Dhaka Edge

কুমিল্লা সুপ্রভাত ধর্মসাগর মঞ্চ আজ পরিণত হয়েছে এক অনন্য সাংস্কৃতিক ও সামাজিক মিলনমেলায়

image_pdfimage_print

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী ধর্মসাগর ও শিশু পার্ককে ঘিরে গড়ে ওঠা “সুপ্রভাত ধর্মসাগর মঞ্চ” আজ শুধু একটি সকালের সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়, বরং এটি পরিণত হয়েছে এক অনন্য সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক মিলনমেলায়। প্রতিদিন ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে এখানে জড়ো হন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। শিক্ষক, অধ্যাপক, চিকিৎসক, আইনজীবী, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীসহ নানা বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো ধর্মসাগর এলাকা।ভোরের নির্মল পরিবেশে হাঁটা, শরীরচর্চা, সৌহার্দ্যপূর্ণ আড্ডা এবং সাংস্কৃতিক চর্চার মধ্য দিয়ে অংশগ্রহণকারীরা শুরু করেন তাদের দিনের যাত্রা। ধর্মসাগরের শান্ত জলরাশি, পাখির কলকাকলি ও সকালের স্নিগ্ধ আবহে প্রতিদিনই সৃষ্টি হয় এক প্রাণবন্ত ও মনোমুগ্ধকর পরিবেশ।সুপ্রভাত ধর্মসাগর মঞ্চের অন্যতম আকর্ষণ সংগীত পরিবেশনা। অধ্যক্ষ তাপস বক্সীর সুরেলা কণ্ঠে পরিবেশিত গান উপস্থিত দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। তাঁর সংগীত পরিবেশনা সকালের আবহকে আরও হৃদয়গ্রাহী ও প্রশান্তিময় করে তোলে। ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি ও মানসিক চাপ ভুলে অনেকেই কিছু সময়ের জন্য হারিয়ে যান সুরের মায়াবী জগতে।অন্যদিকে, লোকজ সংস্কৃতির আবহ সৃষ্টি করেন অ্যাডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার। তাঁর একতারা ও ঢোলের ছন্দে প্রাণ ফিরে পায় বাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকসংস্কৃতি। লোকসংগীতের সুরে উপস্থিত মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এক ভিন্নরকম আবেগ, ভালোবাসা ও শেকড়ের টান। অনেকেই এই পরিবেশনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা সংস্কৃতি পরিচিত করার একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।তবে শুধু সংস্কৃতি ও শরীরচর্চাই নয়, ভোরের এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নানা সামাজিক ও স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডও। কেউ হাঁটা ও শরীরচর্চা শেষে ধর্মসাগরের পাড়ে বসে প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করতে করতে বাদাম খাচ্ছেন, কেউ আবার স্বাস্থ্যসচেতনতার অংশ হিসেবে রক্তে শর্করার মাত্রা ও রক্তচাপ পরীক্ষা করছেন। নিয়মিত হাঁটার পর নিজেদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিক ধারণা নিতে অনেকেই এই সুযোগকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।এছাড়া প্রতিদিন বিক্রির জন্য ধর্মসাগরের তাজা মাছও অনেকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সকালের হাঁটা শেষে অনেকেই পরিবারের জন্য পছন্দের মাছ কিনে বাড়ি ফিরছেন। ফলে স্বাস্থ্যচর্চা, সামাজিক যোগাযোগ, সাংস্কৃতিক পরিবেশ এবং দৈনন্দিন প্রয়োজন সবকিছুর এক সুন্দর সমন্বয় ঘটেছে এই ভোরের মিলনমেলায়।আয়োজক ও নিয়মিত অংশগ্রহণকারীদের মতে, “সুপ্রভাত ধর্মসাগর মঞ্চ” কেবল বিনোদনের স্থান নয়; এটি একটি সামাজিক বন্ধনের কেন্দ্র। এখানে মানুষ পরস্পরের সঙ্গে পরিচিত হন, মতবিনিময় করেন এবং সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চার সুযোগ পান। নিয়মিত শরীরচর্চা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সম্প্রীতির মাধ্যমে একটি সুস্থ, সচেতন ও মানবিক সমাজ গঠনের প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে এই মঞ্চ।এদিকে, প্রতিদিনের আয়োজনের বিভিন্ন মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর সুমন চন্দ্র দেব। তাঁর ধারণকৃত ভিডিও ও স্থিরচিত্রের মাধ্যমে ধর্মসাগরের এই ব্যতিক্রমী সকালের আয়োজন দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ভিডিও ব্যাপক সাড়া ফেলছে এবং অনেকের প্রশংসা কুড়াচ্ছে।স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বর্তমান সময়ের যান্ত্রিক ও ব্যস্ত জীবনে এমন উদ্যোগ মানুষের মানসিক প্রশান্তি, সুস্থ জীবনযাপন এবং সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তারা মনে করেন, কুমিল্লার এই উদ্যোগ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের জন্যও অনুকরণীয় হতে পারে।সুর, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্যচর্চা, সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা “সুপ্রভাত ধর্মসাগর মঞ্চ” আজ কুমিল্লাবাসীর কাছে একটি প্রাণের ঠিকানায় পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনের এই প্রাণবন্ত আয়োজন কেবল একটি সকালের মিলনমেলা নয়, বরং এটি একটি সুন্দর, সুস্থ ও মানবিক সমাজ গঠনের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *