নিজস্ব প্রতিবেদক
“চলো না ঘুরে আসি চন্দ্রনাথ ধাম” এ শ্লোগান সামনে রেখে শত ব্যস্ততার মাঝেও আত্মশুদ্ধি ও মানসিক প্রশান্তির জন্য সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ও পবিত্র তীর্থস্থান চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথধামে অন্যরকম একদিন কাঁটালেন কুমিল্লা আদালত অঙ্গনের পরিচিত মুখ এডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার ও তাঁর পরিবারবর্গ। গেলো ২০ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার দিনব্যাপী তীর্থধাম দর্শন করেন।ওই দিন সকাল ৯টায় শঙ্করমঠ ও মিশনে পৌঁছে ব্যাসপুকুরে স্নানশেষে ইকোপার্ক দিয়ে সিএনজিযোগে কলি যুগে শ্রীশ্রী চন্দ্রনাথ মন্দির @ চন্দ্রনাথধামে শিবলিঙ্গে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষে এ স্মৃতি ধরে রাখতে নিজেদের মতো করে সেলফি, গ্রুপ ছবি তুলে নিলো। এরপর মধ্যাহ্নে গুরুধাম চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ড শংকর মঠে প্রসাদ আস্বাদন করে কিছুসময় শংকর মঠ ও মিশনে বিশ্রাম শেষে সীতা মন্দির ও শ্রীশ্রী ভবানী মন্দির প্রদক্ষিণ করে সন্ধ্যায় শ্রীশ্রী বিশ্বনাথ মন্দিরের সন্ধ্যারতি দর্শন শেষে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে রাত পৌনে ১০টায় কালিয়াজুরী শহীদ মিনারে এসে পৌঁছি। তারপর সবাই সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে যার যার মতো করে বাসায় চলে যায়। সময় চলে যায়, তবে স্মৃতিগুলো থেকে যায় আজীবন। তেমনি চন্দ্রনাথ ধাম ভ্রমণের স্মৃতিগুলো মনের মণিকোঠায় থেকে যাবে আজীবন। হয়তো আবার স্মৃতিচারণা করে ঘুরে বেড়াব অন্য কোথাও। ভ্রমণ মানুষের মনকে করে প্রশস্ত, হৃদয়কে করে বিস্তৃত, আর আমাদের কল্পনার জগৎকে করে আরও সমৃদ্ধ। তাই বাস্তব জীবনে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য কিংবা সবকিছু থেকে নিজেকে কিছুটা সময়ের জন্য দূরে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনে ভ্রমণের কোন বিকল্প নেই। তাই আশা করছি আগামীতেও এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখবে। এই আয়োজনটি চারটি পরিবারের অনুষ্ঠিত একটি সফল মিলনমেলা। একদিনের তীর্থ ভ্রমণে অংশ নেন- কুমিল্লা আদালত অঙ্গনের পরিচিত মুখ এডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার ও তাঁর জীবন সঙ্গিনী রিতা রাণী মজুমদার, কন্যা অর্পিতা সরকার ও পুত্র অরন্য সরকার প্রিন্স এবং কালিয়াজুরী নিবাসী বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি হারাধন শীল ও তাঁর জীবন সঙ্গিনী সুচিত্রা রাণী শীল, চান্দিনা ডুমুরিয়া নিবাসী স্বপন চন্দ্র ভৌমিক ও তাঁর জীবন সঙ্গিনী মিনা রাণী মজুমদার, কন্যা তিথী রাণী ভৌমিক ও সুষ্মিতা ভৌমিক, পুত্র ত্রিনব ভৌমিক, শ্বাশুড়ি রত্না রানী মজুমদার এবং কালিয়াজুরী শীল বাড়ীর নিবাসী প্রান্তোষ চন্দ্র শীল ও তাঁর জীবন সঙ্গিনী, কন্যা অর্পিতা রায় ও আদিত্য শীল।তীর্থ ভ্রমণ: তীর্থ ভ্রমণ মানুষের জীবনে এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এটি কেবল ভ্রমণ নয় বরং আত্মশুদ্ধি ও মানসিক প্রশান্তির এক অনন্য মাধ্যম। যুগ যুগ ধরে মানুষ ধর্মীয় বিশ্বাস ও আত্মিক শান্তির খোঁজে বিভিন্ন তীর্থস্থানে ভ্রমণ করে আসছে। তীর্থ ভ্রমণের প্রধান উদ্দেশ্য হলো আত্মশুদ্ধি। মানুষ বিশ্বাস করে তীর্থস্থানে গিয়ে প্রার্থনা করলে পাপ মোচন হয় এবং মনে শান্তি আসে। দৈনন্দিন জীবনের ক্লান্তি, হতাশা ও মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে তীর্থ ভ্রমণ অত্যন্ত সহায়ক। ভক্তরা সেখানে উপবাস, প্রার্থনা ও ধ্যানের মাধ্যমে নিজেদের আত্মিক উন্নতির চেষ্টা করেন। তীর্থ ভ্রমণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা। দেশের নানা প্রান্ত থেকে আগত মানুষের সঙ্গে পরিচয় ঘটে, একে অপরের সংস্কৃতি ও জীবনধারা সম্পর্কে জানার সুযোগ মেলে। এতে মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহনশীলতা বৃদ্ধি পায়। তবে তীর্থ ভ্রমণের সময় কিছু দায়িত্ব পালন করা জরুরি। পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা, স্থানীয় নিয়মকানুন মেনে চলা এবং ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা আমাদের কর্তব্য। ভিড় বা অযথা বিশৃঙ্খলা তীর্থ ভ্রমণের পবিত্রতা নষ্ট করে। সবশেষ বলা যায়, তীর্থ ভ্রমণ মানুষের আত্মিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এটি মানুষকে নৈতিকতা, সংযম ও মানবিকতার পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে। সঠিক মনোভাব ও নিষ্ঠার সঙ্গে তীর্থ ভ্রমণ করলে জীবনে সত্যিকারের শান্তি ও তৃপ্তি লাভ করা যায়।

