Dhaka Edge

জুন ২৯, ২০২৬

image_pdfimage_print

অনলাইনে প্রেম থেকে বিয়ে, ৫০ লাখ টাকা দাবিতে নওগাঁর যুবককে মারধরের অভিযোগ

মেহেদী হাসান অন্তর, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: অনলাইনে পরিচয় থেকে প্রেম, পরে বিয়ে। সেই দাম্পত্য সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এবার ৫০ লাখ টাকা দাবি, মারধর, জোরপূর্বক ব্যাকডেটের কাবিননামায় স্বাক্ষর এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে ভোলার একটি পরিবারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার এক যুবক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।অভিযোগকারী মো. মুমিন হোসেন, নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের মালঞ্চা গ্রামের বাসিন্দা। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালে ফেসবুকের মাধ্যমে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার এক তরুণীর সঙ্গে তার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে ওই তরুণী তার বাড়িতে এলে ৫০ হাজার টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে হয়। বর্তমানে তাদের ১৫ মাস বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।লিখিত অভিযোগে তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে স্ত্রী ও সন্তানকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যায়। গত ১৮ জুন স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে ভোলার বোরহানউদ্দিনে শ্বশুরবাড়িতে গেলে তাদের আটকে রেখে মারধর করা হয়।তার দাবি, পরদিন দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ১৫ লাখ টাকার ব্যাকডেটের কাবিননামায় স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং ৫ লাখ টাকা পরিশোধ দেখানো হয়। একই সঙ্গে ৫০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে হত্যার হুমকি দিয়ে তাদের সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।অভিযোগে আরও বলা হয়, মারধরের ঘটনায় তার এক আত্মীয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া মোবাইল ফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে, যার কল রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে বলে দাবি করেন অভিযোগকারী।এ ঘটনায় স্ত্রী, শ্বশুর, শাশুড়িসহ পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনলাইনে প্রেম থেকে বিয়ে, ৫০ লাখ টাকা দাবিতে নওগাঁর যুবককে মারধরের অভিযোগ Read More »

অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে পিছিয়ে রেখে মানবিক রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়: ডিসি জাহিদ

মোঃ হাসানুর জামান বাবু, চট্টগ্রাম। সমাজের কোনো জনগোষ্ঠীকে পিছিয়ে রেখে একটি মানবিক ও উন্নত রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, মানুষ কোথায় জন্ম নেবে, তা তার নিয়ন্ত্রণে নয়; তবে পরিশ্রম, দক্ষতা ও বড় স্বপ্নের মাধ্যমে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব। সরকারের দেওয়া আর্থিক সহায়তা ভোগে নয়, উৎপাদনমুখী কাজে ব্যবহার করতে হবে, কারণ এ অর্থ জনগণের কষ্টার্জিত করের টাকা।রোববার (২৮ জুন) চট্টগ্রাম জেলা সমাজসেবা কার্যালয় আয়োজিত ‘অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন’ শীর্ষক ১৫ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের সমাপনী, সনদ ও আর্থিক অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক।জেলা প্রশাসক বলেন, বাংলাদেশ একটি বৈচিত্র্যময় দেশ। বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষ যুগ যুগ ধরে সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করলেও অনেকেই এখনো উন্নয়নের মূলধারা থেকে পিছিয়ে রয়েছে। তাঁদের জীবনমান উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ কোনো সমাপ্তি নয়; এটি নতুন পথচলার শুরু। বিশ্ববাজারের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিয়মিত দক্ষতা বাড়াতে হবে। ‘আপনি যদি স্থির থাকেন আর পৃথিবী এগিয়ে যায়, তাহলে পৃথিবীর সঙ্গে আপনার দূরত্বই বাড়বে,’ বলেন তিনি।সময়কে জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, বড় স্বপ্ন দেখতে হবে এবং তা বাস্তবায়নে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। ড. বি. আর. আম্বেদকরের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, অধিকাংশ সফল মানুষ প্রতিকূলতাকে জয় করেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তাই ব্যর্থতার অজুহাত না খুঁজে আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।তিনি বলেন, সরকারের প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তার প্রকৃত সফলতা তখনই আসবে, যখন প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে নিজেদের জীবনমান পরিবর্তন করতে পারবেন। সরকার শুধু প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মানুষের সংখ্যা বাড়াতে নয়, তাঁদের বাস্তব উন্নয়ন নিশ্চিত করতেই গুরুত্ব দিচ্ছে।ট্রান্সজেন্ডার জনগোষ্ঠীর আবাসন ও কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, তাঁদের প্রায় ২৫০টি পরিবারের আবাসনের দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।সরকারি অনুদানের বিষয়ে তিনি বলেন, অনুষ্ঠানে প্রায় ৯২ লাখ ৬০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা বিতরণ করা হচ্ছে। এই অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা সবার নৈতিক দায়িত্ব। উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগ করা হলে ব্যক্তি যেমন উপকৃত হবেন, তেমনি সরকারের উদ্দেশ্যও সফল হবে।প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তব চাহিদাভিত্তিক হওয়া প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো এলাকায় কী ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়েই প্রশিক্ষণের বিষয় নির্ধারণ করা উচিত। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দক্ষতার ধারাবাহিক উন্নয়ন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।নৈতিক অবক্ষয়ের প্রসঙ্গ তুলে জেলা প্রশাসক বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ না ঘটলে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। সমাজে নৈতিকতা, মানবিকতা ও বিবেক জাগ্রত করতে সামাজিক সংগঠনগুলোর আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। তিনি মাদকের ভয়াবহতার কথা উল্লেখ করে বলেন, মাদক মানুষের বিবেক ও বিচারবোধ নষ্ট করে দেয়। তাই একটি মাদকমুক্ত, নৈতিক ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে সরকার ও সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।অনুষ্ঠানে ১৫ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী জেলে, হিজড়া, সন্ন্যাসী, হরিজন ও সেবক সম্প্রদায়ের ২৫ জনকে জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকার অনুদান ও সনদ দেওয়া হয়। এছাড়া ২০৫টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মধ্যে ৬৬ লাখ ৬০ হাজার টাকার অনুদান এবং প্রতিবন্ধী, দুস্থ ও মেধাবী ১৩৫ শিক্ষার্থীকে মোট ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে অনুষ্ঠানে ৯২ লাখ ৬০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা বিতরণ করা হয়।

অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে পিছিয়ে রেখে মানবিক রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়: ডিসি জাহিদ Read More »

কুমিল্লায় জগন্নাথ দেবের স্নান উৎসব পালিত: ভক্তদের ঢল, ধর্মীয় আবহে মুখরিত মন্দির প্রাঙ্গণ

তাপস চন্দ্র সরকার, কুমিল্লা থেকে।। জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমা তিথিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের স্নান উৎসব (দেবস্নান পূর্ণিমা) গভীর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসবমুখর পরিবেশ এবং বিপুল ভক্তসমাগমের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। আজ ২৯ জুন সোমবার দিনব্যাপী কুমিল্লা জগন্নাথপুরস্থিত শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের মন্দির প্রাঙ্গণে এ স্নানোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জগন্নাথ মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ পূজা, মহাস্নান, নামসংকীর্তন, ধর্মীয় আলোচনা এবং মহাপ্রসাদ বিতরণ। ভোর থেকেই মন্দিরে মন্দিরে ভক্তদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।ধর্মীয় রীতি অনুসারে, শ্রীজগন্নাথ দেব, শ্রীবলভদ্র ও দেবী সুভদ্রাকে গর্ভগৃহ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে স্নানবেদীতে আনা হয়। শঙ্খধ্বনি, ঘণ্টাধ্বনি, উলুধ্বনি ও বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে ১০৮টি পবিত্র কলসের জল দিয়ে দেববিগ্রহের মহাস্নান সম্পন্ন করা হয়। এই সময় “জয় জগন্নাথ” ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গণ।মহাস্নান শেষে দেববিগ্রহকে ঐতিহ্যবাহী হাতি বেশ বা গজবেশে সজ্জিত করা হয়, যা ভক্তদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের বিষয়। হাজারো দর্শনার্থী এই বিরল রূপ একনজর দেখার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন।সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই মহাস্নানের পর জগন্নাথ দেব, বলভদ্র ও সুভদ্রা জ্বরে আক্রান্ত হন। এরপর শুরু হয় অনসর পর্ব, যেখানে প্রায় ১৫ দিন দেববিগ্রহ জনসম্মুখে থাকেন না। এই সময় তাঁদের বিশেষ সেবা-শুশ্রূষা করা হয়। অনসর শেষে অনুষ্ঠিত হবে নবযৌবন দর্শন, আর তার পরপরই শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা।উৎসবকে ঘিরে মন্দির কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ভক্তদের নির্বিঘ্নে দর্শনের জন্য স্বেচ্ছাসেবক, চিকিৎসা সহায়তা, পানীয় জল এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়।এদিকে, দেশের বিভিন্ন জগন্নাথ মন্দিরেও দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় কর্মসূচি পালিত হয়। মঙ্গল আরতি, গীতাপাঠ, নামসংকীর্তন, ভজন, ধর্মীয় আলোচনা এবং মহাপ্রসাদ বিতরণে অংশ নেন অসংখ্য ভক্ত। শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও আয়োজন করা হয়।ধর্মীয় নেতারা বলেন, জগন্নাথ দেবের স্নান উৎসব শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়, এটি মানবকল্যাণ, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব ও শান্তির বার্তা বহন করে। এই উৎসব মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সহমর্মিতা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধকে আরও সুদৃঢ় করে।স্নান উৎসবের মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় রথযাত্রার প্রস্তুতি। এখন ভক্তদের অপেক্ষা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা, যেখানে মহাপ্রভু জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রা সুসজ্জিত রথে আরোহন করে নগর পরিক্রমায় বের হবেন।

কুমিল্লায় জগন্নাথ দেবের স্নান উৎসব পালিত: ভক্তদের ঢল, ধর্মীয় আবহে মুখরিত মন্দির প্রাঙ্গণ Read More »