Dhaka Edge

@Dahkaedge

image_pdfimage_print

মানবিক আবেদনকে পুঁজি করে প্রতারণা: প্রসূতি মা ও অনাগত যমজ সন্তানের জীবন বাঁচানোর আকুতির সুযোগে অর্থ আত্মসাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক।। একজন মৃত্যুপথযাত্রী অন্তঃসত্ত্বা মা এবং তাঁর গর্ভের অনাগত যমজ সন্তানের জীবন বাঁচানোর আকুতি—যেখানে মানুষের হৃদয় নরম হওয়ার কথা, সেখানে সেই মানবিক আবেদনকেই পুঁজি করে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে এক দুর্বৃত্ত। মাত্র ৫০০ টাকার জন্য নয়, মানবতা ও বিবেককে প্রশ্নবিদ্ধ করা এমন একটি ঘটনা ঘটেছে কুমিল্লায়।জানা গেছে, কুমিল্লা সদর উপজেলার কালিয়াজুরী এলাকার বাসিন্দা আইনজীবী ও সাংবাদিক তাপস চন্দ্র সরকার তাঁর কাকী শাশুড়ি শ্রীমতি বন্ধনা রানী মজুমদারের জন্য জরুরি ভিত্তিতে A- নেগেটিভ রক্তের সন্ধান করছিলেন। যমজ সন্তানসম্ভবা ওই নারী গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর এবং গর্ভের দুই অনাগত সন্তানের জীবন রক্ষায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ফেসবুক ও বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে মানবিক আবেদন জানানো হয়।এমন সময় শনিবার (১ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে ০১৬২০-৬৬২৯৬০ নম্বর থেকে এক ব্যক্তি ফোন করে নিজেকে চান্দিনা এলাকার একজন ছাত্র হিসেবে পরিচয় দেয়। সে জানায়, রক্ত দিতে তার কোনো আপত্তি নেই; তবে হাসপাতালে আসার মতো গাড়ি ভাড়ার টাকা তার কাছে নেই।একজন অসহায় মায়ের জীবন বাঁচানোর তাড়নায় এবং মানবিক বিশ্বাস থেকে তাপস চন্দ্র সরকার প্রথমে বিকাশের মাধ্যমে ২১০ টাকা পাঠান। কিছুক্ষণ পর ওই ব্যক্তি আবার ফোন করে জানায়, বিকাশ থেকে ৫০০ টাকার কম উত্তোলন করা যায় না। তাই আরও ৩০০ টাকা পাঠাতে হবে। জীবন বাঁচানোর আশায় তিনি দ্বিতীয় দফায় আরও ৩০০ টাকা পাঠিয়ে দেন।কিন্তু টাকা পাওয়ার পরপরই বদলে যায় চিত্র। অভিযুক্ত ব্যক্তি সঙ্গে সঙ্গে তার নম্বর ব্লক করে দেয়। পরে অন্য একটি নম্বর থেকে যোগাযোগের চেষ্টা করলে কণ্ঠস্বর চিনে সেই নম্বরটিও ব্লক করে দেয়। তখনই স্পষ্ট হয়ে ওঠে—রক্ত দেওয়ার নামে মানবিক আবেগকে ব্যবহার করে পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রতারণা করা হয়েছে।পরবর্তীতে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন ডিএসবি কর্মকর্তাকে জানানো হলে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বরের বিভিন্ন প্রযুক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। প্রাপ্ত তথ্যে সর্বশেষ কলের অবস্থান ঢাকার রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) এলাকার আশপাশে শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মোবাইলের আইএমইআই, আইএমএসআইসহ প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত তথ্যও সংরক্ষণ করা হয়েছে, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।এ বিষয়ে ভুক্তভোগী এডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার বলেন, এটি কেবল ৫০০ টাকা প্রতারণার ঘটনা নয়; বরং একজন মৃত্যুপথযাত্রী গর্ভবতী মা ও তাঁর অনাগত যমজ সন্তানের জীবন রক্ষার আর্তিকে প্রতারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার মতো জঘন্য ও অমানবিক অপরাধ। এমন কর্মকাণ্ড সমাজে মানবিক সহায়তার সংস্কৃতিকেই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার, আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।এদিকে, সমাজসচেতন মহল বলছেন, মানবিক বিপর্যয়ের মুহূর্তে প্রতারণার এমন ঘটনা শুধু একটি পরিবারের সঙ্গে প্রতারণা নয়; এটি মানুষের পারস্পরিক বিশ্বাস ও মানবিকতার ভিত্তিকেই দুর্বল করে দেয়। তাই এ ধরনের অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

মানবিক আবেদনকে পুঁজি করে প্রতারণা: প্রসূতি মা ও অনাগত যমজ সন্তানের জীবন বাঁচানোর আকুতির সুযোগে অর্থ আত্মসাৎ Read More »

কটিয়াদীতে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের তৎপরতা জোরদার, ওসিকে ঘিরে অপপ্রচারের অভিযোগ

ফরহাদ হোসেন রাজ কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান ঘিরে স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা চলছে। বিশেষ করে মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারের পর কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রফিকুল ইসলামকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নানা ধরনের বক্তব্য ও প্রচারণা ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে।গত ৪ এপ্রিল ২০২৬ কটিয়াদী মডেল থানায় ওসি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মাদক, চুরি, ছিনতাই, জুয়া ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে বলে জানা গেছে। এসব অভিযানে বিভিন্ন সময় মাদকদ্রব্য, নগদ টাকা, দেশীয় অস্ত্রসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধারের পাশাপাশি একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়।মাদকবিরোধী তৎপরতায় বাড়ছে চাপস্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, কটিয়াদীতে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার হওয়ায় অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে চাপ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশের কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা চালানোর অভিযোগও উঠেছে।সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করে তদন্তের দাবি জানানো যেতে পারে। তবে কোনো অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মে একতরফাভাবে প্রচার করা হলে তাতে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।তবে ওসি রফিকুল ইসলামকে ঘিরে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জড়িত—এমন দাবি করার সুযোগ নেই।অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানপুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কটিয়াদী মডেল থানার আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবার ও অন্যান্য অপরাধের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অপরাধীদের শনাক্ত করার পাশাপাশি মাদক সরবরাহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত নেটওয়ার্ক সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।সচেতন নাগরিকদের মতে, একটি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের নিয়মিত অভিযান গুরুত্বপূর্ণ। তবে একই সঙ্গে পুলিশের প্রতিটি কার্যক্রম হতে হবে আইনানুগ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি।অভিযোগ থাকলে তদন্তের দাবিসংশ্লিষ্টদের মতে, পুলিশ বা কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়াই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেমন প্রয়োজন, তেমনি ভিত্তিহীন অভিযোগের বিষয়টিও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া দরকার।কারণ, প্রমাণ ছাড়া গুরুতর অভিযোগ ছড়িয়ে দেওয়া যেমন অনাকাঙ্ক্ষিত, তেমনি পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা সুনির্দিষ্ট অভিযোগকে তদন্ত ছাড়া উপেক্ষা করাও সমীচীন নয়।মাদকমুক্ত কটিয়াদীর প্রত্যাশামাদক একটি পরিবার থেকে শুরু করে পুরো সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লে শিক্ষা, পারিবারিক পরিবেশ ও সামাজিক নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।এ কারণে কটিয়াদীতে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।তাদের ভাষ্য, অপরাধী যেই হোক, তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তিকে ব্যক্তিগত বিরোধ বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার ভিত্তিতে হয়রানি করা থেকেও বিরত থাকতে হবে।ওসির বক্তব্যকটিয়াদী মডেল থানার ওসি মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, মাদক, সন্ত্রাস ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করছে। অপরাধ দমনে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও প্রয়োজন। মাদক বা অপরাধ সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।আইনসম্মত অভিযান অব্যাহত রাখার প্রত্যাশাস্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা, কটিয়াদীতে মাদকবিরোধী অভিযান কোনো ধরনের চাপ, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা কিংবা স্বার্থান্বেষী তৎপরতায় যেন বাধাগ্রস্ত না হয়। একই সঙ্গে পুলিশের কার্যক্রমেও স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত থাকবে।তাদের মতে, অভিযোগের নিষ্পত্তি হবে তদন্তের মাধ্যমে, প্রচারণার মাধ্যমে নয়। অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নিতে হবে, আবার নির্দোষ কাউকে হয়রানি থেকেও সুরক্ষা দিতে হবে।কটিয়াদীবাসীর প্রত্যাশা, মাদক ও অপরাধ দমনে পুলিশের চলমান কার্যক্রম আরও জোরদার হবে এবং আইন ও প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি কোনো অভিযোগ থাকলে সেটিও যথাযথ প্রক্রিয়ায় তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে।

কটিয়াদীতে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের তৎপরতা জোরদার, ওসিকে ঘিরে অপপ্রচারের অভিযোগ Read More »

নরসিংদীর মনোহরদীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধে লাঠির আঘাতে একজন নিহত

আবুনাঈম রিপন :নরসিংদী প্রতিনিধি।। নরসিংদীর মনোহরদীতে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে রাস্তার গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ নেতার ছেলের লাঠির আঘাতে মিজান মিয়া নামের স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতা নিহত হয়েছেন। শনিবার (০১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার বড়চাপা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বড়চাপা পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।নিহত মিজান মিয়া (৪০) বড়চাপা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড বড়চাপা পূর্বপাড়ার সফুর উদ্দিনের ছেলে। তিনি ৪ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ছিলেন।অভিযুক্তের নাম জীবন। তিনি একই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহর (৬৫) ছেলে।নিহতের স্বজনরা জানান, বাড়ির পাশের একটি রাস্তা নিয়ে মিজান ও চাচা শহীদুল্লাহর মধ্যে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ হলেও শহীদুল্লাহ তা মেনে নেয়নি। শনিবার দুপুরে রাস্তায় থাকা একটি গাছ মিজান কাটতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। এসময় শহীদুল্লাহর ছেলে জীবন লাঠি নিয়ে এসে মিজানের মাথায় আঘাত করে। এতে মিজান মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে উদ্ধার করে মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক খন্দকার আনিসুর রহমান বলেন, দুপুরে মিজানকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। মৃত্যুর কারণ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর বলা যাবে।মনোহরদী থানার ওসি জাহাঙ্গীর বাদশা বলেন, চাচা-ভাতিজার জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মরদেহ সুরতহাল করে নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তুতি চলছে।

নরসিংদীর মনোহরদীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধে লাঠির আঘাতে একজন নিহত Read More »

সাউথ এশিয়ান প্যারেড ৯ আগস্ট জ‍্যাকসন হাইটসে

হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজঃ নিউইয়র্কে বহুজাতিক সমাজে বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশিয়ানদের অবস্থান জোরালোভাবে উপস্থাপনের অভিপ্রায়ে ৯ আগস্ট ‘সাউথ এশিয়ান ইউনিটি প্যারেড’ অনুষ্ঠিত হবে। জ্যাকসন হাইটসে ৬৯ স্ট্রিট থেকে শুরু হয়ে ৩৭ এভিনিউ ধরে যাবে প্যারেড। এ উপলক্ষে চলমান প্রস্তুতি আলোকে গত ২২ জুলাই এক সভা অনুষ্ঠিত হয় জ্যাকসন হাইটসে রেস্টুরেন্ট ‘নবান্ন পার্টি’ হলে। এতে সর্বশেষ পরিস্থিতি আলোকপাত করেন হোস্ট বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী এবং কমিউনিটি লিডার শাহ শহিদুল ইসলাম সাঈদ।খবর আইবিএননিউজ ।সোসাইটির বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ, বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টর নুরুল আজিম, ময়নুজ্জামান চৌধুরী, আব্দুর রহিম হাওলাদার, জাহাঙ্গির জয়, হাসান জিলানী, মিয়া মো. দুলাল, হুমায়ূন কবীর ঢালি, নুরুজ্জামান সর্দার, আকতার হোসেন, শওকত আকবর রীচি, রীনা আবেদিন, জাহাঙ্গির সোহরাওয়ার্দি, মাকসুদ চৌধুরী প্রমুখ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্যারেডকে সফল করার অঙ্গিকার করেন। তারা সকলেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে কমিউনিটির সামাজিক-সাংস্কৃতিক-পেশাজীবী সংগঠনকে প্যারেডে যোগদানে উৎসাহিত করতে এখন থেকেই মাঠে নামবেন বলে উল্লেখ করেন।এ সময় জানানো হয় যে, প্যারেডে সিটি, স্টেট ও জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশ ও প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পীরা মনোজ্ঞ পরিবেশনায় থাকবেন বলেও জানানো হয়।

সাউথ এশিয়ান প্যারেড ৯ আগস্ট জ‍্যাকসন হাইটসে Read More »

পলাশবাড়ীতে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীর পেট মুচড়ে ও বেঞ্চে শুইয়ে নির্যাতনের অভিযোগ শিক্ষক মিথুনের বিরুদ্ধে

আশরাফুজ্জামান গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ- গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পড়া না পারায় প্রথম শ্রেণির এক কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সহকারী শিক্ষক মাহাফুজার রহমান মিথুনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি শিক্ষার্থীর পেট মুচড়ে ধরাসহ শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চে শুইয়ে নির্যাতন চালান।রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের পূর্ব গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মাহাফুজার রহমান মিথুন ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে কর্মরত রয়েছেন।ঘটনার খবর পেয়ে সংবাদকর্মীরা বিদ্যালয়টির অদূরে ভুক্তভোগী শিশুটির বাড়িতে গেলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সে জানায়, “পড়া না পারলে মিথুন স্যার সব সময় এভাবে পেট মুচড়ে ধরে কষ্ট দেন। আজ দুপুর একটার দিকে পড়া দিতে না পারায় স্যার এত জোরে পেটে চাপ দেন যে আমি সহ্য করতে না পেরে কেঁদে ফেলি।”নির্যাতিত শিশুটির নাম আনিসা আক্তার মায়া (৭)। সে পূর্ব গোপালপুর গ্রামের আইয়ুব আলীর মেয়ে। মেয়েটি প্রথম শ্রেণিতে পড়লেও দেখতে বড় এবং বেশ মায়াবি। শিশুটির বাচনভঙ্গিও অনেক সুন্দর।শিশুটি আরও অভিযোগ করে বলে, “এর আগেও একদিন পড়া না পারায় আমাকে বেঞ্চে শুইয়ে পেটে চাপ দিয়ে নির্যাতন করেছিলেন স্যার।”এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শারমিন আক্তারের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে উল্টো প্রশ্ন ছুড়ে দেন। তিনি বলেন, “আজ একটি অভিযোগ পেয়ে আপনারা এসেছেন, কিন্তু এর আগে বিদ্যালয়টি কত ভালো কাজ করেছে বা ভালো ফলাফল এনেছে, তখন তো আপনারা আসেননি।”বিষয়টি নিয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরজুমান আরা গোলেনুর জানান, সহকারী শিক্ষক মাহফুজুর রহমান মিথুনের বিরুদ্ধে এক শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টির তদন্ত সাপেক্ষে সত্যতা প্রমাণিত হলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পলাশবাড়ীতে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীর পেট মুচড়ে ও বেঞ্চে শুইয়ে নির্যাতনের অভিযোগ শিক্ষক মিথুনের বিরুদ্ধে Read More »

কুমিল্লাকে নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী গড়তে সুজনের মানববন্ধন

তাপস চন্দ্র সরকার, কুমিল্লা থেকে।। কুমিল্লা নগরীর জলাবদ্ধতা, মাদক বিস্তার, তীব্র যানজট এবং হকারদের পরিকল্পিত পুনর্বাসনের দাবিতে মানববন্ধন করেছে সুজন–সুশাসনের জন্য নাগরিক, কুমিল্লা জেলা ও মহানগর কমিটি।শনিবার (১ আগস্ট ২০২৬) সকাল সাড়ে ১০টায় কুমিল্লা টাউন হলের সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক এবং সুজনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা, মাদকের বিস্তার, তীব্র যানজট এবং ফুটপাত ও সড়ক দখল করে অপরিকল্পিতভাবে হকার বসার কারণে কুমিল্লাবাসী চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এসব সমস্যা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত, টেকসই ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি সুশাসন নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।মানববন্ধন শেষে বক্তারা জানান, আগামীকাল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। স্মারকলিপিতে জলাবদ্ধতা নিরসনে আধুনিক ও কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন প্রয়োগ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি, যানজট নিরসনে আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালু এবং হকারদের পরিকল্পিত পুনর্বাসনের মাধ্যমে নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হবে।সুজন কুমিল্লা জেলা কমিটির সভাপতি শাহ মোহাম্মদ আলমগীর খান-এর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সুজন মহানগর কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট শামিমা আক্তার জাহান, জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আলী আহসান টিটু, মহানগর কমিটির সম্পাদক অধ্যাপক এনামুল হক, কুমিল্লা দোকান মালিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি আব্দুর রহমান, কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি সাদিক মামুন, সাংবাদিক শাহ আলম শফি, কুমিল্লা বাঁচাও মঞ্চের সদস্য সচিব নাসির উদ্দিন, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা সুজনের সভাপতি অ্যাডভোকেট ইসলাম ইবনে সাঈক, সাধারণ সম্পাদক মো. মুস্তাফিজুর রহমান, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সভাপতি সৈয়দ আহমেদ লাভলু, বুড়িচং উপজেলা সভাপতি মোসলেহ উদ্দিন, লালমাই উপজেলা সুজনের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ মাহমুদ, দেবিদ্বার উপজেলা সুজনের সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান, মানবাধিকার কর্মী আব্দুল হান্নান, কবি আব্দুল কাইয়ুম, নারী উদ্যোক্তা কামরুন্নাহার দিপু, মহানগর কমিটির অর্থ সম্পাদক শামসুন্নাহার ঝুমুর, জেলা অর্থ সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক মঞ্জুর হোসেন, সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাজিব, বাংলাদেশ প্রতিদিনের কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি মহিউদ্দিন মোল্লাসহ আরও অনেকে।অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সুজন কুমিল্লা মহানগর কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আজাদ সরকার লিটন। অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতা করেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর আঞ্চলিক সমন্বয়কারী সৈয়দ মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন।মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, নাগরিক সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। অন্যথায় কুমিল্লার জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে। তারা জনস্বার্থে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

কুমিল্লাকে নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী গড়তে সুজনের মানববন্ধন Read More »

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড: দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ও বিভিন্ন গ্রন্থে উত্থাপিত দাবি

ঢাকা: ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে হত্যার ঘটনা দেশের ইতিহাসের অন্যতম মর্মান্তিক অধ্যায়। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র ছিল কি না—এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন গবেষক, সাংবাদিক ও লেখক নানা বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেছেন।প্রয়াত সাংবাদিক মিজানুর রহমান খানের “মার্কিন দলিলে মুজিব হত্যাকাণ্ড” গ্রন্থে যুক্তরাষ্ট্রের অবমুক্ত কূটনৈতিক দলিল বিশ্লেষণ করে দাবি করা হয়েছে যে, বঙ্গবন্ধুকে ঘিরে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা ১৯৬৯ সাল থেকেই বিভিন্ন মার্কিন বার্তায় উঠে আসে। গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে, শেখ মুজিব নিজেও সে সময় তাঁর বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্রের আশঙ্কার কথা মার্কিন কর্মকর্তাদের জানিয়েছিলেন।বইটিতে আরও দাবি করা হয়েছে যে, স্বাধীনতার পর কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর সরকার উৎখাতে বিদেশি সহায়তা চাওয়ার বিষয়েও বিভিন্ন কূটনৈতিক নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তবে এসব নথির ব্যাখ্যা ও তা থেকে কী সিদ্ধান্ত টানা যায়—এ নিয়ে গবেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।ভারতীয় ও মার্কিন কয়েকজন লেখকের বইয়েও CIA, পাকিস্তানের ISI এবং তৎকালীন আন্তর্জাতিক রাজনীতির সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন দাবি করা হয়েছে। এসব লেখায় মার্কিন প্রশাসন, হেনরি কিসিঞ্জার, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো এবং বাংলাদেশের কয়েকজন রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যক্তিত্বের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের অনেকগুলোর স্বাধীন ও চূড়ান্ত প্রমাণ এখনো প্রতিষ্ঠিত নয় এবং ইতিহাসবিদদের মধ্যে এ বিষয়ে ঐকমত্যও নেই।একইভাবে, চট্টগ্রামের হালিশহরের একজন অন্ধ হাফেজকে ISI-এর এজেন্ট হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে—এ দাবি এন্থনি মাসকারেনহাসের “Bangladesh: A Legacy of Blood” বইয়ের একটি বর্ণনার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে এই দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ সর্বসম্মতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাই এ ধরনের তথ্যকে অভিযোগ বা লেখকের বর্ণনা হিসেবেই উপস্থাপন করা উচিত।বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার ও পরবর্তী রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে বহু গবেষণা, দলিল এবং সাক্ষ্য প্রকাশিত হয়েছে। ইতিহাসবিদদের মতে, বিষয়টি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আদালতের নথি, অবমুক্ত সরকারি দলিল এবং নির্ভরযোগ্য গবেষণা একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।উপসংহার: বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের ইতিহাসের এক গভীর ট্র্যাজেডি। এ ঘটনাকে ঘিরে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের নানা দাবি ও বিশ্লেষণ থাকলেও, যেসব অভিযোগ এখনো স্বাধীনভাবে প্রমাণিত নয়, সেগুলোকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে নয় বরং সংশ্লিষ্ট লেখক বা গবেষকের দাবি হিসেবে উপস্থাপন করাই সাংবাদিকতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড: দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ও বিভিন্ন গ্রন্থে উত্থাপিত দাবি Read More »

মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের ঐক্যবদ্ধ শক্তির কাছে সকল ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হবে সুজিত রায় নন্দী

হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজঃ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী বলেছেন, বর্তমান বাংলাদেশে বাকস্বাধীনতা ও কথা বলার অধিকার আজ অবরুদ্ধ। তবে দেশের জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তির কাছে কোনো অপশক্তি অতীতে টিকতে পারেনি, ভবিষ্যতেও টিকতে পারবে না।খবর আইবিএননিউজ ।গত ২৮ জুলাই ২০২৬,মঙ্গলবার,বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাসী সাংবাদিক, কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, বুদ্ধিজীবী,কলামিস্ট ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের সংগঠন “স্মরণে ৭১, হৃদয়ে বাংলাদেশ” অনলাইন গ্রুপ আয়োজিত এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশ ও প্রবাসের অর্ধশতাধিক সাংবাদিক এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এই অনলাইন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের গুরুত্ব তুলে ধরে সুজিত রায় নন্দী বলেন, অতীতের তুলনায় বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অনেক বেশি শক্তিশালী। তাই মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের সকল সহযোদ্ধাকে একত্রিত হয়ে দেশের বিরুদ্ধে সক্রিয় জঙ্গি ও সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।বঙ্গবন্ধু সু কন্যা শেখ হাসিনাকে নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই অপশক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে ইস্পতকঠিন ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। অতীতে নিজেদের কিছু ভুলের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, সেই ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি শান্তিময় বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হবে।বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ৫ আগস্ট ২০২৪ পরবর্তী সরকার বাংলাদেশকে ধ্বংস করতে চায়। ১৫ আগস্ট, ২১ আগস্ট এবং ৫ আগস্টের প্রেক্ষাপট একই সূত্রে গাঁথা। ইউনুস ও বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর মূল লক্ষ্য আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করা উল্লেখ করে তিনি নেতাকর্মীদের সজাগ ও প্রতিবাদী হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনার পক্ষে আজ দেশের লক্ষ কোটি মানুষ অবস্থান করছেন।জুলাই আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, এই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী অনেকেরই এখন ভুল ভেঙেছে। ৫ আগস্টের পর শেখ হাসিনা আরও বেশি শক্তিশালী ও সাধারণ মানুষের আস্থার ঠিকানায় পরিণত হয়েছেন। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা শান্তির বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে পুনরায় জেগে উঠেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “হতাশার কোনো কারণ নেই, রাত যতই গভীর হবে আলো ততই নিকটে আসবে।”প্রধান বক্তার বক্তব্য:অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার এম আবদুস সবুর বলেন, বিএনপির দুঃশাসন এখনো চলমান রয়েছে এবং বর্তমান শাসকরাও একই পথ বেছে নিয়েছেন। বাংলাদেশকে দেউলিয়া করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ১৯৮১ সাল এবং ওয়ান ইলেভেনের সময়ের মতো সমস্ত ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে বঙ্গবন্ধু সুকন্যা শেখ হাসিনা চলতি বছরের ডিসেম্বরে মাথা উঁচু করে যথাসময়ে দেশে ফিরে আসবেন।“স্মরণে ৭১, হৃদয়ে বাংলাদেশ”-এর আহ্বায়ক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট মানিক লাল ঘোষের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম-আহ্বায়ক ওয়ারেছুন্নবী খন্দকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সদস্য সচিব সিনিয়র সাংবাদিক ও কবি শফিক বাবু।এছাড়াও ভার্চুয়াল এই সভায় আরও বক্তব্য রাখেন গ্রীস শাখা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাবুল হাওলাদার, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. জি এম তরিকুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আবদুল মতিন ভূঁইয়া, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অন্যতম উপদেষ্টা ও সিনিয়র সাংবাদিক এবং লায়ন হাকিকুল ইসলাম খোকন, সিনিয়র সাংবাদিক সোমা ইসলাম, সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক সাজেদা পারভীন সাজু ও আহমেদ রাসেল (যুক্তরাষ্ট্র), নির্বাহী সদস্য সেলিনা আকতার জোছনা ও খন্দকার তারেক রায়হান (যুক্তরাজ্য), এবং সাংবাদিক এইচ এম দুলাল, সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন, সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম রাজ, সাংবাদিক মোহাম্মদ সেলিম, সাংবাদিক জাহির উদ্দিন ও সাংবাদিক যুগল চন্দ্র শীল পলাশসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের ঐক্যবদ্ধ শক্তির কাছে সকল ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হবে সুজিত রায় নন্দী Read More »