Dhaka Edge

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা

image_pdfimage_print

কুমিল্লায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা
কুমিল্লা প্রতিনিধি :
“হিন্দু না ওরা মুসলিম? ওই জিজ্ঞাসে কোনজন?
কাণ্ডারী! বল, ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মার!”
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মানবতা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার এই অমর বাণীকে সামনে রেখে কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত হয়েছে তাঁর ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন ২০২৬) সন্ধ্যায় কুমিল্লা কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, কুমিল্লা শাখার আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, কুমিল্লা শাখার সভাপতি মো. আব্দুল মালেক। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্য কাকন দাশ।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, কুমিল্লা শাখার শিল্পীবৃন্দের পরিবেশনায় সম্মিলিত সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। পরে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সদস্য অধ্যক্ষ নিখিল চন্দ্র রায়। তিনি তাঁর বক্তব্যে জাতীয় কবির জীবন, কর্ম ও অসাম্প্রদায়িক দর্শনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
আলোচনা পর্বে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট লেখক ও নজরুল গবেষক পীযুষ কুমার ভট্টাচার্য্য, জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, কুমিল্লা শাখার সহ-সভাপতি মো. কামরুজ্জামান, কবি ও প্রাবন্ধিক আহমেদ কবির প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন বিদ্রোহ, সাম্য, মানবতা ও সম্প্রীতির কবি। তাঁর সাহিত্য ও সংগীত আজও বাঙালির প্রেরণার উৎস। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের কল্যাণ, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় নজরুলের দর্শন বর্তমান সময়েও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তাঁরা নতুন প্রজন্মের মাঝে নজরুলচর্চা আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে জাতীয় কবির কবিতা আবৃত্তি করেন রুবেল কুদ্দুস। তাঁর আবৃত্তি উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করে এবং অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
আলোচনা সভার পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে দলীয় সঙ্গীত, একক সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে জাতীয় কবির সৃষ্টিকর্ম ও চেতনাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয়। শিল্পীদের পরিবেশনায় কবি নজরুলের বিদ্রোহী, প্রেম, সাম্য ও মানবতার বাণী নতুনভাবে ধ্বনিত হয়।
অনুষ্ঠানে কুমিল্লার সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সাংস্কৃতিক কর্মী, শিক্ষাবিদ, কবি, শিল্পী এবং বিপুলসংখ্যক সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা, আবৃত্তি, সংগীত ও নৃত্যের সমন্বয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি তাঁর মানবতাবাদী ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার এক তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *