Dhaka Edge

ধর্মসাগর পাড়ে সুপ্রভাত মঞ্চের সুরেলা সকালসংগীত, সৌহার্দ্য ও সম্মিলিত নাস্তার আয়োজনে মুখরিত সংস্কৃতিপ্রেমীরা

image_pdfimage_print

তাপস চন্দ্র সরকার, কুমিল্লা।।

ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র কুমিল্লা নগরীর ধর্মসাগর পাড়। প্রতিদিনের মতো শুক্রবার (৩১ জুলাই ২০২৬) সকালেও এ স্থানটি প্রাণ ফিরে পায় সংগীতের সুরে। সুপ্রভাত মঞ্চের নিয়মিত আয়োজন সংগীত পরিবেশনাকে ঘিরে ভোর থেকেই জড়ো হন সংগঠনের সদস্য, সংস্কৃতিপ্রেমী ও শুভানুধ্যায়ীরা। নির্মল সকালের আবহ, ধর্মসাগরের শান্ত পরিবেশ এবং সুরের মূর্ছনায় পুরো এলাকা পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়।জানা গেছে, সুপ্রভাত মঞ্চের নিয়মিত এ আয়োজনের সার্বিক সমন্বয় করেন সংগঠনের মুখপাত্র। সমাজে সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা, পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি এবং মানুষের মধ্যে ইতিবাচক মূল্যবোধ জাগ্রত করার লক্ষ্য নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে প্রতি শুক্রবার সকালে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। সংগীতপ্রেমীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রতিটি আয়োজনই হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও আনন্দঘন।শুক্রবারের এ আয়োজনে পরিবেশিত হয় দেশাত্মবোধক, আধুনিক, লোকজ এবং জনপ্রিয় বাংলা গানের সমাহার। শিল্পীদের পরিবেশনায় উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা মুগ্ধ হয়ে গান উপভোগ করেন। কেউ কেউ গানের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলেন। সংগীতের পাশাপাশি চলে শুভেচ্ছা বিনিময়, কুশলাদি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিষয় নিয়ে মতবিনিময়।অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীরা কুমিল্লা নগরীর ধর্মসাগর পাড়ে অবস্থিত হামসাফার রেস্টুরেন্টে একত্রে সকালের নাস্তায় মিলিত হন। আন্তরিক ও পারিবারিক পরিবেশে পরিবেশিত নাস্তার মেন্যুতে ছিল পরোটা, নানরুটি, মুগ ও ছনার ডাল ভাজি, সবজি, ডিম ভাজি এবং ধোঁয়া ওঠা গরম চা। একসঙ্গে বসে নাস্তা করার মধ্য দিয়ে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আন্তরিকতা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়।এ আয়োজনে সুপ্রভাত মঞ্চের কর্ণধার অধ্যক্ষ তাপস কুমার বকসীসহ সংগঠনের ১৩ জন সদস্য অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘কুমিল্লা কাফেলা’র মো. জাহাঙ্গীর আলম হাজারীর নেতৃত্বে আরও চারজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন বয়স ও পেশার মানুষের অংশগ্রহণ পুরো আয়োজনকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তোলে।অংশগ্রহণকারীরা বলেন, বর্তমান ব্যস্ত ও যান্ত্রিক জীবনে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও আন্তরিকতা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এমন বাস্তবতায় নিয়মিত সাংস্কৃতিক আয়োজন শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, মানবিকতা এবং সামাজিক বন্ধন জোরদারের একটি কার্যকর উদ্যোগ। সংগীত মানুষকে মানসিক প্রশান্তি দেয়, আর সম্মিলিত আয়োজন পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে।তারা আরও বলেন, ধর্মসাগর পাড়ে প্রতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিত এ আয়োজন ইতোমধ্যে সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের কাছে একটি পরিচিত মিলনস্থলে পরিণত হয়েছে। নতুন সদস্যদের অংশগ্রহণও ক্রমেই বাড়ছে। ফলে সুস্থ সংস্কৃতি বিকাশে এ ধরনের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হওয়া প্রয়োজন।আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সুপ্রভাত মঞ্চের লক্ষ্য কেবল সংগীত পরিবেশন নয়; বরং সুস্থ সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে সমাজের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে দেওয়া। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে দেশীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করা, সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি এবং মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে নিয়মিতভাবে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখা হবে।সংস্কৃতিবিদদের মতে, নগরজীবনের ব্যস্ততা ও প্রযুক্তিনির্ভর জীবনের কারণে মানুষ ক্রমেই সামাজিক যোগাযোগ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে উন্মুক্ত পরিবেশে সংগীত, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড মানুষের মানসিক বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে এটি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সৌহার্দ্য ও সামাজিক ঐক্যকে আরও সুসংহত করে।সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ধর্মসাগর পাড়ে সুপ্রভাত মঞ্চের এ নিয়মিত আয়োজন ভবিষ্যতে আরও ব্যাপক পরিসরে বিস্তৃত হবে এবং কুমিল্লার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে। সংগীত, সৌহার্দ্য ও সম্মিলিত অংশগ্রহণের এ উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সংস্কৃতিচর্চার ধারাকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *