স্টাফ রিপোর্টার: মো. দেলোয়ার হোসেন
টাঙ্গাইলের মধুপুরে বন শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (বশিউক) পরিচালিত চাঁদপুর রাবার বাগানের আওতাধীন বন বিভাগের জমি উদ্ধারে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে বাগান কর্তৃপক্ষ। সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে কুড়াগাছা ইউনিয়নের ধরাটি ও কালাপাহাড় এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে স্থানীয় আদিবাসী রমেন মাংসানের বসতভিটার নিরাপত্তা বেষ্টনী, ফলজ বাগান এবং নির্মাণাধীন ঘরের অংশবিশেষ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।অভিযানে অংশগ্রহণকারী বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, রমেন মাংসান দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি ব্যবহার করে আসছিলেন। সম্প্রতি তিনি সেখানে ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিলে বাগান কর্তৃপক্ষ তাকে বাধা দেয়। তবে তিনি বাধা উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে গেলে এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ বিষয়ে কোনো আগাম লিখিত নোটিশ দেওয়া হয়েছিল কি না—জানতে চাইলে তারা বলেন, লিখিত নোটিশ দেওয়া হয়নি, তবে মৌখিকভাবে নিষেধ করা হয়েছিল।এ বিষয়ে আদিবাসী রমেন মাংসান (৬৫), পিতা মৃত জুগেশ মাংসান, গ্রাম কালাপাহাড়, পূর্ব ধরাটি জানান, তিনি পেশায় দিনমজুর। গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে পরিবারসহ ওই জমিতে বসবাস করে আসছেন। তার পরিবারে পাঁচ ছেলে ও চার মেয়ে রয়েছে। বসবাসের পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় বন কর্তৃপক্ষের মৌখিক নির্দেশেই তিনি জমিটি ব্যবহার করে আসছিলেন বলে দাবি করেন।তিনি বলেন, “পাঁচ বছর আগে এই জমিতে প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার বিভিন্ন গাছ লাগিয়েছিলাম এবং সবজি চাষ করেছিলাম। বর্তমানে এর বাজার মূল্য প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। আমার বড় পরিবার হওয়ায় সবার থাকার জন্য জায়গা কম। তাই কষ্ট করে সিমেন্টের খুঁটি দিয়ে একটি ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেছিলাম। কিন্তু আজ হঠাৎ রাবার বাগানের কর্তৃপক্ষ ও অস্ত্রধারী আনসার সদস্যরা এসে আমাদের বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে সবকিছু নষ্ট করে দেয়। কোনো ধরনের আগাম নোটিশ ছাড়াই এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। আমরা এর যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও বিচার চাই।”এ বিষয়ে চাঁদপুর রাবার বাগান (বশিউক)-এর ব্যবস্থাপক আমান উল্লাহ আমান বলেন, বনভূমি ও বনসম্পদ রক্ষায় বাংলাদেশ বন বিভাগের নীতিমালা অনুযায়ীই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “বনের জায়গা রক্ষায় আমরা বদ্ধপরিকর। উচ্ছেদ অভিযানে দখলদারদের কিছুটা ক্ষতি হওয়া স্বাভাবিক। ঘর নির্মাণের চেষ্টা করায় তাৎক্ষণিকভাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।”অন্যদিকে স্থানীয় আদিবাসীদের অভিযোগ, মধুপুর বন ও রাবার বাগান এলাকায় শত শত একর জমি প্রভাবশালীরা জবরদখল করে রাখলেও তাদের বিরুদ্ধে বশিউক কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না। অথচ একজন ভূমিহীন দরিদ্র আদিবাসীর ওপর এই অভিযান চালানোকে ‘স্বেচ্ছাচারিতা’ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল।এছাড়া আশির দশকে গজারী বন কেটে তৈরি করা এই রাবার বাগান বর্তমানে অনেকাংশে অলাভজনক হয়ে পড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ফলে অনেক স্থানে অবৈধভাবে কলা ও আনারস চাষ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।মানবাধিকার কর্মীদের মতে, কোনো ধরনের আইনি নোটিশ ছাড়াই এভাবে উচ্ছেদ অভিযান চালানো মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। এ ঘটনায় মধুপুরের আদিবাসী জনপদে নতুন করে আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

