নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য, আত্মহত্যার হুমকি দিয়েও ২২ শিক্ষার্থীর কেউ বসতে পারছে না ফাইনাল পরীক্ষায়
স্টাফ রিপোর্টার মোঃ জাকারিয়া হোসাইন
ভাঙ্গুরা পাবনা পাবনার ভাঙ্গুড়া মহিলা ডিগ্রী কলেজে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে সুযোগ না পেয়ে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছে ২২ শিক্ষার্থী। একাধিকবার নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়ায় এসব শিক্ষার্থীদেরকে ফরম পূরণের সুযোগ দেয়নি কলেজ কর্তৃপক্ষ। এতে গত মঙ্গলবার শিক্ষার্থীরা কলেজে গিয়ে আত্মহত্যার হুমকি দেয়। এমন একটি ভিডিও সন্ধ্যার দিকে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে দিনভর শিকক্ষার্থীরা কলেজ মাঠে অবস্থানের পর বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের নিকট গিয়েও কোনো সুরাহ না হওয়ায় তারা এ বছর ফাইনাল পরীক্ষায় বসতে পারছেন না। বরং উপজেলা প্রশাসন তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে গণমাধ্যকর্মীদের উপর দায় চাপিয়ে মুচলেখা নিয়ে বিদায় দিয়েছেন। ঘটনাটি ভাঙ্গুড়ার একটি আলোচিত ঘটনায় পরিনত হয়েছে।সূত্রে জানা যায়, গত জানুয়ারি মাসে নির্বাচনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অনেক শিক্ষার্থী একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়। এতে ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক একটি বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণের সুযোগ দেয়া হয়। পরবর্তীতে গত সপ্তাহে দুই বিষয়ে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের পুনরায় নির্বাচনী পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। প্রথম পরীক্ষার প্রশ্ন দিয়েই এই দ্বিতীয় নির্বাচনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণ করে ২৪ জন পরীক্ষার্থী। তবুও এর মধ্যে শুধু দুই জন শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়। অবশিষ্ট শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয়বারও অকৃতকার্য হয়। ফলে এসব শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ করতে দেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় এসব শিক্ষার্থীরা ফরম পূরণ করতে না পারলে আত্মহত্যা করবে বলে কলেজে গিয়ে হুমকি দিয়ে ওই দিন সারাদিন কলেজ মাঠ চত্বরে অবস্থান করেন। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ এসব শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে কলেজ ত্যাগ করেন বলে জানা যায়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাদের দাবী আদায়ে উপজেলা প্রশাসনের নিকট গিয়ে ফরম ফিলাপ করতে না দেওয়ার বিষয়টি জানান। পরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের নিকট থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বাধ্য করে বিষয়টি গণমাধ্যম কর্মীদের উপর দায় চাপিয়ে মুচলেকা নিয়ে বিদায় দেন।শিক্ষার্থীরা জানান, পরীক্ষা দিতে না পারলে পরিবার গ্রহণ করবে না তাদেরকে। সামাজিকভাবে অবহেলিত হবেন। তাই এমন হুমকি প্রদান করেছেন। এদিকে শিক্ষার্থীদের এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনরা চরম সমালোচনা করেন এসব শিক্ষার্থীদের নিয়ে।এ বিষয়ে কথা বলতে কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তফা কামালের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার মোবাইল নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়। এমনকি কলেজে গিয়েও কাউকে পাওয়া যায় নি।ঘটনার বিষয়ে ইউএনও(ভারপ্রাপ্ত) মিজানুর রহমান বলেন, নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী তার দপ্তরে গিয়েছিলেন তাদের বুঝিয়ে পরবর্তী বছরে পরীক্ষা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।