আইএফআরসির মানবিক সহায়তা নেপালে

সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে নেপালের নুয়াকোটের দেবীঘাট ও ত্রিশূলী এলাকায়। বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি অনেক স্থাপনা কাদা ও বালির নিচে চাপা পড়েছে।এ অবস্থায় দুর্গতদের সহায়তায় ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে নেপাল রেড ক্রস সোসাইটি (এনআরসিএস), আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিস ফেডারেশন (আইএফআরসি)।

বন্যার ভয়াবহতা বেশি দেখা যায় নুয়াকোটের দেবীঘাট এলাকায়। সেখানকার বহুতল ভবনের ছাদে এখনো বড় বড় গাছের শিকড় আটকে থাকতে দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের ঘরবাড়ি থেকে কাদা ও ধ্বংসাবশেষ সরানোর চেষ্টা করছেন।এ ছাড়াও বন্যায় সেখানকার সড়ক ও সেতুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ত্রিশূলী বাজার এলাকায় ব্যাংক, বিভিন্ন স্থাপনা ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখনো নদীর স্রোত তীব্র ও ঝুঁকিপূর্ণ। ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন থেকে অনেকে নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।নেপাল সেনাবাহিনীর সদস্য, স্কাউট ও স্থানীয় বাসিন্দারা সড়ক এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর পরিষ্কারে কাজ করছেন। একই সঙ্গে এনআরসিএসের স্বেচ্ছাসেবকরা আইএফআরসির সহায়তায় বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করছেন। এ ছাড়া পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নারীদের ডিগনিটি কিট দেওয়া এবং জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রের কার্যক্রমেও সহায়তা করছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতেও ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

এনআরসিএসের কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকরা আইএফআরসির সহায়তায় জরুরি নন-ফুড আইটেম (এনএফআই) দুর্গত এলাকায় পাঠানোর জন্যও পরিবহন করছে




সেনা অভিযান বেলুচিস্তানে নিহত ৪৮

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় গত ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টায় ভারত-সমর্থিত গোষ্ঠীর ৪৮ জন নিহত হয়েছেন। তাদের সবাই ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ ও ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলো বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা (আইএসপিআর)।

সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ বলছে, বেলুচিস্তানের মাস্তুং, কোয়েটা, কালাত এবং সিবিতে ‘ভারতীয় মদদপুষ্টদের’ বিরুদ্ধে একাধিক গোয়েন্দা-ভিত্তিক অভিযান চালিয়ে ৩৬ ‘সন্ত্রাসীকে’ হত্যা করা হয়েছে।

এক বিবৃতিতে আইএসপিআর জানায়, ৪ সেপ্টেম্বর মাস্তুংয়ে একটি অভিযানের সময় সন্ত্রাসীদের গতিবিধি শনাক্ত করে তাদের ওপর হামলা চালায় নিরাপত্তা বাহিনী। তীব্র গোলাগুলির পর ছয় ‘ভারত-সমর্থিত সন্ত্রাসী’ নিহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ, ধ্বংস করা হয়েছে অনেক বিস্ফোরক যন্ত্র।বিবৃতিতে বলা হয়, আরেকটি সংঘর্ষে কোয়েটা জেলার শাবান এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় সেনারা ‘খাওয়ারিজদের’ চারটি আস্তানা শনাক্ত করে এবং ২৬ জনকে হত্যা করে। এছাড়া কালাতে নিরাপত্তা বাহিনী একটি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ‘দুই ভারত-সমর্থিত সন্ত্রাসীকে’ হত্যা করে।

সিবি জেলার ভাগ এলাকায় স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপে ভাগ পুলিশ স্টেশনে হামলার একটি সন্ত্রাসী চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়া হয়।এসময় গোলাগুলিতে দুই ভারত-সমর্থিত সন্ত্রাসী নিহত হয় বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।

পাক সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আরও জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ পরিকল্পনার অধীনে চলমান সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পূর্ণগতিতে অব্যাহত থাকবে। দেশ থেকে বিদেশি পৃষ্ঠপোষকতা ও সমর্থনে পরিচালিত সন্ত্রাসবাদের হুমকি নির্মূলের অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেছে সংস্থাটি। মূলত বেলুচিস্তানের নিষিদ্ধ ঘোষিত সশস্ত্র গোষ্ঠী বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মিকে (বিএলএ) ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ এবং খাইবার পাখতুনখোয়ার নিষিদ্ধ ঘোষিত সশস্ত্র গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানকে (টিটিপি) ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ বলে আখ্যায়িত করে থাকে পাকিস্তান।

ইসলামাবাদ বরাবরই অভিযোগ করে আসছে, এই দুই সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রতি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থন ও সহযোগিত রয়েছে নয়াদিল্লির।




ফিলিস্তিনের আঙুরবাগানে ইসরায়েলিদের চুরি

পশ্চিম তীরে একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন ফিলিস্তিনি আঙুরবাগান থেকে চুরি করে আঙুর নিয়ে যেতে দেখা গেছে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের একটি পরিবারকে। চুরির এই ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করেন সেখানে উপস্থিত অধিকারকর্মীরা।

টাইমস অব ইসরায়েল বলছে, পশ্চিম তীরের হেবরনের উত্তরে হালহুল এলাকায় ‘রিজার্ভিস্টস অ্যাগেইনস্ট টেরর’ নামে ইসরায়েলি কর্মীদের একটি দল ওই আঙুরবাগানের মালিক ফিলিস্তিনি কৃষকদের সহায়তা করতে সেখানে গিয়েছিল। তাদের ধারণ করা ভিডিওতে শিশুদের নিয়ে একটি অবৈধ বসতি স্থাপনকারী পরিবারকে বাগান থেকে আঙুর নিতে দেখা যায়।

ওই দলের সদস্য আভিয়াদ হোমিনার-রোজেনব্লুম বলেন, আইডিএফ এলাকাটিকে ‘বন্ধ সামরিক অঞ্চল’ ঘোষণা করে সেখানে অবস্থানরত ফিলিস্তিনি কৃষক ও ইসরায়েলি অধিকারকর্মীদের সরিয়ে দেয়। তাদের সেখানে যেতে আগে থেকে সমন্বয় বা অনুমতির প্রয়োজন ছিল বলে জানানো হয়।পরে অধিকারকর্মীরা তাদের কাছে এগিয়ে গেলে বসতি স্থাপনকারীরা নিজেরাই সেখান থেকে চলে যায় বলে জানান হোমিনার-রোজেনব্লুম। তিনি আরো বলেন, অধিকারকর্মীরা ফিরে যাওয়ার পর দেখতে পান, তাদের যানবাহনের কয়েকটি টায়ার ফুটো করে দেওয়া হয়েছে।




কুমিল্লায় শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

কুমিল্লায় শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, ধর্মীয় সংগীত ও ভক্তদের জয়ধ্বনিতে মুখরিত কুমিল্লা নগরী

তাপস চন্দ্র সরকার, কুমিল্লা।। “যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত। অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যহম্॥ পরিত্রাণায় হি সাধুনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম্। ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে॥” — পবিত্র শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার এই অমর বাণীকে সামনে রেখে সারাদেশের ন্যায় কুমিল্লাতেও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা, আনন্দ-উচ্ছ্বাস ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে পালিত হয়েছে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী মহোৎসব।

এ উপলক্ষে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) শ্রীশ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটি, কুমিল্লার উদ্যোগে দিনব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উৎসবকে কেন্দ্র করে নগরজুড়ে বিরাজ করে আনন্দঘন পরিবেশ। বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর ও ভক্তদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। সকাল সাড়ে ৮টায় কুমিল্লা নগরীর রাণীর বাজার রোডস্থ শ্রীশ্রী রাসস্থলী ও রামঠাকুর আশ্রমের প্রধান ফটকের সামনে থেকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বের হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। নানা সাজসজ্জা, ধর্মীয় প্রতীক, ব্যানার-ফেস্টুন, কীর্তন, ধর্মীয় সংগীত ও ভক্তিমূলক পরিবেশনায় শোভাযাত্রাটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, ধর্মীয় সংগীত ও ভক্তদের জয়ধ্বনিতে শোভাযাত্রাজুড়ে সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন ও পবিত্র পরিবেশ। ভক্তদের কণ্ঠে উচ্চারিত হয় ‘জয় শ্রীকৃষ্ণ’, ‘হরে কৃষ্ণ’ সহ নানা ধর্মীয় জয়ধ্বনি। শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া ভক্তদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ ও প্রাণচাঞ্চল্য। শিশু-কিশোরদের উপস্থিতি এবং কৃষ্ণ-রাধার সাজে সজ্জিত শিশুদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা শোভাযাত্রায় যোগ করে ভিন্ন মাত্রা।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কুমিল্লা মহানগর শাখার আহবায়ক ও শ্রী শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটি কুমিল্লা’র আহবায়ক শ্রী শ্যামল কৃষ্ণ সাহা’র সভাপতিত্বে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার শুভ উদ্বোধন করেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হাজী আমিন-উর রশিদ ইয়াছিন। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি শ্রীকৃষ্ণের জীবনাদর্শ ও দর্শনের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, শ্রীকৃষ্ণের শিক্ষা সত্য, ন্যায়, মানবতা, কর্তব্যবোধ ও শান্তির পথে চলার অনুপ্রেরণা দেয়। অন্যায়-অসত্যের বিরুদ্ধে ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠার যে চেতনা শ্রীকৃষ্ণের জীবন ও দর্শনে রয়েছে, তা ব্যক্তি ও সমাজজীবনে ধারণ করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার—এই চেতনাকে ধারণ করে যুগ যুগ ধরে এ দেশের মানুষ পরস্পরের ধর্মীয় উৎসব ও আনন্দে অংশ নিয়ে আসছে। এই সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ, মানবিক ও সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। জন্মাষ্টমীর এই পবিত্র দিনে তিনি দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও মানুষের কল্যাণ কামনা করেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসূফ মোল্লা টিপু, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ রোজী আকতার।

ওই শোভাযাত্রায় অংশ নেন- বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি চন্দন কুমার রায়, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ তাপস কুমার বকসী ও আইসিটি সম্পাদক এডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ কুমিল্লা মহানগর শাখার আহবায়ক শ্রী কমল চন্দ খোকন, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র সরকার, আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) কুমিল্লা জগন্নাথপুর শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের মন্দির কমিটির সভাপতি সুদর্শন জগন্নাথ দাস ব্রহ্মচারী ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্রীমান মৃত্যুঞ্জয় যুধিষ্ঠি দাস ব্রহ্মচারী, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কুমিল্লা মহানগর শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি শ্রী অচিন্ত্য দাশ টিটু, সাধারণ সম্পাদক পিংকু চন্দ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশীষ দাস, মহেশাঙ্গণ শ্রীশ্রী লোকনাথ স্মৃতি তর্পণ সংঘের সাধারণ সম্পাদক হারাধন ভৌমিক, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি ডাঃ মধুসূদন রায়, নগরীর ছাতিপট্টি নৃসিংহ বিগ্রহ মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি প্রদীপ কুমার সাহা, ত্রিশূল উপদেষ্টা ড. বিশ্বজিৎ দেব ও এডভোকেট স্বর্ণকমল নন্দী পলাশ, রামনবমী উদযাপন কমিটির সভাপতি কিশোর দাস, জাগো হিন্দু পরিষদ কুমিল্লার সভাপতি সাগর দাস, ত্রিশূল সাধারণ সম্পাদক অনন্য ভৌমিক প্রমুখ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন কুমিল্লার সনাতনী বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।

অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীর ধর্মীয়, সামাজিক ও মানবিক তাৎপর্য তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, শ্রীকৃষ্ণের জীবন ও দর্শনের মধ্যে সত্য, ন্যায়, কর্তব্য, মানবতা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার যে শিক্ষা রয়েছে, তা সর্বজনীন। বর্তমান সমাজে হিংসা, বিদ্বেষ ও বিভাজন পরিহার করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করার আহ্বান জানান তাঁরা। অতিথিরা আরও বলেন, কুমিল্লা দীর্ঘদিন ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের ঐতিহ্য ধারণ করে আসছে। বিভিন্ন ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মধ্য দিয়ে একে অপরের উৎসবে অংশ নিয়ে আসছেন। জন্মাষ্টমীর এই বর্ণাঢ্য আয়োজন সেই সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন শ্রীশ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটি কুমিল্লার যুগ্ম আহ্বায়ক শ্রী সঞ্জিত দেবনাথ এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক শ্রী সুব্রত চৌধুরী তপু। তাঁরা বলেন, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সত্য, ন্যায়, প্রেম, মানবতা ও নৈতিকতার পথে চলার অনুপ্রেরণার দিন। শ্রীকৃষ্ণের আদর্শকে ধারণ করে সমাজ থেকে অন্যায়, অসত্য, হিংসা ও বিদ্বেষ দূর করে মানুষের মধ্যে ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করতে হবে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কমিটির সদস্য সচিব দিলীপ কুমার নাগ কানাই।

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া ভক্তদের অনেকেই বলেন, এই শোভাযাত্রা তাঁদের কাছে শুধু একটি ধর্মীয় আয়োজন নয়; এটি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতি তাঁদের গভীর ভক্তি, ভালোবাসা ও আত্মিক টানের বহিঃপ্রকাশ। দীর্ঘদিন পর এমন প্রাণবন্ত আয়োজন তাঁদের হৃদয়ে আনন্দের সঞ্চার করেছে। শোভাযাত্রায় নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর ও তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। কারও হাতে ছিল শ্রীকৃষ্ণের পতাকা, কারও হাতে ধর্মীয় প্রতীক, আবার অনেকের পরনে ছিল ঐতিহ্যবাহী পোশাক। কীর্তনের তালে তালে ভক্তদের নৃত্য, শঙ্খের ধ্বনি ও উলুধ্বনিতে পুরো নগরী যেন এক ভক্তিময় আবহে আবিষ্ট হয়ে ওঠে। কোথাও কৃষ্ণের বাল্যলীলা, কোথাও রাধা-কৃষ্ণের প্রতীকী উপস্থাপনা, আবার কোথাও ধর্মীয় সংগীত ও কীর্তনের মাধ্যমে শ্রীকৃষ্ণের মহিমা তুলে ধরা হয়। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে নগরবাসীও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা উপভোগ করেন। অনেকেই মোবাইল ফোনে শোভাযাত্রার দৃশ্য ধারণ করেন। শিশুদের উচ্ছ্বাস, নারীদের উলুধ্বনি এবং ভক্তদের জয়ধ্বনিতে পুরো পরিবেশ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও আবেগঘন। শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী মূলত অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায় প্রতিষ্ঠা, অশুভের বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয় এবং মানবতার পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান। তাই এই উৎসবের মাধ্যমে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ আরও বৃদ্ধি পাক—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন আয়োজক ও ভক্তরা। তাঁরা বলেন, বর্তমান সময়ে মানুষের মধ্যে বিভেদ ও বিদ্বেষের পরিবর্তে ভালোবাসা ও মানবিকতার চর্চা বাড়ানো জরুরি। শ্রীকৃষ্ণের বাণী ও জীবনাদর্শ সেই মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পথ দেখায়। দিনব্যাপী ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচিকে ঘিরে কুমিল্লা নগরীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই অনুষ্ঠানে অংশ নেন। প্রবীণদের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি জন্মাষ্টমীর আয়োজনকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত। একদিকে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, অন্যদিকে উৎসবের আনন্দ—দুইয়ের অপূর্ব সমন্বয়ে কুমিল্লার জন্মাষ্টমী মহোৎসব হয়ে ওঠে সর্বজনীন আনন্দের উপলক্ষ। সবশেষে ভক্তদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় শান্তি ও সম্প্রীতির প্রত্যাশা। তাঁদের বিশ্বাস, শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ অনুসরণ করে সত্য ও ন্যায়ের পথে চললে সমাজ থেকে অন্যায়, হিংসা ও বিদ্বেষ দূর করা সম্ভব। মানুষের মধ্যে গড়ে উঠবে ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন। শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, কীর্তনের সুর আর ‘জয় শ্রীকৃষ্ণ’ ধ্বনিতে মুখরিত কুমিল্লা যেন এদিন একসঙ্গে উচ্চারণ করেছে—শান্তির জয়, সম্প্রীতির জয়, মানবতার জয়।




মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবীর জেনারেল (অবঃ)এমএজি ওসমানীর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে

মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবীর জেনারেল (অবঃ)এমএজি ওসমানীর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে

হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজঃ বঙ্গবীর এমএজি ওসমানীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে গত রবিবার,৩০ আগস্ট ২০২৬,বাংলাদেশ সময় ১১টায় এবং নিউইয়র্ক অপরাহ্নে ১টায়।খবর আইবিএননিউজ ।এতে সভাপতিত্ব করেন আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের আহবায়ক ও গবেষক এডভোকেট এএনএম ঈসা ও পরিচালনা করেন আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব এবং সভার স্পীকার এমএ রউফ ।সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক,যুক্তরাজ্য এর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এর সাবেক শিক্ষক,অধ্যাপক ড.মনিরুজ্জামান খান।বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) নাজমুল গনী, মেজর ইমরান মিয়া, জাতীয় তরুণ সংঘের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ফজলুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুর রহমান, জালাল উদ্দিন, বাংলাদেশ আজাদ পার্টির প্রধান উপদেষ্টা হারুনুর রশিদ খান, আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের অন্যতম উপদেষ্টা সিনিয়র সাংবাদিক এবং লায়ন হাকিকুল ইসলাম খোকন,ফ্রান্স প্রতিনিধি মির্জা সুমন, গাজীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল ওহাব রিংকু, ইসমাইল খান, আমিনুর রশিদ ইউকে এবং ফজলুল করিমসহ বিভিন্ন দেশ থেকে যুক্ত নেতৃবৃন্দ।

“বঙ্গবীর ওসমানীর ঐতিহাসিক মর্যাদা রক্ষা করতে হবে” — অ্যাডভোকেট এএনএম ইসা

সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট এএনএম ইসা বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে জেনারেল এমএজি ওসমানীর ভূমিকা স্বতন্ত্র ও ঐতিহাসিক। তাঁর নামের সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত “বঙ্গবীর” উপাধি বাংলাদেশের মানুষের স্মৃতি, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং জাতীয় সম্মানের সঙ্গে যুক্ত।

তিনি বলেন, ইতিহাসের স্বীকৃত উপাধি ও মর্যাদা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা উচিত নয়। কারও ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা বা রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের পরিচয় ও মর্যাদাকে অস্পষ্ট করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিভ্রান্ত হবে।

তিনি বলেন,”ইতিহাস যার যে মর্যাদা দিয়েছে, সেই মর্যাদা তাকে দিতে হবে। ওসমানীর ঐতিহাসিক অবদানকে ছোট করা যেমন অন্যায়, তেমনি তাঁর স্বীকৃত পরিচয়কে নিয়ে অপ্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করাও সমীচীন নয়।”

অ্যাডভোকেট এএনএম ইসা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার মেজর এম এ জলিলের বহুল আলোচিত বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ শুধু একটি পতাকা বা ভূখণ্ড অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতাও নিশ্চিত করতে হয়।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে হলে সংসদ, বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর করতে হবে।
“রাষ্ট্র ব্যর্থ হওয়ার বহু লক্ষণ বাংলাদেশে দৃশ্যমান” — ড. মনিরুজ্জামান খান

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মনিরুজ্জামান খান বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করেন।

তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্র ধীরে ধীরে দুর্বল বা ব্যর্থ হওয়ার পথে গেলে সাধারণত প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়, আইনের শাসন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়, জবাবদিহি কমে যায়, অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়ে এবং নাগরিকদের আস্থা নষ্ট হয়। তাঁর মতে, বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় এসব বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় প্রবাসী বাংলাদেশিরা অর্থ, জনমত, কূটনৈতিক প্রচার এবং নানাভাবে দেশের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। আজকের বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালী করতেও প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সংগঠিত ভূমিকা প্রয়োজন।

দীর্ঘ বক্তব্যে তিনি পাঁচটি পর্যায়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার একটি ধারণা তুলে ধরেন। তিনি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা এবং জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) নাজমুল গনী মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, জাতীয় নেতৃত্বের মূল্যায়ন এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ইতিহাসকে রাজনৈতিক সুবিধা অনুযায়ী পরিবর্তন না করে গবেষণা, দলিল, প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য এবং রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে হবে।

“আশা হারালে চলবে না” — হারুনুর রশিদ খান

বাংলাদেশ আজাদ পার্টির প্রধান উপদেষ্টা হারুনুর রশিদ খান বলেন, দেশের বর্তমান সমস্যা যত কঠিনই হোক, আশা ছেড়ে দিলে চলবে না।

তিনি বলেন,
“স্বাধীনতার যে স্বপ্ন নিয়ে মানুষ জীবন দিয়েছে, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য আমাদের কাজ চালিয়ে যেতে হবে। হতাশা কোনো জাতিকে এগিয়ে নিতে পারে না।”

“স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ছিল অনেক বড়” — বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুর রহমান

বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুর রহমান বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার সময় তাঁদের প্রত্যাশা ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।

তিনি ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের প্রসঙ্গও তুলে ধরে বলেন, মানুষ অনেক আশা নিয়ে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল। কিন্তু আন্দোলনের লক্ষ্য ও সুফল জনগণের কাছে কতটা পৌঁছেছে, তা নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা দরকার।

তিনি বলেন, কোনো আন্দোলনের প্রকৃত সাফল্য শুধু ক্ষমতার পরিবর্তনে নয়; বরং রাষ্ট্রীয় কাঠামো, সুশাসন, জবাবদিহি এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার মধ্যে নিহিত।

“ওসমানীকে যথাযথ মূল্যায়ন না করায় জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে” — ফজলুল হক

জাতীয় তরুণ সংঘের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ফজলুল হক বলেন, জেনারেল এম এ জি ওসমানীর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ তাঁর হয়েছিল।

তিনি বলেন, ওসমানীর নেতৃত্ব, দেশপ্রেম, শৃঙ্খলাবোধ এবং রাষ্ট্রচিন্তা থেকে নতুন প্রজন্মের অনেক কিছু শেখার আছে।

তিনি অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পর ওসমানীকে তাঁর অবদানের তুলনায় যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি।

ফজলুল হক অ্যাডভোকেট এএনএম ইসার দীর্ঘদিনের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার ও সংসদ সদস্যদের স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, সংসদকে কার্যকর করতে হলে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের বিবেক ও নির্বাচনী এলাকার মানুষের স্বার্থ অনুযায়ী কথা বলার সুযোগ থাকতে হবে।

তিনি সবাইকে সংসদকে আরও স্বাধীন, কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করার আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি সংগঠনের উপদেষ্টা ও সিনিয়র সাংবাদিক এবং লায়ন হাকিকুল ইসলাম খোকন বলেন,মহান মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবীর জেনারেল (অবঃ)এমএজি ওসমানীর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে ।তিনি আরো বলেন,“ইতিহাসের যথাযথ মূল্যায়ন, স্বাধীন সংসদ ও প্রবাসীদের অধিকার নিশ্চিত না হলে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়”।
“ভারতকে বন্ধু চাই, প্রভু বা শত্রু নয়” — এমএ রউফ

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সচিব এমএ রউফ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন,

“ভারতকে আমরা বন্ধু হিসেবে দেখতে চাই; প্রভু হিসেবে নয়, আবার শত্রু হিসেবেও নয়।”

তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব প্রয়োজন, তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে সার্বভৌমত্ব, ন্যায্যতা, পারস্পরিক সম্মান ও উভয় দেশের জনগণের স্বার্থের ভিত্তিতে।

“ওসমানীর অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে যথেষ্টভাবে পৌঁছাচ্ছে না” — মির্জা সুমন

ফ্রান্স থেকে যুক্ত মির্জা সুমন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক হিসেবে জেনারেল ওসমানীর ভূমিকা বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলেও তাঁর কর্ম, চিন্তা ও রাজনৈতিক দর্শন নতুন প্রজন্মের কাছে প্রয়োজনীয় মাত্রায় তুলে ধরা হচ্ছে না।

তিনি বলেন, এমনকি তাঁর ঐতিহাসিক উপাধি ও পরিচয় নিয়েও বিতর্ক তৈরি হওয়া দুঃখজনক।

“যে জাতি কৃতজ্ঞতা জানে না, সে জাতি এগোতে পারে না” — জালাল উদ্দিন

জালাল উদ্দিন বলেন, একটি জাতির নৈতিক শক্তির অন্যতম ভিত্তি হচ্ছে তার ইতিহাসের প্রতি কৃতজ্ঞতা।

তিনি বলেন,
“যে জাতি তার ত্যাগী মানুষ, মুক্তিযোদ্ধা ও জাতীয় বীরদের অবদান স্বীকার করতে জানে না, সেই জাতির পক্ষে স্থায়ী উন্নতি অর্জন করা কঠিন।”

তিনি ইতিহাসের সঠিক সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের নির্ভরযোগ্য ইতিহাস শেখানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ছয় দফা দাবির প্রতি সমর্থনের আহ্বান

আলোচনায় আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের চলমান ছয় দফা দাবি নিয়েও আলোচনা হয়।

সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান শুধু বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন, ব্যবসা-বাণিজ্য, সামাজিক উন্নয়ন এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অবদান রয়েছে।

তাই প্রবাসীদের নিরাপত্তা, বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যয় হ্রাস, দক্ষতা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ, কল্যাণ তহবিল, দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক নিরাপত্তা এবং জাতীয় নীতিনির্ধারণে যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা জাতীয় স্বার্থের অংশ বলেও বক্তারা মত দেন।

বক্তারা বলেন, প্রবাসীদের দাবি কোনো একটি সংগঠনের দাবি হিসেবে না দেখে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কোটি প্রবাসী পরিবারের ভবিষ্যতের প্রশ্ন হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

মতভিন্নতা নয়, জাতীয় স্বার্থে ঐক্যের আহ্বান

সভায় বক্তা গন বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ কোনো একটি রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর একক সম্পত্তি নয়। মুক্তিযুদ্ধের সকল সংগঠক, যোদ্ধা, প্রবাসী সহায়ক, শহীদ ও সাধারণ মানুষের অবদান যথাযথভাবে স্বীকার করতে হবে।

তাঁরা রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থ, গণতন্ত্র, আইনের শাসন, সংসদের কার্যকারিতা, দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থা এবং প্রবাসীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

দোয়া ও আন্তর্জাতিক মহাসম্মেলনের ঘোষণা

সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে অ্যাডভোকেট এ এন এম ইসা আলোচনায় অংশগ্রহণকারী সকল অতিথি, বক্তা ও দর্শক-শ্রোতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, কোনো বক্তব্যে অনিচ্ছাকৃত ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে সবাই যেন ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেন।

দেশ, জাতি, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং মানবকল্যাণের উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত এ সভায় ব্যয় করা সময়টুকু আল্লাহ যেন ইবাদত ও সৎকর্ম হিসেবে কবুল করেন, সে জন্য তিনি দোয়া কামনা করেন।

সভা শেষে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সচিব এম এ রউফ ঘোষণা করেন যে, আগামী ২৩ নভেম্বর ২০২৬ আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের আন্তর্জাতিক মহাসম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত রেমিট্যান্স যোদ্ধা, সংগঠক, সমাজকর্মী, পেশাজীবী এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন ও প্রবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সকলকে এ উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।সভার শুরুতে ১৯৫২-এর মহান ভাষা আন্দোলন ,১৯৭১-এর মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধসহ আজ পর্যন্ত সকল গনতন্ত্রীক আন্দোলনে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে একমিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয় ।




নিউইয়র্কে ৪০তম ফোবানা সম্মেলনের উদ্বোধন শুক্রবার

নিউইয়র্কে ৪০তম ফোবানা সম্মেলনের উদ্বোধন শুক্রবার,৪ সেপ্টেম্বর

হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজঃ ঐতিহাসিক ৪০তম ফোবানা সম্মেলন শুক্রবার,৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,উদ্বোধন করা হবে নিউইর্য়কের কুইন্স এর লংআইল‍্যান্ড সিটির ইভানজেল ক্রিশ্চিয়ান সেন্টারে ।লেবার ডে উইক এন্ড ডে অনুষ্ঠিতব্য ৪০তম ফোবানা সম্মেলন তিন দিনব্যাপী শুক্রবার,শনিবার ও রবিবার,৪,৫ এবং ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,চলবে বিভিন্ন অনুষ্ঠান মালা চুরান্ত করেছে আয়োজকগন।এবারের ঐতিহাসিক ফোবানার প্রশংসনীয় দিক হচ্ছে এই প্রথম স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে উৎসর্গ করে এবারের সম্মেলন করা হচ্ছে ।আয়োজক হিসেবে রয়েছে এনআরবি অ্যাসোসিয়েশন, ইউএসএ। ফোবানা (Federation of Bangladeshi Associations in North America) উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশি সংগঠনগুলোর বৃহত্তম ফেডারেশন। চার দশকের এই ঐতিহ্যবাহী সম্মেলনে হোস্ট কমিটির গুরুত্বপূর্ণ প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের সঙ্গে যারা দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার আরেকটি মাইলফলক স্থাপন করলেন এবারের সম্মেলনের আয়োজক গন।নিউজ পোর্টাল জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ জোবায়ের এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ সিনিয়র সাংবাদিক ও লায়ন হাকিকুল ইসলাম খোকনকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সিনিয়র উপদেষ্টা নির্বাচিত হওয়ায় ।তারা মনে করেন“সিনিয়র সাংবাদিক ও লায়ন হাকিকুল ইসলাম খোকনের ৪০তম ফোবানা সম্মেলন সফলভাবে সম্পন্ন করতে তার সহযোগিতা এবং প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের স্বার্থ আরও সুরক্ষিত হবে। আমরা তার এই দায়িত্ব পালনে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সাফল্য কামনা করি।”খবর আইবিএননিউজ ।
ফোবানার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান উপদেষ্টা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলা একাডেমি একুশে পদক বিজয়ী অথর ড.নূরান নবী,
ফোবানা সেন্ট্রাল কমিটির চেয়ারম্যান ও কমিউনিটি অ্যাকটিভিস্ট জাকারিয়া চৌধুরী, এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি দেওয়ান মনিরুজ্জামান, উপ এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি ও সাংবাদিক সুব্রত তালুকদার,৪০তম ফোবানার কনভেনার নুরুল আমিন বাবু, মেম্বার সেক্রেটারি ও কবি মনজুর কাদের এবং চিফ প্যাট্রন শফিকুল আলমসহ সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে সম্মেলনটি আয়োজিত হচ্ছে।তাদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি । বাপসনিউজ জানিয়েছে শুক্রবার বিকাল ৭টায় ঐতিহাসিক ৪০তম ফোবানা সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা,বাংলা একাডেমির একুশে পদকপ্রাপ্ত অথর,লেখক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড.নুরান নবী।ঐতিহাসিক ৪০তম ফোবানা সম্মেলনের আয়োজকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে যুক্তরাষ্ট্র এবং দেশ ও প্রবাসের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক,পেশাজীবী,কবি,লেখক, শিল্পী-কলাকুশলী, সাংবাদিক, সাহিত্যিক এবং সর্ব স্তরের মানুষ এই সম্মেলনের সাফল্য কামনা করেছেন ।এবং ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ।




শিবপুরে তৃনমুল শিক্ষার্থীদের ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত

শিবপুরে তৃনমুল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়ার চিহ্নিত করন, ও বিকাশের লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত

আবু নাঈম রিপন :নরসিংদী প্রতিনিধি।।
নরসিংদীর শিবপুরে,তৃনমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় চিন্হিতকরন ও বিকাশের মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য আনয়নের লক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী শিবপুর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ ফারজানা ইয়াসমিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিবপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আলতাফ হোসেন প্রমুখ। এছাড়া বিদ্যালয়ের ক্রিড়া শিক্ষক রা উপস্থিত ছিলেন।




কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের পর হত্যা আসামির যাবজ্জীবন

কুমিল্লায় শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা আসামির যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক।।
কুমিল্লা প্রতিনিধি কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নাদিয়া সুলতানা ইমু (১০) কে ধর্ষণের পর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে মো. জসিম উদ্দিনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. আব্দুল হান্নান এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মো. জসিম উদ্দিন বরুড়া উপজেলার গজারিয়া গ্রামের মৃত মনোহর আলীর ছেলে। আদালত সূত্রে ও মামলার নথি থেকে জানা যায়- ঘটনার দুই দিন আগে নাদিয়া সুলতানা ইমু তার মায়ের খালা বাড়ি বরুড়া উপজেলার গজারিয়ায় বেড়াতে যায়। ২০২২ সালের ১৪ ডিসেম্বর সকাল ১০টার দিকে নাদিয়াকে তাজু মিয়ার মুদি দোকানে পাঠানো হয়। কিন্তু দোকান থেকে বাড়িতে ফিরে না আসায় স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে তার খোঁজ করতে থাকেন। পরে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বরুড়া উপজেলার রাড়ী গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ির উত্তর পাশে আব্দুল লতিফের বাঁশ বাগানে নাদিয়ার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তার গলায় ওড়না পেঁচানো ছিল। এ ঘটনায় নিহতের মা মঞ্জুমা বেগম (৪০) বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে বরুড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯ (২) ধারায় মামলা করেন। মামলাটি তদন্তকালে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ মো. জসিম উদ্দিনকে শনাক্ত করে আটক করে। পরে তদন্তে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের পর তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরবর্তীতে মামলাটি বিচারের জন্য আদালতে এলে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেন। রায়ে তাকে এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।




সরিষাবাড়ীতে পিংনা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত  

সরিষাবাড়ীতে পিংনা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত  

মাসুদ রানা  জামালপুর প্রতিনিধি:

জামালপুর সরিষাবাড়ীতে বৃহস্পতিবার বিকালে পিংনা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে উক্ত স্কুলের মাঠ প্রাঙ্গনে অভিভাবক সমাবেশ ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে ।

উক্ত অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন পিংনা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মোজাম্মেল হক এবং সঞ্চালনায় ছিলেন মোহাম্মদ হেদায়েতুল ইসলাম অপু  সদস্য ম্যানেজিং কমিটি পিংনা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ।

অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন পিংনা  বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ আবু হানিফা হানিফ ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আফরোজা আফসানা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরিষাবাড়ী ।

 বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার এ , টি , এম রুহুল আমিন বেগ , মোঃ আব্দুর রশিদ  সভাপতি ম্যানেজিং কমিটি শামসুন্নাহার উচ্চ বিদ্যালয় বাশুরিয়া, সরিষাবাড়ী  ।

এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন পিংনা ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ তালুকদার ও সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন অর রশিদ , ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান ও সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া , ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ তমাল ও সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব সহ দলের অন্যান্য নেতাকর্মী উক্ত বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক শিক্ষার্থী সহ অভিভাবকবৃন্দ  ।