Dhaka Edge

করিমগঞ্জে মোবাইলের জন্য বন্ধুর হাতে বন্ধু খুন

image_pdfimage_print

ফরহাদ হোসেন রাজ কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিবনিধি

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের সাতারপুর গ্রামে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক কিশোরের হাতে আরেক কিশোর নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নিহত ও অভিযুক্ত দুজনই সম্পর্কে খালাতো ভাই এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন।সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার সীমান্ত (১৫), পিতা মাহাবুব আলম, তার বন্ধু ও খালাতো ভাই অপু (১৪), পিতা বাবুল মিয়া, উভয়েই সাতারপুর গ্রামের বাসিন্দা, তার মোবাইল ফোন চুরি করেছে বলে অভিযোগ করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। তবে কোনো উপযুক্ত প্রমাণ না পাওয়ায় সালিশে অপুকে নির্দোষ ঘোষণা করা হয়।এরপরও বিষয়টি নিয়ে দুজনের মধ্যে গত তিন দিন ধরে কথাকাটাকাটি চলতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে সাতারপুর বাজারের ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় সীমান্ত অপুকে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে আবারও মোবাইল ফোনের বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, একপর্যায়ে সীমান্ত তার কোমর থেকে একটি ধারালো ছুরি বের করে অপুকে লক্ষ্য করে আঘাত করে। ছুরির আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে অপু ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।পরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।ঘটনার পর বিকেল আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিটে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সীমান্তকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। পরে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।নিহতের মামা সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, “আমার ভাগিনা খুব ভালো ছেলে ছিল। এই ঘটনা মেনে নেওয়া খুব কঠিন। তবে অপরাধী যেই হোক, আইনের মাধ্যমে তার বিচার হওয়া উচিত।”এদিকে নিহতের পরিবারের সদস্যরা কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে অবস্থান করছেন। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং এ নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *