
তাপস চন্দ্র সরকার, কুমিল্লা।।
আন্তরিক ভালোবাসা, ফুলেল শুভেচ্ছা, স্মৃতিচারণ, কবিতা, গান আর জন্মদিনের কেক কাটার আনন্দঘন মুহূর্তে কুমিল্লায় উদযাপিত হলো জনপ্রিয় ফটোসাংবাদিক শ্যামল বড়ুয়া ববি’র শুভ জন্মদিন। দীর্ঘদিন ধরে ক্যামেরার লেন্সে অসংখ্য মানুষের আনন্দ-বেদনা, ইতিহাস, সমাজ ও সময়কে ধারণ করে যিনি অন্যদের আলোয় নিয়ে এসেছেন, এবার সেই মানুষটিই ভালোবাসার আলোয় আলোকিত হলেন তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষী, সহকর্মী ও বন্ধুদের উচ্ছ্বসিত উপস্থিতিতে।মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ২০২৬) সন্ধ্যা ৭টায় কুমিল্লা নগরীর লাকসাম রোডস্থ টেপটেনের গ্র্যান্ড দেশপ্রিয় হলরুমে বন্ধু মহলের উদ্যোগে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমধর্মী জন্মদিনের অনুষ্ঠান যেন পরিণত হয়েছিল এক মিলনমেলায়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো অনুষ্ঠানস্থল হয়ে ওঠে প্রাণচঞ্চল ও উৎসবমুখর।অনুষ্ঠানে প্রবেশের মুহূর্ত থেকেই ফুলের তোড়া, শুভেচ্ছা, করতালি এবং উষ্ণ আলিঙ্গনে সিক্ত হন শ্যামল বড়ুয়া ববি। একের পর এক শুভেচ্ছা আর ভালোবাসায় আপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। উপস্থিত অতিথিদের অনেকেই বলেন, একজন মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসাই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন, আর সেই অর্জনের উজ্জ্বল উদাহরণ শ্যামল বড়ুয়া ববি।জন্মদিন উপলক্ষে ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক আয়োজন। কবিতা আবৃত্তি, স্মৃতিচারণ, শুভেচ্ছা বক্তব্য এবং হৃদয়ছোঁয়া সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অতিথিরা জন্মদিনকে আরও অর্থবহ করে তোলেন। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে জন্মদিনের কেক কাটার মধ্য দিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপনের সমাপ্তি ঘটে।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. শাহ মোহাম্মদ সেলিম। তিনি বলেন, “সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা নয়, এটি সমাজের প্রতি একটি দায়িত্ব। শ্যামল বড়ুয়া ববি দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে ফটোসাংবাদিকতা করে চলেছেন। তাঁর ক্যামেরায় ধরা পড়েছে সমাজের নানা বাস্তবচিত্র, যা ইতিহাসের দলিল হয়ে থাকবে। আমি তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং আরও সফল ভবিষ্যৎ কামনা করছি।”অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শেখ আঃ মান্নান। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শিপন হোসেন মানব এবং আজাদ সরকার লিটন। তাঁদের প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় পুরো অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে আরও আকর্ষণীয় ও প্রাণবন্ত।এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, চিকিৎসক, আইনজীবী, অধ্যাপক, শিক্ষক, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শুভানুধ্যায়ী এবং শ্যামল বড়ুয়া ববির অসংখ্য বন্ধু ও স্বজন। অনুষ্ঠানে আগত অতিথিরা তাঁর হাতে ফুল, ক্রেস্ট, শুভেচ্ছা স্মারক ও নানা উপহার তুলে দিয়ে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান।অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ক্যামেরা ও সৃজনশীল উপস্থাপনার মাধ্যমে অসংখ্য মানুষকে ভাইরাল করেছেন শ্যামল বড়ুয়া ববি। নানা সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক ঘটনার ছবি এবং ভিডিও মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়ে তিনি পরিচিতি পেয়েছেন একজন জনপ্রিয় ফটোসাংবাদিক হিসেবে। তাই অনেকেই হাস্যরসের সঙ্গে বলেন, “এতদিন তিনি অন্যদের ভাইরাল করেছেন, আজ তিনি নিজেই ভালোবাসায় ভাইরাল হয়ে গেলেন।” কথাটি উচ্চারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো হলরুম করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে।সাংবাদিকতার পাশাপাশি মানবিক গুণাবলি, আন্তরিকতা এবং বন্ধুসুলভ আচরণের জন্যও তিনি সবার কাছে সমানভাবে প্রিয়। তাঁর ধারণকৃত অসংখ্য আলোকচিত্র স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদচিত্রের মাধ্যমে সমাজের নানা বাস্তবতা, মানুষের হাসি-কান্না এবং গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে তিনি নান্দনিকভাবে তুলে ধরে প্রশংসা অর্জন করেছেন।ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি একজন দায়িত্বশীল পরিবারপ্রেমী মানুষ। এক পুত্র ও এক কন্যাসন্তানের জনক শ্যামল বড়ুয়া ববি পারিবারিক জীবনেও সুখী ও স্নেহশীল। তাঁর সহধর্মিণী সুমী বড়ুয়াও একজন অমায়িক, বিনয়ী ও মানবিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকেই তাঁদের সুন্দর পারিবারিক জীবনের প্রশংসা করেন এবং পরিবারের সকল সদস্যের সুস্বাস্থ্য ও সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করেন।জন্মদিনের শেষ মুহূর্তে আবেগাপ্লুত হয়ে শ্যামল বড়ুয়া ববি উপস্থিত সকল অতিথি, বন্ধু, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আজকের এই ভালোবাসা আমার জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি। আপনাদের এই আন্তরিকতা আমাকে ভবিষ্যতে আরও নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগাবে। আমি সবার দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগিতা কামনা করছি।”ভালোবাসা, বন্ধুত্ব, সম্মান এবং আন্তরিকতার এক অনন্য আবহে উদযাপিত এই জন্মদিনের অনুষ্ঠানটি উপস্থিত সকলের কাছে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে—এমনটাই অভিমত ছিল অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অতিথিদের।

