ গ্রেফতার এক।

     আবু নাঈম রিপন:নরসিংদী প্রতিনিধি।।

নরসিংদীর রায়পুরা থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে, রায়পুরা থানার চরাঞ্চলের চর মধূয়া ইউনিয়ন এর সমীবাদ বাজারে একদল সন্ত্রাসী অবৈধ অস্ত্রসহ অবস্থান করছে, এবং পাহারারত অবস্থায়, আগ্নেয়াস্ত্র তৈরী করছে। উক্ত সংবাদের প্রেক্ষিতে নরসিংদীর পুলিশ সুপার এর দিক-নির্দেশনায়, রায়পুরা সার্কেল সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার বায়েজিদ বিন মনসুর-এর নেতৃত্বে রায়পুরা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মজিবুর রহমানসহ রায়পুরা থানা ও বাঁশগাড়ী তদন্তকেন্দ্র এর অফিসার-ফোর্স সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করে ৩১-৮-২৬ ইং রাত অনুমান ১২.০৫টায়, চরমধূয়া ইউনিয়ন এর সমীবাদ বাজারস্থ জনৈক খায়রুল এর মাছের খাবারের দোকানের সামনে হতে স্থানীয় জনসাধারণের সহযোগিতায় আসামী মোঃ সাব্বির হোসেন(৩০), পিতা- মোঃ হেলাল মিয়া, মাতা- হেনা বেগম, সাং-বড়িকান্দি (মোল্লাবাড়ী),থানা- নবীনগর, জেলা-বি-বাড়ীয়া এ/পি- সাং-সমীবাদ(মামার বাড়ী), থানা-রায়পুরা,জেলা-নরসিংদীকে আটক করে তার হেফাজত হতে নিম্ন উল্লেখিত আগ্নেয়াস্ত্র তৈরীর সরঞ্জাম উদ্ধার করতে সক্ষম হন।
উল্লেখিত আলামতের বিবরণঃ
০১। ১টি লোহার পাইপ, লম্বা ২৬ ইঞ্চি,০২। ১টি লোহার পাইপ, লম্বা ৬ ইঞ্চি, ০৩। ১টি লোহার পাইপ, লম্বা ৩ ইঞ্চি ০৪। ১টি চ্যাপ্টা লোহার পাইপ, লম্বা ৯ ইঞ্চি ০৫। লোহার স্প্রিং ৪টি, যথাক্রমে-১টি ১৮ইঞ্চি, ১টি ১৫ইঞ্চি ও অপর ২টি ১.৭৫ ইঞ্চি লম্বা ০৬। হেক্সো ব্লেড ৩টি, প্রতিটি লম্বা ১২ ইঞ্চি ০৭। লোহার পাত ২টি, যথাক্রমে-১টি ৩.৫ ইঞ্চি এবং অপরটি ২.৭৫ ইঞ্চি লম্বা।
০৮। বিভিন্ন আকৃতির লোহার টুকরা ১৭টি ০৯। বিভিন্ন সাইজের ড্রিল মেশিনের মাথা ৬টি ১০। ট্রিগার সদৃশ লোহা ২টি ১১। ১টি ফায়ারকৃত কালো রংয়ের শট গানের কার্তুজ ১২। একটি পুরাতন স্মার্টফোন। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশের নজরদারি অব্যাহত আছে। উক্ত বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।




নরসিংদীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় সভায় বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী

নরসিংদীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় সভায় বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী
আবু নাঈম রিপন :নরসিংদী প্রতিনিধি।।
নরসিংদীতে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) নরসিংদী সার্কিট হাউসে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরিফুল আলম এমপি। নরসিংদী সফরে সার্কিট হাউসে পৌঁছালে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে স্বাগত জানান পুলিশ সুপার মোঃ আবদুল্লাহ্-আল-ফারুক।
এ সময় জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল প্রতিমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে গার্ড অব অনার প্রদান করে।
পরে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায়, নরসিংদী জেলা প্রশাসক,ইসরাত জাহান কেয়ার সভাপতিত্বে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন এবং জনসেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় নরসিংদী জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




কুমিল্লার চান্দিনায় কাকী হত্যা: স্বামী-স্ত্রীর যাবজ্জীবন

কুমিল্লার চান্দিনায় কাকী হত্যা: স্বামী-স্ত্রীর যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক।। কুমিল্লার চান্দিনায় জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে শিল্পী রাণী দাশ নামে এক নারীকে হত্যার দায়ে স্বামী-স্ত্রীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বকুল রাণী দাশ নামে অপর এক আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মিথিলা ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মহিচাইল বারইপাড়া এলাকার মৃত ক্ষিতিশ দাশের ছেলে সমির চন্দ্র দাশ (৪২) ও তাঁর স্ত্রী রূপালী রাণী দাশ (৩৭)। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন না। অপর আসামি বকুল রাণী দাশ আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়- ২০১৮ সালের ১০ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টার দিকে চান্দিনার মহিচাইল এলাকায় জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধের জেরে রনজিৎ চন্দ্র দাশ ও তাঁর স্ত্রী শিল্পী রাণী দাশের সঙ্গে আসামিদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আসামিরা ধারালো দা দিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। তাঁদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে দুজনকে উদ্ধার করে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিল্পী রাণী দাশকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত রনজিৎ চন্দ্র দাশকে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার দিনই নিহত শিল্পী রাণী দাশের ভাসুর নিতাই চন্দ্র দাশ বাদী হয়ে সমির চন্দ্র দাশ, রূপালী রাণী দাশ ও বকুল রাণী দাশকে আসামি করে চান্দিনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, স্থানীয় লোকজন দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. শাহজাহান তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ২০১৮ সালের ১৮ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলাটি বিচারাধীন অবস্থায় আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনা শেষে আদালত সমির চন্দ্র দাশ ও রূপালী রাণী দাশের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন। আদালত সমির চন্দ্র দাশ ও রূপালী রাণী দাশকে দণ্ডবিধির ৩০৪ (১ম) ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এ ছাড়া দণ্ডবিধির ৩২৬ ধারায় তাঁদের প্রত্যেককে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। অপর আসামি বকুল রাণী দাশের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মো. ইসমাইল মিয়া রতন।




নরসিংদীতে বিশেষ অভিযানে ২৩৭ গ্রেফতার,বিপুল অস্ত্র-মাদক ও অবৈধ পণ্য উদ্ধার

নরসিংদীতে বিশেষ অভিযানে ২৩৭ গ্রেফতার, বিপুল অস্ত্র-মাদক ও অবৈধ পণ্য উদ্ধার”

আবু নাঈম রিপন: নরসিংদী প্রতিনিধি।।
নরসিংদী জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন, ওয়ারেন্টভুক্ত ও পলাতক আসামি গ্রেফতার, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার এবং চোরাচালান প্রতিরোধে গত ১৮ থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত সমন্বিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে নরসিংদী জেলা পুলিশ। র‍্যাব, এপিবিএন ও আরআরএফ পুলিশের সহযোগিতায় পরিচালিত এ অভিযানে মোট ২৩৭ জনকে গ্রেফতার ও আটক করা হয়েছে। একই সময়ে ৩০৫টি ওয়ারেন্ট নিষ্পত্তি এবং ৮৮টি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

২৫ আগস্ট ২০২৬ ইং তারিখ বিকেলে নরসিংদী পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার নরসিংদী আবদুল্লাহ আল ফারুক এসব তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি গত সাত দিনে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানের সাফল্য ও উদ্ধার হওয়া অস্ত্র, মাদক ও অবৈধ পণ্যের বিবরণ তুলে ধরেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে ৮ হাজার ৬৩৩ পিস ইয়াবা, প্রায় ২৪৯ কেজি গাঁজা, ৪৯ বোতল ফেনসিডিল, ৮ বোতল ESKUF কফ সিরাপ ও বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে।

অস্ত্র উদ্ধারের মধ্যে রয়েছে একটি বিদেশি পিস্তল (Made in USA), একটি এলজি, ১৫ রাউন্ড গুলি/কার্তুজ এবং বিভিন্ন ধরনের দেশীয় ধারালো ও আঘাতকারী অস্ত্র। এছাড়া দুটি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, একটি ঢাল, ১৪টি পটকা ও আনুমানিক ২০০টি মার্বেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

চোরাচালানবিরোধী অভিযানে ১ কোটি ১০ লাখ ৬৭ হাজার ১০০ টাকা মূল্যের অবৈধ ভারতীয় শাড়ি, সিগারেটসহ বিভিন্ন পণ্য জব্দ করা হয়। এসব পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত একটি কাভার্ড ভ্যানও জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশের উল্লেখযোগ্য অভিযানের মধ্যে রায়পুরার উত্তর বাখরনগর, চর আড়ালিয়া, আমিরগঞ্জ ও মেঘনা নদীবক্ষের দুর্গম চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান অন্যতম। এসব অভিযানে ২২৪ কেজি গাঁজা, বিদেশি পিস্তল, এলজি, গুলি,কার্তুজ, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার এবং সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতার করা হয়।

জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) শিবপুরের দক্ষিণ কারারচর এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অভিযান চালিয়ে ১ কোটি ১০ লাখ ৩৭ হাজার ১০০ টাকা মূল্যের অবৈধ ভারতীয় পণ্যসহ একটি কাভার্ড ভ্যান জব্দ করে এবং এর চালককে আটক করে। পৃথক অভিযানে ২৪ কেজি গাঁজা ও মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকারসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়।

এদিকে মনোহরদীর কীর্তিবাসদী গ্রামে এক যুবক হত্যার ঘটনায় পুলিশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিহতের বাবা আতাউর রহমান মিস্ত্রিকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় হত্যায় ব্যবহৃত একটি কুড়ালও উদ্ধার করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

ট্রাফিক বিভাগ জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিশেষ চেকপোস্ট পরিচালনা করে ১ হাজার ৮৬৬টি যানবাহন তল্লাশি, ৩৫টি মোটরসাইকেল আটক এবং যানবাহন সংক্রান্ত ৩০১টি মামলা করেছে। এসব মামলায় মোট ৯ লাখ ২৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল ফারুক বলেন, অবৈধ অস্ত্র, মাদক, চোরাচালান ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে নরসিংদী জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও চক্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি, অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও জানান, জননিরাপত্তা ও জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতেও আরও ব্যাপক সমন্বিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।