ছেলের মৃত্যুর ৪ ঘণ্টা পর মায়ের মৃত্যু, কটিয়াদীতে শোকে স্তব্ধ পুরো এলাকা
ফরহাদ হোসেন রাজ কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনার জন্ম দিয়েছে মা-ছেলের পরপর মৃত্যু। উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা ও সহশ্রাম ধুলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলতাফ উদ্দিন শাহীনের মৃত্যুর মাত্র চার ঘণ্টার ব্যবধানে মারা গেছেন তার মা জুবাইদা মনি। এ ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাত ২টার দিকে গাজীপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আলতাফ উদ্দিন শাহীন। তিনি ধুলদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত নানা কারণে তিনি গাজীপুরে অবস্থান করছিলেন। সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শাহীনের মৃত্যুর খবর গভীর রাতে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের মধ্যে নেমে আসে শোকের মাতম। প্রিয় সন্তানের মৃত্যুর সংবাদ শুনে ভেঙে পড়েন তার মা জুবাইদা মনি। এরপর রবিবার ভোর ৬টার দিকে তিনিও মারা যান। ছেলের মৃত্যুর মাত্র চার ঘণ্টার ব্যবধানে মায়ের মৃত্যু স্থানীয়দের নাড়িয়ে দিয়েছে।পরিবারের সদস্যদের ধারণা, সন্তানের মৃত্যুর গভীর শোক সহ্য করতে না পেরেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এলাকাবাসীও বলছেন, মা-ছেলের এই পরপর মৃত্যু যেন এক বিরল ও মর্মস্পর্শী ঘটনা, যা বহুদিন মানুষের স্মৃতিতে থেকে যাবে।শাহীনের ভায়রা শাহ আলম জানান, রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে শাহীন দীর্ঘদিন নিজ বাড়িতে নিয়মিত থাকতে পারতেন না। গাজীপুরে বসবাস করলেও সুযোগ পেলেই ছুটে আসতেন মায়ের কাছে। মায়ের সঙ্গে তার ছিল গভীর আবেগের সম্পর্ক। আর সেই সন্তানের মৃত্যুর খবরই শেষ পর্যন্ত মায়ের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে ধারণা পরিবারের।তিনি বলেন, “মায়ের সঙ্গে শাহীনের সম্পর্ক ছিল অন্যরকম। ছেলেকে নিয়ে তিনি সবসময় উদ্বিগ্ন থাকতেন। মৃত্যুর খবর শোনার পর থেকেই তিনি ভেঙে পড়েন। আমরা মনে করি, ছেলের শোকই তাকে কেড়ে নিয়েছে।”সহশ্রাম ধুলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, “ছেলের মৃত্যুর মাত্র চার ঘণ্টার ব্যবধানে মায়ের মৃত্যু সত্যিই অত্যন্ত বেদনাদায়ক। পুরো এলাকা শোকে মুহ্যমান। এমন ঘটনা সচরাচর দেখা যায় না।”এদিকে মা-ছেলের মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এটি শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো এলাকার জন্যই অপূরণীয় ক্ষতি।একই পরিবারের দুই সদস্যের এমন পরপর মৃত্যু যেন আবারও প্রমাণ করল—মায়ের সঙ্গে সন্তানের বন্ধন কতটা গভীর, কতটা অটুট। কখনো কখনো সেই ভালোবাসা মৃত্যুর সীমারেখাও অতিক্রম করে যায়।মা-ছেলের এই বিদায় কটিয়াদীর মানুষকে শোকাহত করেছে, আর রেখে গেছে এক বেদনাভারাক্রান্ত স্মৃতি।