শিবপুর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত
আবু নাঈম রিপন :নরসিংদী প্রতিনিধি।।
নরসিংদীর শিবপুর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে অভিভাবক সমাবেশ ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান, বৃহস্পতিবার (১ইং অক্টোবর) সকাল ১১:০০ টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা:ফারজানা ইয়াছমিনের সভাপতিত্বে,উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মনজুর এলাহী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব তোফাজ্জল হোসেন মাস্টার, শিবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হারিস রিকাবদার এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু ছালেক রিকাবদার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শিবপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ কহিনুর মিয়া এবং শিবপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আলতাফ হোসেন প্রমুখ।অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মানোন্নয়ন ও চরিত্র গঠনে শিক্ষক ও অভিভাবকদের যৌথ ভূমিকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বক্তারা বক্তব্য প্রদান করেন। অনুষ্ঠান শেষে কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরে লিগ্যাল অফিসার জাইমা রহমান
হাকিকুল ইসলাম খোকন,এমডি নাসির,বাপসনিউজঃ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি খলিলুর রহমানের দপ্তরে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান।খবর আইবিএননিউজ ।ইউএনজিএর ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দপ্তরের ওয়েবসাইটে জাইমা রহমানকে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সভাপতির কার্যালয়ে বিভিন্ন পদে মোট ৪০ জন কর্মকর্তা কাজ করছেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জন বাংলাদেশি।বাপসনিউজ এতথ্য জানতে পেরেছে ।বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের মধ্যে কূটনীতিক আবদুল আলিম দপ্তরের উপপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মোয়াজ্জেম হোসেন উপদেষ্টা ও প্রশাসনিক সহকারী হিসেবে কাজ করছেন। মফিজুল ইসলাম তথ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কৌশলগত পূর্বাভাসবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা এবং জাকির আহমেদ টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মো. রফিকুল আলম মোল্লা স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন।জাতিসংঘের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সভাপতির দপ্তরে জাইমা রহমান মূলত আইনি বিষয়গুলো দেখভাল করবেন।নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে নির্বাচিত হওয়ার পর গত ৮ সেপ্টেম্বর ইউএনজিএর ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন খলিলুর রহমান। তাঁর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের।জাইমা রহমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের একমাত্র মেয়ে। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাতনি।জাইমা লন্ডনের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটিতে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেন। পরে যুক্তরাজ্যে বার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করেন। ২০২৬ সালের জুনে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তির প্রথম ধাপের পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হন তিনি।
জাতিসংঘের সামনে বিক্ষোভে জেএসএফ বাংলাদেশ : নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করে জনগণের সরকার গঠন করতে হবে
হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজঃ
গত বৃহস্পতিবার,২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সামনে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সাথে বিক্ষোভ করে জাতীয় সম্মিলিত ফোরাম জেএসএফ-বাংলাদেশ ।বিক্ষোভে দেশ জাতি , ও জনগণের অধিকার নিয়ে সভাপতির বক্তব্য রাখেন সংগঠক হাজি আনোয়ার হোসেন লিটন । এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস যুক্তরাষ্ট্রের সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক ও লায়ন হাকিকুল ইসলাম খোকন ।অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন গোলাম মৌলা , খন্দকার নুরুল হুদা সহ অনেক নেতৃবৃন্দ। খবর আইবিএননিউজ ।বিক্ষোভে জাতীয় সম্মিলিত ফোরাম জেএসএফ বাংলাদেশ এর নেতৃবৃন্দ বলেন , এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি জানান ।। ‘‘বাংলাদেশ একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতে চলেছে। ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচার ও ধংসাত্মক এ সরকারকে বিদায় করে সাফল্য ও সমৃদ্ধের সত্যিকারের স্বাধীন বাংলাদেশ পূনর্গঠন করতে হবে। আমরা এমন একটি পরিবর্তন চাই, যা হবে নিজের, পরিবারের, সমাজের এবং দেশের জন্য কল্যাণকর। আর এ জন্য কঠোর পরিশ্রম করে এগিয়ে যেতে হবে।’ দুঃশাসন থেকে উৎপন্ন হয় গুম ও বিচার বহিভূর্ত হত্যার মত মানবতা বিরোধী হিংস্রতা। স্বৈরচারী সরকারের গড়ে তোলা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পরিচয়ে বিরোধী দলের প্রতিবাদী নেতা-কমীর্দেরকে তুলে নিয়ে যাওয়া এখন নিত্যকার ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরা বিরোধী দল ও মতের মানুষদের অল্পদিন অথবা দীর্ঘদিন কিংবা চিরদিনের জন্যে নিখোঁজ করে দেয়। বিক্ষোভে জেএসএফ বাংলাদেশ এর হাজি আনোয়ার হোসেন লিটন বলেন, সরকার বলছে তাদের অধীনে আগে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে এবার সুষ্ঠু হবে। কিন্তু আমরা দেখেছি এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি।নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা গত বছর নির্বাচনে ধানের শীষ ও স্বাধীনতা বিরুধী জামাতের পক্ষে ভোট চেয়ে প্রমান করেছে অবৈধ ইউনুস সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হয়নি ।অবৈধ ইউনুস সরকারের মেটিকোলাশ এর কবল থেকে জাতিকে মুক্ত করতে আমাদেরকে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এ দেশের মানুষ তাদের আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না।আমাদের দাবি একটাই- এই সরকারকে মানুষ আর ক্ষমতায় দেখতে চাইনা ।তাই এখনই সংসদ ভেঙে দিন। দলীয় লোক দিয়ে গঠিত নির্বাচন কমিশন বিলুপ্ত করুন।হাজি আনোয়ার হোসেন লিটন বলেন, দেখা যায় মন্ত্রী এমপিদের নামে জমি অধিগ্রহণের অভিযোগ উঠে, ব্যাংক থেকে বিশেষ বিবেচনায় হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়। এটা কোন দেশ? এই দেশে যদি আমরা পরিবর্তন না আনতে পারি, তাহলে এদেশের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে যাবে। দেশে গণতন্ত্রহীনতা, হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট ও বিরোধীমতের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন চলছে। জনগণের অধিকার জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। এ জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে। সারাবিশ্ব বলছে দেশে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে হবে। কিন্তু সরকার এটাকে আমলে নিচ্ছে না। তারা যে কোনো মূল্যে ক্ষমতায় থাকতে মরিয়া। বিক্ষোভে জেএসএফ বাংলাদেশ এর নেতৃবৃন্দ বলেন , কেউই দু’বারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে না এই বিধান আনা উচিত। ভোটের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে একদফার আন্দোলন চলছে। সেই আন্দোলনে গায়েবি মামলার আসামিদের তালিকায় কবরে থাকা মৃত ব্যক্তিরা আছেন। প্রবাসীদের ও নাম আছে আসামিদের তালিকায়। এটাই হচ্ছে বর্তমান বাংলাদেশ এর সঠিক তথ্য ।আওয়ামী লীগের লোকও এদেশের নাগরিক, বিএনপির লোকও এদেশের নাগরিক। প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা এদেশের নাগরিক। ডিসি-এসপিরা হলো সরকারের কর্মচারী। কিন্তু ক্ষমতাসীনেরা জনগণের বেতনের কর্মচারিকে বানিয়েছে দলীয় কর্মী। ডিসি-এসপিরা, ওসিরা এখন আওয়মীলীগের পক্ষে ভোট চায়। আজকে জনগণ রাস্তায় নেমে যে আওয়াজ তুলছে, তাকে রুখে দেয়ার ক্ষমতা এই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের নেই। তাদের এখন বিদায় নিতেই হবে। ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার অবৈধ পথে ক্ষমতায় এসে এদেশের জনগণের সকল অধিকারকে হরণ করেছে। গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। এই পরিস্থিতিতে জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার ফিরিয়ে আনার দাবি শুধুমাত্র কোন একটি রাজনৈতিক দলের নয়, এটা গোটা বাংলাদেশের জনগণের দাবি। আর নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দেশের জনগণ রাজপথে নেমে এসেছে। দেশের জনগণ পরিবর্তন চাই, এই স্বৈরাচারী বিএনপি সরকারের হাত থেকে জাতি মুক্তি চাই। তাই সরকারকে বলতে চাই, জনগণের সকল ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিন। বিদেশে ধর্ণা দিয়ে এবার আর লাভ হবে না। ভোট ডাকাতি করে বাংলাদেশের জনগণের সাথে এবার প্রতারণা করা যাবে না। তাই বিদেশিদের কাছে ধর্না নয়, তত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন অন্যথায় জনগণই আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে পতন নিশ্চিত করবে। বিক্ষোভে জেএসএফ বাংলাদেশ এর নেতৃবৃন্দ বলেন , তত্বাবধায়ক দাবিতে আওয়ামীলীগ লাগাতার হরতাল দিয়ে দেশ অচল করেছিল। জামায়াতকে নিয়ে একসাথে বৈঠক করে লাগাতার আন্দোলন করেছিল আওয়ামীলীগ। কিন্তু এখন তারা তত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে সংবিধানের দোহাই দিচ্ছে। অবিলম্বে সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করে তত্বাবধায়ক সরকার গঠন করে অবাধ-সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। জনগণ বর্তমান সরকারকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা দিয়ে বর্তমান সরকারকে বিদায় নিতে হবে। বিক্ষোভ সমাবেশে জেএসএফ বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দরা বলেন , সরকারের অযোগ্যতা, অক্ষমতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে জনগণ মানবেতর জীবনযাপন করছে। নিত্যপণ্যের মূল্য হুহু করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষের আয়ের সাথে ব্যয়ের সামজস্য নাই। এমনকি ডিম-আলুও আমদানি করার ব্যবস্থা হচ্ছে। রফতানি আয় প্রতিনিয়ত হ্রাস পাচ্ছে। আমদানিখাতে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া দেশে নতুন কোনো বিনিয়োগ হচ্ছে না। কাঁচামালের অভাবে ইতোমধ্যে অনেকগুলো কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন অর্ডারের অভাবে কয়েকশত গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে গেছে। বেকারদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। জনগণের বাঁচা-মরার লড়াই, এদিকে সরকারের কোনো মাথা ব্যথা নাই।দেশ বরেণ্য আলেম ওলামাদের দীর্ঘদিন থেকে কারাগারে আটক রেখেছে। আমরা অবিলম্বে শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সহ সকল আলেম ওলামাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানাচ্ছি। বিক্ষোভে জেএসএফ বাংলাদেশ এর নেতৃবৃন্দ আরো বলেন , সরকার আইন আদালতকে ব্যবহার করে বিরোধী রাজনীতিবিদদের সাজা দিয়ে নির্বাচনে অযোগ্য করে ছিল। কোর্টে আইনজীবীদেরকে জেরা করার সময় দেওয়া হচ্ছে না। কোনো কোনো আসামির আইনজীবীকে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। মামলার সাক্ষীদের বিশেষ ব্যবস্থায় স্টেনোগ্রাফারদের মাধ্যমে জবানবন্দী টাইপ করা হয়েছিল ।নিয়ম হচ্ছে উন্মুক্ত আদালতে সাক্ষী জবানবন্দী দেবেন, সেটিই রেকর্ড হবে। কিন্তু সরকারের নির্দেশে এসবের ব্যত্যয় ঘটিয়ে ঢাকার আদালগুলোতে বিচারকার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এতেই প্রমাণিত যে, বিএনপির পায়ের তলায় মাটি নেই, এটা তারা ভালো মতোই বুঝে গেছেন। তাই এখন বিরোধীদের আটকিয়ে ষড়যন্ত্র করে আবারো কিভাবে ক্ষমতায় থাকা যায় সেই অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ভোটারবিহীন নির্বাচনের কথা তুলে ধরে বক্তারা বলেন , ক্ষমতাসীনেরা বলছে গত নির্বাচনে ব্যালট বাক্স স্বচ্ছ এবং জাল ভোট দিয়ে বাক্স পূরণের কোনো সুযোগ ছিলনা ।কিন্তু ভোটের আগের রাতেই ভোট হয়ে যায়। ক্ষমতাসীন সরকারের অনেক এমপি মন্ত্রীদের নিজের ভোট নিজেই দেন নাই। তারা খুন-গুম-নির্যাতন করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। ছয় মাসে তাদের ক্ষমতার লোভ যায় না। হিটলার, মুসোলিনি, আইয়ুব খান কেউ টিকে থাকতে পারে নাই। সবাইকেই ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছে। তাদের সাজা পেতে হয়েছে। নিম্ন ও উচ্চ আদালত এখন সরকারের দমন নিপীড়নের হাতিয়ার। এই হাতিয়ারকে ঠিক রাখতে বিভিন্ন আইন সংশোধন করা হচ্ছে। বিক্ষোভে জেএসএফ বাংলাদেশ এর নেতৃবৃন্দ আরো বলেন , কারো কোনো মতামত না নিয়ে সরকার বিভিন্ন আইন পরিবর্তন করছে। এটি ‘নতুন বোতলে পুরোনো মদ’। ফ্যাসিবাদী সরকার সাংবাদিক ও দেশের জনগণকে ভয়ে রাখতে আইন প্রণয়ন করছে। আমরা আইন বাতিল চাই। বক্তারা বলেন, মানুষের ভোটের অধিকার, মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে সরকার নব্য বাকশাল কায়েম করেছে। বর্তমান সরকার ফ্যাসিবাদী সরকার। ফ্যাসিবাদী তত্ত্বকে টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন আইন করেছে। বিক্ষোভে জেএসএফ বাংলাদেশ এর নেতৃবৃন্দ আরো বলেন , ১৯৮৬ সালে স্বৈরাচার এরশাদের শাসনামলে চট্টগ্রামের জনসভায় আওয়ামী লীগ সরকারপ্রধান বলেছিলেন যে, এরশাদের অধীনে যারা নির্বাচনে যাবে তারা জাতীয় বেঈমান হিসেবে চিহ্নিত হবে। অথচ তিনিই এরশাদের সঙ্গে আঁতাত করে নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।তখন সরকারের নেতারা বলে বেড়তেমনি যে, তারা দেশকে উন্নয়নের জোয়ারে ভাসিয়ে দিয়েছেন। তারা যদি উন্নয়ন করে থাকে তাহলে এত ভয় কেন। উন্নয়ন করে থাকলে তো অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগই জয়ী হবার কথা ।প্রকৃত অবস্থা হচ্ছে, তারা উন্নয়নের নামে জনগণের অর্থ লুট করেছিল ।জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল বর্তমান সরকারও তাই করছে ।
ঢাকায় বাবরি মসজিদ নামে মসজিদ তৈরির উদ্যোগ ধর্ম ব্যবসার নতুন ফাঁদ এবং ইসলামের নামে ধোকা।
– মঈনউদ্দিন মনি, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি।
ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন ঢাকায় মসজিদের অভাব নাই, মাদ্রাসার অভাব নাই, মুসল্লির অভাব নাই, জিহাদের নামে শয়তান জংগীবাদ বোমাবাজ খুনি সন্ত্রাসীর অভাব নাই। তবে ঈমানদার নাই- মুসলিম নাই- মানবিক মানুষ নাই- মুসলিম নামে আছে কাফের ওয়াবি- কাফের মদুদি- কাফের সালাফি – কাফের মোয়াবিয়ার দল- আছে কলেমার চেতনার বিপরীত তথা ঈমানের বিপরীত বস্তুবাদি মতবাদি কোটি কোটি অমানুষ। এখন মসজিদ করলে ইসলাম কায়েম হবেনা বরং ইসলাম ধ্বংসাত্মক কুফরি জংগীবাদের আরেকটা আস্তানা হবে। নাউজুবিল্লাহ !আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, বাংলাদেশ ইন্ডিয়া পাকিস্তান উপমহাদেশ সারা দুনিয়াকে একক ধর্ম ও একক জাতীয়তাবাদ ভিত্তিক একক গোষ্ঠীবাদি স্বৈররাজনীতির বিষফল একক গোষ্ঠীবাদি স্বৈরদস্যুতান্ত্রিক স্বৈররাষ্ট্র মুলুকিয়ত থেকে মুক্ত করে সত্য ও মানবতার মুক্তির উৎস রাহমাতাল্লিল আলামীন প্রাণাধিক প্রিয়নবীর দেয়া সব ধর্মের সব মত পথের সব মানুষের সমান নিরাপত্তা-স্বাধীনতা-অধিকার ভিত্তিক বৈষম্যহীন অসাম্প্রদায়িক সর্বজনীন মানবতার রাষ্ট্র ও মানবতার দুনিয়া করতে পারলেই সব মানুষের কল্যাণের আসল ইসলাম কায়েম হবে- খুন- জুলুম- রাষ্ট্রীয়সন্ত্রাস- ধ্বংসযজ্ঞ- স্বৈরদস্যুতা দূর হবেএবং সত্য ও মানবতা মুক্তি পাবে। #আল্লামা ইমাম হায়াত।চেয়ারম্যান : ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ।
আসন্ন দুর্গোৎসব উপলক্ষে কুমিল্লায় সনাতনী সমাজের সঙ্গে মনিরুল হক চৌধুরীর মতবিনিময়
তাপস চন্দ্র সরকার, কুমিল্লা।।
আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে কুমিল্লার সনাতনী সমাজের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল হক চৌধুরীর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেল পৌনে ৬টায় নগরীর মুন্সেফবাড়িতে অবস্থিত মনির টাওয়ারে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন- কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাশিয়াত আকতার, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজন চন্দ্র রায়, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু, কুমিল্লা ওয়াসার চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ তাপস কুমার বকসী, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কুমিল্লা মহানগর শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি অচিন্ত দাশ টিটু ও সাংগঠনিক সম্পাদক সুব্রত চৌধুরী তপু প্রমুখ। এসময় উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আখতার হোসাইন, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র সরকার, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কুমিল্লা মহানগর শাখার সভাপতি অমল দত্ত ও সাধারণ সম্পাদক পিংকু চন্দ, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ কুমিল্লা মহানগর শাখার আহ্বায়ক কমল চন্দ্র খোকন, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা শাখার সভাপতি যোগেশ সরকার, ব্রাহ্মণ সংসদ কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি চঞ্চল চক্রবর্তী, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কুমিল্লা মহানগর শাখার সদস্য সচিব সঞ্জিত দেবনাথ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কুমিল্লা মহানগর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিংকু ঘোষ ও আশীষ দাস, জাগো হিন্দু পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি-সম্পাদক সাগর দাশসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ কুমিল্লা জেলা ও মহানগর শাখা, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কুমিল্লা জেলা ও মহানগর শাখা এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কুমিল্লা মহানগর শাখার অন্যান্য নেতৃবৃন্দসহ কুমিল্লার সনাতনী সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন- বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কুমিল্লা মহানগর শাখার সভাপতি শ্রী শ্যামল কৃষ্ণ সাহা। সভাটি সঞ্চালনা করেন- বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কুমিল্লা মহানগর শাখার সহ-সভাপতি দিলীপ কুমার নাগ কানাই। সভায় বক্তারা জানান- এ বছর কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলায় ১৩১টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। গত বছরের মতো এবারও আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা। একইসঙ্গে পূজাকে ঘিরে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন- দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের কথা বিবেচনায় রেখে এখন থেকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এ লক্ষ্যে বিএনপি কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা ও মহানগর শাখার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়। পাশাপাশি প্রতিটি পূজামণ্ডপ ও এর আশপাশের এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। উল্লেখ্য, আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে পাঁচ দিনব্যাপী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ফাওকাল খ্রিষ্টান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিষদ ও উপ-কমিটির শপথ গ্রহণ
ক্রাইম রিপোর্টার বর্ষণ রোজারিও
ফাওকাল, ঢাকা:
ফাওকাল খ্রিষ্টান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের নবনির্বাচিত ব্যবস্থাপনা পরিষদ ও উপ-কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ ও শপথ বাক্য পাঠ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফাওকাল গির্জা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শপথ পাঠ করানো হয়।শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ফাওকাল গির্জার পাল পুরোহিত ফাদার চঞ্চল প্যারেরা। অনুষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা পরিষদের সভাপতি মিস্টার বাপ্পি পবিত্র করাইয়া, সহ-সভাপতি উজ্জল করাইয়া, সেক্রেটারি মানিক গোমেজ, ট্রেজারার বর্ষণ রোজারিওসহ ব্যবস্থাপনা পরিষদ ও উপ-কমিটির সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন।অনুষ্ঠানে ফাদার চঞ্চল প্যারেরা সমিতির পরিচালনা ও সদস্যদের প্রতি দায়িত্বশীলতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি সমিতির স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ঐক্য ও সদস্যদের কল্যাণে আন্তরিকভাবে কাজ করার জন্য নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।তিনি বলেন, সমিতির দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সদস্যদের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়টিও জড়িত। তাই সততা, নিষ্ঠা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।শপথ গ্রহণ শেষে নবনির্বাচিত ব্যবস্থাপনা পরিষদ ও উপ-কমিটির সদস্যরা সমিতির উন্নয়ন ও সদস্যদের কল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বদলগাছীতে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত
বুলবুল আহম্মেদ বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
নওগাঁর বদলগাছীতে বিনম্র শ্রদ্ধায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) প্রথম প্রহরে বদলগাছী উপজেলা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিনটি শুরু হয়। তারপর বেলা ১১ টায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব ইসরাত জাহান ছনির সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৪৮, নওগাঁ-৩ মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব ফজলে হুদা বাবুল। আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার ভূমি জনাব পলাশ উদ্দিন, উপজেলা কৃষি অফিসার জনাব সাবাব ফারহান ও প্রিন্ট-ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ সহ আরও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। আলোচনা সভার পর বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ এবং শেষে অনুষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান ছনির সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘটে।
আত্মশুদ্ধি ও মানসিক প্রশান্তির জন্য তীর্থ দর্শনে এড. তাপস পরিবার
নিজস্ব প্রতিবেদক
“চলো না ঘুরে আসি চন্দ্রনাথ ধাম” এ শ্লোগান সামনে রেখে শত ব্যস্ততার মাঝেও আত্মশুদ্ধি ও মানসিক প্রশান্তির জন্য সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ও পবিত্র তীর্থস্থান চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথধামে অন্যরকম একদিন কাঁটালেন কুমিল্লা আদালত অঙ্গনের পরিচিত মুখ এডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার ও তাঁর পরিবারবর্গ। গেলো ২০ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার দিনব্যাপী তীর্থধাম দর্শন করেন।ওই দিন সকাল ৯টায় শঙ্করমঠ ও মিশনে পৌঁছে ব্যাসপুকুরে স্নানশেষে ইকোপার্ক দিয়ে সিএনজিযোগে কলি যুগে শ্রীশ্রী চন্দ্রনাথ মন্দির @ চন্দ্রনাথধামে শিবলিঙ্গে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষে এ স্মৃতি ধরে রাখতে নিজেদের মতো করে সেলফি, গ্রুপ ছবি তুলে নিলো। এরপর মধ্যাহ্নে গুরুধাম চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ড শংকর মঠে প্রসাদ আস্বাদন করে কিছুসময় শংকর মঠ ও মিশনে বিশ্রাম শেষে সীতা মন্দির ও শ্রীশ্রী ভবানী মন্দির প্রদক্ষিণ করে সন্ধ্যায় শ্রীশ্রী বিশ্বনাথ মন্দিরের সন্ধ্যারতি দর্শন শেষে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে রাত পৌনে ১০টায় কালিয়াজুরী শহীদ মিনারে এসে পৌঁছি। তারপর সবাই সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে যার যার মতো করে বাসায় চলে যায়। সময় চলে যায়, তবে স্মৃতিগুলো থেকে যায় আজীবন। তেমনি চন্দ্রনাথ ধাম ভ্রমণের স্মৃতিগুলো মনের মণিকোঠায় থেকে যাবে আজীবন। হয়তো আবার স্মৃতিচারণা করে ঘুরে বেড়াব অন্য কোথাও। ভ্রমণ মানুষের মনকে করে প্রশস্ত, হৃদয়কে করে বিস্তৃত, আর আমাদের কল্পনার জগৎকে করে আরও সমৃদ্ধ। তাই বাস্তব জীবনে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য কিংবা সবকিছু থেকে নিজেকে কিছুটা সময়ের জন্য দূরে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনে ভ্রমণের কোন বিকল্প নেই। তাই আশা করছি আগামীতেও এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখবে। এই আয়োজনটি চারটি পরিবারের অনুষ্ঠিত একটি সফল মিলনমেলা। একদিনের তীর্থ ভ্রমণে অংশ নেন- কুমিল্লা আদালত অঙ্গনের পরিচিত মুখ এডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার ও তাঁর জীবন সঙ্গিনী রিতা রাণী মজুমদার, কন্যা অর্পিতা সরকার ও পুত্র অরন্য সরকার প্রিন্স এবং কালিয়াজুরী নিবাসী বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি হারাধন শীল ও তাঁর জীবন সঙ্গিনী সুচিত্রা রাণী শীল, চান্দিনা ডুমুরিয়া নিবাসী স্বপন চন্দ্র ভৌমিক ও তাঁর জীবন সঙ্গিনী মিনা রাণী মজুমদার, কন্যা তিথী রাণী ভৌমিক ও সুষ্মিতা ভৌমিক, পুত্র ত্রিনব ভৌমিক, শ্বাশুড়ি রত্না রানী মজুমদার এবং কালিয়াজুরী শীল বাড়ীর নিবাসী প্রান্তোষ চন্দ্র শীল ও তাঁর জীবন সঙ্গিনী, কন্যা অর্পিতা রায় ও আদিত্য শীল।তীর্থ ভ্রমণ: তীর্থ ভ্রমণ মানুষের জীবনে এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এটি কেবল ভ্রমণ নয় বরং আত্মশুদ্ধি ও মানসিক প্রশান্তির এক অনন্য মাধ্যম। যুগ যুগ ধরে মানুষ ধর্মীয় বিশ্বাস ও আত্মিক শান্তির খোঁজে বিভিন্ন তীর্থস্থানে ভ্রমণ করে আসছে। তীর্থ ভ্রমণের প্রধান উদ্দেশ্য হলো আত্মশুদ্ধি। মানুষ বিশ্বাস করে তীর্থস্থানে গিয়ে প্রার্থনা করলে পাপ মোচন হয় এবং মনে শান্তি আসে। দৈনন্দিন জীবনের ক্লান্তি, হতাশা ও মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে তীর্থ ভ্রমণ অত্যন্ত সহায়ক। ভক্তরা সেখানে উপবাস, প্রার্থনা ও ধ্যানের মাধ্যমে নিজেদের আত্মিক উন্নতির চেষ্টা করেন। তীর্থ ভ্রমণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা। দেশের নানা প্রান্ত থেকে আগত মানুষের সঙ্গে পরিচয় ঘটে, একে অপরের সংস্কৃতি ও জীবনধারা সম্পর্কে জানার সুযোগ মেলে। এতে মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহনশীলতা বৃদ্ধি পায়। তবে তীর্থ ভ্রমণের সময় কিছু দায়িত্ব পালন করা জরুরি। পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা, স্থানীয় নিয়মকানুন মেনে চলা এবং ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা আমাদের কর্তব্য। ভিড় বা অযথা বিশৃঙ্খলা তীর্থ ভ্রমণের পবিত্রতা নষ্ট করে। সবশেষ বলা যায়, তীর্থ ভ্রমণ মানুষের আত্মিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এটি মানুষকে নৈতিকতা, সংযম ও মানবিকতার পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে। সঠিক মনোভাব ও নিষ্ঠার সঙ্গে তীর্থ ভ্রমণ করলে জীবনে সত্যিকারের শান্তি ও তৃপ্তি লাভ করা যায়।
রাজশাহীতে অমর একুশে বইমেলার শুভারম্ভ
মোঃ মনোয়ার হোসেন , রাজশাহী প্রতিনিধি
রাজশাহীতে দুই দিনব্যাপী অমর একুশে বইমেলার শুভারম্ভ হয়েছে। ‘রাজশাহী রাইটার্স কালেকটিভ’ এর আয়োজনে দুই দিনব্যাপী এই বইমেলার আয়োজন করা হয়েছে।আজ শুক্রবার সকাল ১০ টায় নগরীর বাটার মোড়ে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া ও পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে এ মেলার উদ্বোধন হয়।বইমেলার আয়োজকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মহান ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণেই এই আয়োজন। এমন দিনে এই ভাষার কারিগরদের একটা সম্মিলন ঘটানোই আমাদের উদ্দেশ্য। দুই দিনব্যাপী আমরা বই, কবিতা ও আড্ডার মাধ্যমে এটিকে উদযাপন করতে চাই। এখানে রাজশাহীর স্থানীয় লেখক ও প্রকাশকের বইয়ের পাশাপাশি সারাদেশের বিভিন লেখক ও প্রকাশকের বই এবং কিছু দুর্লভ বইও প্রদর্শন করা হয়েছে।দুই দিনব্যাপী বইমেলাটি প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে।বইমেলার উদ্বোধন কালে ‘রাজশাহী রাইটার্স কালেক্টিভ’ এর সংগঠক ও এ অঞ্চলের কবি-সাহিত্যিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও মৎস্য সম্পদের অন্যতম প্রধান ভাণ্ডার হাওর অঞ্চল। অথচ প্রতিবছর আগাম বন্যা, ফসল রক্ষা বাঁধের দুর্বলতা এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে এখানকার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এই বাস্তবতায় হাওরের সার্বিক ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে পৃথক ‘হাওর বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ গঠনের দাবি নতুন করে সামনে এনেছেন অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু।সম্প্রতি এক বিশেষ বার্তায় তিনি বলেন, জাতীয় অর্থনীতিতে হাওরের অবদান অনস্বীকার্য। দিগন্তজোড়া বোরো ধান দেশের খাদ্য চাহিদার বড় অংশ পূরণ করে, পাশাপাশি সমৃদ্ধ মৎস্য সম্পদ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবুও দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিত উন্নয়ন কাঠামোর অভাবে এ অঞ্চল পিছিয়ে রয়েছে।তিনি উল্লেখ করেন, পাহাড়ি অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় থাকলেও কৃষিনির্ভর হাওরাঞ্চলের জন্য স্বতন্ত্র প্রশাসনিক কাঠামো নেই। ফলে উন্নয়ন কার্যক্রম বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে। একটি আলাদা মন্ত্রণালয় গঠিত হলে হাওরের কৃষি, মৎস্য, অবকাঠামো ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে।ফাইয়াজ হাসান বাবু আরও বলেন, হাওরবাসী বিশ্বাস করে তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার এই জনপদের উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সক্ষম। রাষ্ট্র সংস্কার ও সুষম উন্নয়নের যে রূপরেখা তিনি দিয়েছেন, তার আলোকে হাওরাঞ্চলের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র শিল্প, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিশেষায়িত মেডিকেল কলেজ এবং ফসল রক্ষা বাঁধের স্থায়ী সমাধান বাস্তবায়ন সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।অন্যদিকে, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান-এর দীর্ঘ রাজনৈতিক অবদান ও হাওরের অধিকার আদায়ে তাঁর ভূমিকার কথাও উল্লেখ করা হয়। তাঁকে মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব দেওয়া হলে হাওরের সুনির্দিষ্ট সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধান ও সমন্বিত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা সম্ভব হবে বলে দাবি করা হয়।অষ্টগ্রামসহ বৃহত্তর হাওরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—সরকার দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ জনপদকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। পৃথক মন্ত্রণালয় গঠিত হলে কৃষি ও মৎস্য সম্পদের আধুনিকায়ন এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে—এমনটাই এখন হাওরবাসীর দৃঢ় বিশ্বাস।